সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের বক্তব্য ‘বিকৃত প্রচারের’ অভিযোগ

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের একটি বক্তব্যের অংশবিশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে জেলায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।  জেলা প্রশাসকের দাবি, তার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যদিকে বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সাতক্ষীরার ওলামা মাশায়েখ পরিষদ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের একটি অংশ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে ‘সাতক্ষীরায় ধর্মান্ধতা চলে এসেছে’ এমন মন্তব্য করতে দেখা যায়। পরে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্টও দেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ক্লাব ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। এতে জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ (পলাশ) এবং সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলুসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠক উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি বারবা

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের বক্তব্য ‘বিকৃত প্রচারের’ অভিযোগ

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের একটি বক্তব্যের অংশবিশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে জেলায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

জেলা প্রশাসকের দাবি, তার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যদিকে বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সাতক্ষীরার ওলামা মাশায়েখ পরিষদ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের একটি অংশ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে ‘সাতক্ষীরায় ধর্মান্ধতা চলে এসেছে’ এমন মন্তব্য করতে দেখা যায়। পরে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্টও দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ক্লাব ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। এতে জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ (পলাশ) এবং সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলুসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি বারবার সব জায়গায় বলছি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকাতেও খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দিতে হবে। আপনারা যারা ক্রীড়ামোদী ও ক্রীড়া সংগঠক আছেন, তারা ক্রীড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কাজ করবেন। অনেকেই বলে সাতক্ষীরায় যে ধর্মান্ধতা চলে এসেছে। তাহলে সেটা আর বলবে না।’

এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। 

বিবৃতিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছু অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক। জেলা প্রশাসক ‘ধর্মান্ধ’ শব্দটি কোনো ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। বরং খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রসারের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বক্তব্যের আংশিক ও বিকৃত উপস্থাপনার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বক্তব্যকে তার প্রকৃত প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে ভিন্নভাবে প্রচার করা দায়িত্বশীলতার পরিপন্থি। জেলা বিএনপি এ ধরনের অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং সবাইকে বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানায়।

এদিকে বুধবার বিকেলে শহরের নিউমার্কেট মোড়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সাতক্ষীরা জেলা শাখার ওলামা মাশায়েখ পরিষদ।

সমাবেশে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আলেম-ওলামা, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের বক্তব্য সাতক্ষীরার ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং জেলার মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে।

জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একজন অসাম্প্রদায়িক কবি। তার স্মরণে এ বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও শিল্পকলা একাডেমিকে সঙ্গে নিয়ে আমরা নজরুল বর্ষের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হয়েছে। পুরো বক্তব্য দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’

এদিকে, সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাব এক বিবৃতিতে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন অপপ্রচারের’ নিন্দা জানিয়ে জেলার স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow