সর্বোচ্চ পর্যায়ে তাপমাত্রা, অথচ খবর কমে যাচ্ছে

পৃথিবীর তাপমাত্রা গত ১ লাখ ২৫ হাজার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও, গণমাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে খবর কমে যাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বাউল্ডারস মিডিয়া অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ অবজারভেটরির গবেষণা অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর থেকে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সংবাদ কাভারেজ প্রায় ৩৮ শতাংশ কমেছে। গবেষকরা বলছেন, যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অন্যান্য বড় খবর এই বিষয়টিকে আড়ালে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কার রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কভিড-১৯ মহামারির পর থেকেই এই পরিবর্তন শুরু হয়। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট সংবাদমাধ্যমের ফোকাস দখল করে নিয়েছে। স্বাস্থ্য সংকট, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বেশি গুরুত্ব পায়। এরপর সেই ধারা এখনো বজায় রয়েছে। গবেষক অ্যান্থনি লেইজারোভিটজ বলেন, সাধারণ মানুষ সরাসরি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পড়ে না। তারা মূলত মিডিয়ার মাধ্যমেই জলবায়ু সম্পর্কে জানতে পারে। তাই মিডিয়ায় কাভারেজ কমে গেলে মানুষের আগ্রহ ও সচেতনতা দুটোই কমে যায়। আরেক বিশেষজ্ঞ মার্ক হার্টসগার্ড বলেন, সংবাদমাধ্যম আসলে সমাজে কোন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তা নির্ধারণে বড় ভূমিক

সর্বোচ্চ পর্যায়ে তাপমাত্রা, অথচ খবর কমে যাচ্ছে
পৃথিবীর তাপমাত্রা গত ১ লাখ ২৫ হাজার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও, গণমাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে খবর কমে যাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বাউল্ডারস মিডিয়া অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ অবজারভেটরির গবেষণা অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর থেকে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সংবাদ কাভারেজ প্রায় ৩৮ শতাংশ কমেছে। গবেষকরা বলছেন, যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অন্যান্য বড় খবর এই বিষয়টিকে আড়ালে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কার রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কভিড-১৯ মহামারির পর থেকেই এই পরিবর্তন শুরু হয়। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট সংবাদমাধ্যমের ফোকাস দখল করে নিয়েছে। স্বাস্থ্য সংকট, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বেশি গুরুত্ব পায়। এরপর সেই ধারা এখনো বজায় রয়েছে। গবেষক অ্যান্থনি লেইজারোভিটজ বলেন, সাধারণ মানুষ সরাসরি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পড়ে না। তারা মূলত মিডিয়ার মাধ্যমেই জলবায়ু সম্পর্কে জানতে পারে। তাই মিডিয়ায় কাভারেজ কমে গেলে মানুষের আগ্রহ ও সচেতনতা দুটোই কমে যায়। আরেক বিশেষজ্ঞ মার্ক হার্টসগার্ড বলেন, সংবাদমাধ্যম আসলে সমাজে কোন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে যখন জলবায়ু নিয়ে কম আলোচনা হয়, তখন অনেকেই মনে করতে পারে সমস্যা হয়তো আর ততটা জরুরি নয়। গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বড় সংবাদমাধ্যমগুলোতেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যেমন দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে ২০২১ সালের তুলনায় জলবায়ু বিষয়ক প্রতিবেদনের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। একই ধরনের পতন দেখা গেছে অন্যান্য বড় পত্রিকাতেও। বিশেষজ্ঞরা আরও একটি বিষয় উল্লেখ করেছেন, সেটি হলো ক্লাইমেট ফ্যাটিগ বা জলবায়ু ক্লান্তি। দীর্ঘদিন ধরে একই সংকট নিয়ে খবর শুনতে শুনতে অনেক মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ফলে সংবাদমাধ্যমও ধরে নিচ্ছে এই বিষয়ে পাঠকের আগ্রহ কমে গেছে। এদিকে রাজনৈতিক চাপও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে সরকার বা করপোরেট প্রভাবের কারণে জলবায়ু বিষয়ক আলোচনা ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় পরিবেশ বিষয়ক নীতিমালা ও গবেষণায় কাটছাঁটের প্রভাবও সংবাদ কাভারেজে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সংবাদমাধ্যমে আলোচনা কমে গেলেও বাস্তব পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়নি। বরং জলবায়ু সংকট আরও ভয়াবহ হচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বাড়ছে। তাদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষ যত বেশি জানবে, তত বেশি সচেতন হবে এবং নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ তৈরি হবে।  তথ্যসূত্র : গ্রিস্ট  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow