সাধারণ মানুষের অজানা অধ্যায়
পরিচিত একজন বাসায় এসেছেন। সাথে তার এক আত্মীয়। পরিচয় পর্ব শেষে সেই আত্মীয় বললেন, ‘তিনি এক ব্যাংক থেকে লোন নেবেন। কিন্তু ব্যাংক বলেছে, তার সিআইবিতে সমস্যা।’ একইসাথে তিনি কনফিডেন্টলি বললেন, ‘তিনি কখনো কোনো ব্যাংক থেকে লোন নেননি। তাহলে তার সিআইবিতে সমস্যা হয় কীভাবে?’ তার কাছে আমি জানতে চাইলাম, ‘আপনি কী কখনো কারো লোনের গ্যারান্টার হয়েছেন?’ এবার সেই আত্মীয় বললেন, ‘প্রতিবেশী একজন একবার একটি ব্যাংক লোন নিয়েছিল। তিনি তখন সেই লোনের গ্যারান্টার হয়েছিলেন।’ জানতে চাইলাম, ‘সেই লোন কী পরিশোধ হয়ে গেছে নাকি তার লোন ডিফল্ট হয়ে আছে?’ তিনি বললেন, ‘সেটা তো জানি না।’ এরপর আমার সামনেই তিনি সেই ঋণ গ্রহীতাকে ফোন দিলেন। জানতে চাইলেন, ‘আমি যে আপনার একটা লোনের গ্যারান্টার হয়েছিলাম, সেই লোন কী পরিশোধ করেছেন?’ কথা শেষ হওয়ার পরে সেই আত্মীয় আমাকে বললেন, ‘ওই লোকের ৮ হাজার টাকা পরিশোধ করা বাকি আছে। হাতে টাকা ছিল না বলে দিতে পারেনি। শিগগরিই দিয়ে দেব।’ আমি তাকে বললাম, ওনাকে টাকা পরিশোধ করতে বলেন। এরপর আপনার সিআইবি নিয়ে সমস্যা থাকবে না। এই ঘটনাটি আসলে খুব পরিচিত এক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। আমরা অনেক সময
পরিচিত একজন বাসায় এসেছেন। সাথে তার এক আত্মীয়। পরিচয় পর্ব শেষে সেই আত্মীয় বললেন, ‘তিনি এক ব্যাংক থেকে লোন নেবেন। কিন্তু ব্যাংক বলেছে, তার সিআইবিতে সমস্যা।’
একইসাথে তিনি কনফিডেন্টলি বললেন, ‘তিনি কখনো কোনো ব্যাংক থেকে লোন নেননি। তাহলে তার সিআইবিতে সমস্যা হয় কীভাবে?’
তার কাছে আমি জানতে চাইলাম, ‘আপনি কী কখনো কারো লোনের গ্যারান্টার হয়েছেন?’
এবার সেই আত্মীয় বললেন, ‘প্রতিবেশী একজন একবার একটি ব্যাংক লোন নিয়েছিল। তিনি তখন সেই লোনের গ্যারান্টার হয়েছিলেন।’
জানতে চাইলাম, ‘সেই লোন কী পরিশোধ হয়ে গেছে নাকি তার লোন ডিফল্ট হয়ে আছে?’
তিনি বললেন, ‘সেটা তো জানি না।’
এরপর আমার সামনেই তিনি সেই ঋণ গ্রহীতাকে ফোন দিলেন। জানতে চাইলেন, ‘আমি যে আপনার একটা লোনের গ্যারান্টার হয়েছিলাম, সেই লোন কী পরিশোধ করেছেন?’
কথা শেষ হওয়ার পরে সেই আত্মীয় আমাকে বললেন, ‘ওই লোকের ৮ হাজার টাকা পরিশোধ করা বাকি আছে। হাতে টাকা ছিল না বলে দিতে পারেনি। শিগগরিই দিয়ে দেব।’
আমি তাকে বললাম, ওনাকে টাকা পরিশোধ করতে বলেন। এরপর আপনার সিআইবি নিয়ে সমস্যা থাকবে না।
এই ঘটনাটি আসলে খুব পরিচিত এক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। আমরা অনেক সময় সামাজিকতা, প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বা আবেগের বশে গ্যারান্টার হয়ে যাই। কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্তের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায় কতটা গুরুতর হতে পারে, তা নিয়ে খুব একটা ভাবি না।
বাস্তবতা হলো, ঋণগ্রহীতা টাকা পরিশোধ না করলে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে গ্যারান্টারের সিআইবিতে। ঋণের অর্থ ছোট হোক বা বড়, খেলাপি থাকলে ব্যাংকের চোখে গ্যারান্টারও ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহক হয়ে ওঠেন। এর ফলে, নিজের প্রয়োজনের সময় ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
মনে রাখতে হবে, গ্যারান্টার হওয়া মানে শুধু একটি স্বাক্ষর নয়। এটি একটি আর্থিক দায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি। গ্যারান্টার হওয়ার আগে ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা, দায়িত্ববোধ এবং পরিশোধের ইতিহাস যাচাই করা জরুরি। আর যদি ইতোমধ্যে গ্যারান্টার হয়ে থাকেন, তাহলে নিয়মিত খোঁজ রাখা প্রয়োজন, ঋণটি ঠিকমতো পরিশোধ হচ্ছে কি না। কারণ ঋণ ঠিকমতো পরিশোধ না হলে, শুধু ঋণ গ্রহীতার সিআইবি আটকে যায় না; গ্যারান্টারেরও সিআইবি আটকে যায়।
ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সচেতনতা শুধু ঋণগ্রহীতার জন্য নয়, গ্যারান্টারের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। না হলে অন্যের আট হাজার টাকার দায় একদিন নিজের আর্থিক স্বপ্নের বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
লেখক : রিয়াজুল হক, অতিরিক্ত পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।
What's Your Reaction?