সাকা যে হ্যাটট্রিক করছে জানতেনই না টুখেল!
ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের ১০ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ছিল নাটক, গোলবন্যা আর অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত। তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে মজার মন্তব্যটি করেন ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল। বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অবাক হয়ে তিনি বলেন, তিনি নাকি জানতেনই না যে সাকা তিনটি গোল করেছেন! তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করে ইংল্যান্ড। ম্যাচে ইংল্যান্ডের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে টুখেল হেসে বলেন, ‘সাকা যে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, সেটা নিয়ে কখনোই কোনো সন্দেহ ছিল না। কিন্তু সত্যি বলতে, আমি জানতামই না যে সে তিনটি গোল করেছে। আমি তো গুনতেই হারিয়ে ফেলেছিলাম।’ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে সাকাকে শুরুর একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেন ইংল্যান্ড কোচ, ‘সাকা অসাধারণ খেলেছে। তাকে নিয়ে আমাকে দায়িত্বশীল হতে হয়। সেমিফাইনালে তাকে বাইরে রাখা খুব কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। আমার মনে হয়েছিল, মরগান রজার্স আমাদের বিশেষ কিছু দিতে পারবে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পরে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা ছিল, কি
ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের ১০ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ছিল নাটক, গোলবন্যা আর অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত। তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে মজার মন্তব্যটি করেন ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল। বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অবাক হয়ে তিনি বলেন, তিনি নাকি জানতেনই না যে সাকা তিনটি গোল করেছেন!
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করে ইংল্যান্ড। ম্যাচে ইংল্যান্ডের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা।
কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে টুখেল হেসে বলেন, ‘সাকা যে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, সেটা নিয়ে কখনোই কোনো সন্দেহ ছিল না। কিন্তু সত্যি বলতে, আমি জানতামই না যে সে তিনটি গোল করেছে। আমি তো গুনতেই হারিয়ে ফেলেছিলাম।’
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে সাকাকে শুরুর একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেন ইংল্যান্ড কোচ, ‘সাকা অসাধারণ খেলেছে। তাকে নিয়ে আমাকে দায়িত্বশীল হতে হয়। সেমিফাইনালে তাকে বাইরে রাখা খুব কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। আমার মনে হয়েছিল, মরগান রজার্স আমাদের বিশেষ কিছু দিতে পারবে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পরে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু ম্যাচ এমন পরিস্থিতিতে চলে যায় যে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’
ম্যাচ বিশ্লেষণে টুখেল বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয়ার্ধ যেন সম্পূর্ণ আলাদা দুটি ম্যাচ ছিল, ‘প্রথমার্ধ ছিল দুর্দান্ত, দ্বিতীয়ার্ধ ছিল বেশ অস্থির। সূচিতে মাত্র এক দিনের ব্যবধান খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলেছে। তারা ভীষণ ক্লান্ত ছিল। তারপরও আমি আমার খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ প্রশংসা করব। তারা অসাধারণ ছিল।’
প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে ইংলিশরা।
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হারের পর টুখেলের বদলি এবং রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। এ নিয়ে আবারও নিজের দায় স্বীকার করেন তিনি, ‘আমি মনে করি না যে আমরা মানুষের আস্থা হারিয়েছি বা আমি ইংল্যান্ডের সমর্থকদের আস্থা হারিয়েছি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং সেগুলোর কোনোটিই প্রত্যাশামতো কাজ করেনি। এর দায় আমার। আমি ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই কষ্ট আমার সঙ্গে থাকবে। এখন নেশনস লিগে নিজেদের আবার প্রমাণ করতে হবে এবং সবার বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে।’
টুখেল যেখানে হ্যাটট্রিকের বিষয়টি খেয়ালই করেননি, সেখানে সাকা শুরু থেকেই নিশ্চিত ছিলেন যে শেষের পেনাল্টিটি তিনিই নেবেন। তিনি বলেন, ‘জুড (বেলিংহ্যাম) সাধারণত পেনাল্টি নেয় না। সে আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিল, 'যাও, তোমার হ্যাটট্রিকটা পূর্ণ করো।' আমি সবসময়ই পেনাল্টি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকি এবং জানতাম আমিই নেব।’
ম্যাচটিকে ‘পাগলাটে’ আখ্যা দিয়ে সাকা আরও বলেন, ‘ফাইনালে থাকতে না পারাটা অবশ্যই হতাশাজনক। কিন্তু আমরা জানতাম, আজ দারুণ একটি ম্যাচ খেলব। শেষ পর্যন্ত আমরা সেটা করতে পেরেছি এবং ৬০ বছরের মধ্যে ইংল্যান্ডের সেরা বিশ্বকাপ অভিযান উপহার দিয়েছি।’
ফাইনালে উঠতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে অন্তত হাসিমুখেই বিশ্বকাপ শেষ করেছে ইংল্যান্ড। আর সেই জয়ের নায়ক হয়ে রইলেন হ্যাটট্রিক করা বুকায়ো সাকা।
আরআর/আইএন
What's Your Reaction?