সরকারি চাল যুবদলের খেলার মাঠে নিয়ে বিতরণ, সচিব বললেন ‌‘তারাও তো গরিব’

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে দুস্থদের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিএফ কর্মসূচির চাল যুবদলের খেলার মাঠে নিয়ে বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৪ মে) ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় কয়েকটি ভ্যানে ৮-১০ বস্তা করে চাল যুবদলের খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ বস্তা চাল সুকৌশলে আত্মসাত করা হয়েছে। এসময় ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন দহগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব রাজু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুর ইসলাম এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ওই ইউনিয়নের আওয়ামীপন্থি চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন। ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যানও প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। এই পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয় পাটগ্রাম উপজেলা শিক্ষা অফিসার হামিদ সরকারকে। তবে অবাক করার বিষয় হলো, যেদিন ১৪০০ মানুষকে চাল বিতরণ করা হয়, সেদিন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, প্রশাসক কিংবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ইউপি সদস্যরা নিজেদের ইচ্ছামতো চাল বিতরণ করেন। অনিয়মের কথা ফোনে অকপটে স্বীকার করেন দহগ্রাম ইউনিয়

সরকারি চাল যুবদলের খেলার মাঠে নিয়ে বিতরণ, সচিব বললেন ‌‘তারাও তো গরিব’

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে দুস্থদের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিএফ কর্মসূচির চাল যুবদলের খেলার মাঠে নিয়ে বিতরণের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২৪ মে) ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় কয়েকটি ভ্যানে ৮-১০ বস্তা করে চাল যুবদলের খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ বস্তা চাল সুকৌশলে আত্মসাত করা হয়েছে।

এসময় ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন দহগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব রাজু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুর ইসলাম এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ওই ইউনিয়নের আওয়ামীপন্থি চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন। ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যানও প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। এই পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয় পাটগ্রাম উপজেলা শিক্ষা অফিসার হামিদ সরকারকে। তবে অবাক করার বিষয় হলো, যেদিন ১৪০০ মানুষকে চাল বিতরণ করা হয়, সেদিন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, প্রশাসক কিংবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ইউপি সদস্যরা নিজেদের ইচ্ছামতো চাল বিতরণ করেন।

অনিয়মের কথা ফোনে অকপটে স্বীকার করেন দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মইনুল। তিনি বলেন, ‌‘আমরা তো দল করি, আমাদের দলের দায়িত্বশীলরা সেখানে ছিলেন। চেয়ারম্যান যেহেতু আওয়ামী লীগ করেন, তিনি পলাতক। আর প্রশাসকও সেদিন আসেননি। যুবদলের নামে সরাসরি চাল দেওয়া হয়নি। তারা আমাদের কাছে ভোটার আইডি কার্ড দিয়েছিলেন। আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ডের তালিকায় তাদের নামগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম। সেখান থেকেই তারা চাল পেয়েছেন।’

সরকারি চাল যুবদলের খেলার মাঠে নিয়ে বিতরণ, সচিব বললেন ‌‘তারাও তো গরিব’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে দহগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব রাজুকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রবীন্দ্রনাথ বর্মন এই কাজের সাফাই গেয়ে বলেন, ‘যুবদলের লোকজন আইডি কার্ড জমা দিয়েছে, তাই আমরা তাদের চাল দিয়েছি। তারাও তো গরিব-দুঃখী মানুষ।’

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থাকা প্রশাসক ও পাটগ্রাম উপজেলা শিক্ষা অফিসার হামিদুল সরকারকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলেন, আমি যেহেতু আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম, তাই ওই ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট প্রশাসককে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জেনে আপডেট জানাবো। পরে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কী বেরিয়ে আসে তার ওপর ভিত্তি করে আমরা কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবো।’

মহসীন ইসলাম শাওন/এসআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow