সরকারের ভেতর ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ কী, বাংলাদেশে কেন আলোচনায়?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে সম্প্রতি একটি শব্দ বেশ জোরেশোরে আলোচনায় এসেছে—‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা রান্নাঘরের মন্ত্রিসভা। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টার বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই শব্দযুগল নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মূলত সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় একটি অনানুষ্ঠানিক গোষ্ঠীর অতিরিক্ত প্রভাব খাটানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই আলোচনার সূত্রপাত। কিচেন ক্যাবিনেট কী? রাজনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ হলো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, বিশ্বস্ত ও অনানুষ্ঠানিক একদল উপদেষ্টার বলয়। সরকারের আনুষ্ঠানিক বা সাংবিধানিক মন্ত্রিসভার বাইরে থাকা এই ক্ষুদ্র গোষ্ঠীটি পর্দার আড়ালে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নির্ধারণ করে থাকে। এই বলয়ে সাধারণত সরকারপ্রধানের পরিবারের সদস্য, ব্যক্তিগত বন্ধু, দলের কট্টর অনুগত ব্যক্তি বা কোনো নির্দিষ্ট খাতের প্রভাবশালী বিশেষজ্ঞরা থাকেন, যারা জনগণের কাছে সরাসরি জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। শব্দটির উৎপত্তি ঊনবিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে সম্প্রতি একটি শব্দ বেশ জোরেশোরে আলোচনায় এসেছে—‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা রান্নাঘরের মন্ত্রিসভা। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টার বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই শব্দযুগল নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মূলত সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় একটি অনানুষ্ঠানিক গোষ্ঠীর অতিরিক্ত প্রভাব খাটানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই আলোচনার সূত্রপাত।
কিচেন ক্যাবিনেট কী?
রাজনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ হলো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, বিশ্বস্ত ও অনানুষ্ঠানিক একদল উপদেষ্টার বলয়। সরকারের আনুষ্ঠানিক বা সাংবিধানিক মন্ত্রিসভার বাইরে থাকা এই ক্ষুদ্র গোষ্ঠীটি পর্দার আড়ালে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নির্ধারণ করে থাকে। এই বলয়ে সাধারণত সরকারপ্রধানের পরিবারের সদস্য, ব্যক্তিগত বন্ধু, দলের কট্টর অনুগত ব্যক্তি বা কোনো নির্দিষ্ট খাতের প্রভাবশালী বিশেষজ্ঞরা থাকেন, যারা জনগণের কাছে সরাসরি জবাবদিহি করতে বাধ্য নন।
শব্দটির উৎপত্তি ঊনবিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৮৩০-এর দশকে সপ্তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসন তার আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভার চেয়ে ব্যক্তিগত কিছু বন্ধু ও সাংবাদিকদের পরামর্শকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। সমালোচকেরা ব্যঙ্গ করে বলতেন, এই ব্যক্তিরা হোয়াইট হাউজের মূল দরজা ব্যবহার না করে পেছনের দরজা বা রান্নাঘরের পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। সেই থেকেই রাজনীতিতে এই ছায়া নীতিনির্ধারক গোষ্ঠীকে বোঝাতে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ শব্দটির ব্যবহার শুরু হয়।
বাংলাদেশে হঠাৎ কেন আলোচনা?
বাংলাদেশে এই বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের একটি বিশেষ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের পর। তিনি দাবি করেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনায় নীতিগত ও কৌশলগত বড় সিদ্ধান্তগুলো সুনির্দিষ্ট একটি ‘সাত সদস্যের অনানুষ্ঠানিক প্রভাবশালী চক্র’ বা কিচেন ক্যাবিনেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো।
আরও পড়ুন>>
‘কিচেন ক্যাবিনেট’ ছিল, কিন্তু আমি সদস্য ছিলাম না: আসিফ মাহমুদ
সাবেক এই শীর্ষ কূটনীতিক অভিযোগ করেন, এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীটি প্রতি মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় নিয়মিত গোপন বৈঠকে বসত এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা ঠিক করত। তৌহিদ হোসেন আরও জানান, এই চক্রের সদস্যদের অভিজ্ঞতা কম থাকলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের মতামতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হতো। নিজের মন্ত্রণালয়ে অন্য উপদেষ্টাদের এমন অযাচিত হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তারের কারণে তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তবে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে শেষ পর্যন্ত তা করতে পারেননি।
তৌহিদ হোসেনের পাশাপাশি সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও অন্তর্বর্তী সরকারে একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ সক্রিয় থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে নিজে ওই ‘কিচেন কেবিনেটের’ সদস্য ছিলেন না বলে দাবি করেছেন তিনি। আসিফ মাহমুদ প্রথমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করলেও পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পান এবং পরবর্তীতে সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন।
এর আগে সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের কথায়ও এমন অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বলয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।
কেএএ/
What's Your Reaction?