সহবাসের পর যে ৭টি কাজ অবশ্যই করা উচিত
শারীরিক মিলনের আগে পরিবেশ তৈরি করা বা পার্টনারের সঙ্গে সঠিক যোগাযোগের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা অনেকেই সচেতন। কিন্তু মিলনের পরবর্তী সময়টুকুও আপনার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন গণমাধ্যম ‘হাফপোস্ট লাইফ’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সহবাসের ঠিক পরেই কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তা কেবল আপনার স্বাস্থ্যই ভালো রাখবে না, বরং সঙ্গীর সাথে আপনার আত্মিক বন্ধনকেও আরও গভীর করে তুলবে। বাংলাদেশে বেশিভাগ মানুষই মিলনের পর ঘুমিয়ে পড়া বা চুপচাপ শুয়ে থাকাকে পছন্দ করেন, তবে বিশেষজ্ঞরা শারীরিক সুস্থতা এবং দীর্ঘস্থায়ী অন্তরঙ্গতা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট কিছু কাজের পরামর্শ দিয়েছেন। নিচে কালবেলার পাঠকদের জন্য সহবাসের পর পালনীয় ৭টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ তুলে ধরা হলো: ১. প্রস্রাব করা ও পরিচ্ছন্নতা: ক্লিনিকাল সেক্সোলজিস্ট সানি রজার্সের মতে, সহবাসের পর প্রস্রাব করা অত্যন্ত জরুরি। এটি মূত্রনালী থেকে ক্ষতিকারক ব্যাকটিরিয়া বা টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এটি ইউটিআই বা মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিক
শারীরিক মিলনের আগে পরিবেশ তৈরি করা বা পার্টনারের সঙ্গে সঠিক যোগাযোগের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা অনেকেই সচেতন। কিন্তু মিলনের পরবর্তী সময়টুকুও আপনার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন গণমাধ্যম ‘হাফপোস্ট লাইফ’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সহবাসের ঠিক পরেই কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তা কেবল আপনার স্বাস্থ্যই ভালো রাখবে না, বরং সঙ্গীর সাথে আপনার আত্মিক বন্ধনকেও আরও গভীর করে তুলবে।
বাংলাদেশে বেশিভাগ মানুষই মিলনের পর ঘুমিয়ে পড়া বা চুপচাপ শুয়ে থাকাকে পছন্দ করেন, তবে বিশেষজ্ঞরা শারীরিক সুস্থতা এবং দীর্ঘস্থায়ী অন্তরঙ্গতা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট কিছু কাজের পরামর্শ দিয়েছেন।
নিচে কালবেলার পাঠকদের জন্য সহবাসের পর পালনীয় ৭টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ তুলে ধরা হলো:
১. প্রস্রাব করা ও পরিচ্ছন্নতা: ক্লিনিকাল সেক্সোলজিস্ট সানি রজার্সের মতে, সহবাসের পর প্রস্রাব করা অত্যন্ত জরুরি। এটি মূত্রনালী থেকে ক্ষতিকারক ব্যাকটিরিয়া বা টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এটি ইউটিআই বা মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এরপর হালকা গরম পানি এবং সুগন্ধিহীন মাইল্ড সাবান দিয়ে শরীর পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো।
২. সুতির ও আরামদায়ক অন্তর্বাস ব্যবহার: পরিচ্ছন্নতার পর সঠিক অন্তর্বাস নির্বাচন করা জরুরি। রজার্স পরামর্শ দিয়েছেন সুতির অন্তর্বাস পরার জন্য, কারণ এটি প্রাকৃতিকভাবে বাতাস চলাচলে সাহায্য করে। সুতি ফেব্রিক হাইপোঅ্যালার্জেনিক এবং আর্দ্রতা শোষণ করে নেয়, যা মিলনের পর স্পর্শকাতর অঙ্গে কোনো ধরনের অস্বস্তি বা সংক্রমণ হতে দেয় না।
৩. আলিঙ্গন ও কথা বলা (পিলো টক): শারীরিক মিলনের সময় শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ নামক এক প্রকার হরমোন নিঃসৃত হয়, যাকে ‘লাভ হরমোন’ বলা হয়। সাইকোথেরাপিস্ট চ্যামিন আজান জানান, এই হরমোন পার্টনারের প্রতি একাত্মতা এবং ভালোবাসার অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়। তাই এই সময়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে গল্প করা বা নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বপ্ন নিয়ে কথা বলা সম্পর্কের গভীরতা বাড়িয়ে তোলে।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান করা: শারীরিক মিলনের ফলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে এবং শক্তির ক্ষয় হয়। তাই বিশেষজ্ঞরা মিলনের পর অন্তত ৮ আউন্স বা এক গ্লাস পানি পানের পরামর্শ দেন। এটি শরীরকে রিহাইড্রেট করার পাশাপাশি মূত্রনালী থেকে ব্যাকটিরিয়া বের করে দিতেও সহায়তা করে।
৫. হালকা নাস্তা গ্রহণ: মিলনের সময় ক্যালরি ক্ষয় হয় এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, যার ফলে ক্ষুধা লাগা স্বাভাবিক। এসময় পুষ্টিকর কিছু খাবার (যেমন: চিয়া সিড বা গ্রিন টি) খাওয়া যেতে পারে। এমনকি সঙ্গীকে নিয়ে একসঙ্গে রান্নাঘরে গিয়ে ওমলেটের মতো সহজ কোনো খাবার তৈরি করাও সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক হতে পারে, যা একে অপরের সাথে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে।
৬. একে অপরের প্রশংসা করা: সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে এবং ভবিষ্যতে শারীরিক অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করতে একে অপরের প্রশংসা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। থেরাপিস্ট কার্লা ইভানকোভিচ জানান, মিলনের পরপরই অক্সিটোসিনের মাত্রা বেশি থাকে, তাই সঙ্গীর কোন দিকগুলো আপনার ভালো লেগেছে তা প্রকাশ করার এটাই সেরা সময়। এতে উভয়েরই মানসিক তৃপ্তি বৃদ্ধি পায়।
৭. হাসি-আনন্দ ভাগ করা: সহবাসের পর একটি ইতিবাচক ও আনন্দময় মানসিক অবস্থা বজায় রাখা জরুরি। ইভানকোভিচ পরামর্শ দেন, মিলনের পর হাসিখুশি থাকা বা একে অপরকে মজার জোকস শোনানো সম্পর্কের একঘেয়েমি দূর করে। মিলনের পরপরই বিছানা ছেড়ে উঠে না গিয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটানো উচিত, যাতে সঙ্গী নিজেকে অবহেলিত মনে না করেন।
পরিশেষে, যৌন জীবনকে কেবল একটি শারীরিক প্রক্রিয়া হিসেবে না দেখে একে স্বাস্থ্য ও সম্পর্কের যত্ন নেওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখা উচিত। উপরের এই ছোট বিষয়গুলো মেনে চললে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি আপনার দাম্পত্য জীবনও হবে আরও সুখময় ও দীর্ঘস্থায়ী।
তথ্যসূত্র: হাফপোস্ট
What's Your Reaction?