সাবমেরিন ক্যাবলে ত্রুটি, ৪ দিন ধরে অন্ধকারে ১৭ ইউনিয়ন
বরিশাল থেকে ২০০৪ সালে গজারিয়া নদীর তলদেশ হয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ আসে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায়। নদীর তলদেশের ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই এই উপজেলায়। এতে জনজীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে ১৭টি ইউনিয়নের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইলে নেটওয়ার্ক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন পুরো উপজেলাতেই একই অবস্থা বিরাজ করছে। মার্কেটে ব্যবসায়ীদের ক্রেতাশূন্য অন্ধকার দোকানে বসে থাকতে দেখা গেছে। পানির অভাবে অনেক পরিবার ও প্রতিষ্ঠানে রান্নাবান্না করতে পারেনি। ফলে খেয়ে না খেয়ে অতি কষ্টে সময় পার করতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকার মসজিদগুলোতেও অজুর পানি নেই। ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে গেছে। হাসপাতালে রোগীদের কষ্ট দ্বিগুণ বেড়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোতে সেবাগ্রহীতা সকালে এসে বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ব্যাটারিচালিত যানবাহন বন্ধ হয়ে গেছে। থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ করতে পারছেন না। বিভিন্ন পোলট্রি খামারিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ওষুধের ফার্মেসিতে ফ্রিজে রাখা ইনসুলিন এবং ইনজেকশনগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লাখো মানুষ এখন বেকায়দায়।
নির্বাচন অফিসে সেবা নিতে আসা মো. নাসির উদ্দিন খান বলেন, আমি জয়নগর ইউনিয়ন থেকে সকাল ১০টায় অফিসে এসেছি ছেলের ভোটার আইডি কার্ড করাতে। বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ না করেই ফিরে যাচ্ছি। আমাদের অনেক ভোগান্তি হচ্ছে।
মেহেন্দিগঞ্জ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত সোহাগ বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ওষুধের ফার্মেসিগুলো বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে রেবিকবিসি, টিটি বাক্স, ইনসুলিন, সাপোজিটর যেগুলো ফ্রিজে রাখা হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় এসব ইনজেকশনগুলো রোগীদের দেওয়া যাচ্ছে না। যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি দ্রুত বিদ্যুৎ সার্ভিসের ব্যবস্থা করে।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সাইদুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। কম্পিউটার, ল্যাপটপ বন্ধ ও ফটোকপি মেশিন বন্ধ রয়েছে। জরুরি সেবাও দেওয়া যাচ্ছে না। আমাদের প্রতিটা সেবাই বিদ্যুতের সঙ্গে সম্পর্ক। কখন বিদ্যুৎ পাবো তার নিশ্চয়তাও কেউ দিতে পারছে না।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম শেখ বলেন, গত মঙ্গলবার রাত ১০টার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসেনি। আমাদের সকল ধরনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের এজিএম হারুন অর রশিদ বলেন, গজারিয়া নদীতে জাহাজ নোঙর করার সময় গ্যারাপির আঘাতে নদীর তলদেশে সাবমেরিন ক্যাবল ক্ষতবিক্ষত হয়। তিনটি পেজে সমস্যা হয়েছে। আমাদের ইঞ্জিনিয়ার ও বরিশালের ডুবুরি কাজ করছেন। আমরা ঘটনার পরপরই সমস্যা সমাধানের জন্য বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছি। সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। তা ঠিক করা হচ্ছে। ঠিক হলেই দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা হবে। আশা করছি, দু-একদিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রিয়াজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, মেহেন্দিগঞ্জের বিদ্যুৎটা ৩৩ কেবি লাইনের মাধ্যমে বরিশাল থেকে মুলাদি হয়ে মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে গজারিয়া নদীর তলদেশ হয়ে মেহেন্দিগঞ্জে আসে। নদীর তলদেশের ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে বিদ্যুৎ নেই।
তিনি বলেন, আমরা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। বরিশাল জেলা প্রশাসক স্যারকে জানিয়েছি। স্যার বিষয়টি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিবকে জানিয়েছেন। তারা দ্রুত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল আনার ব্যবস্থা করছেন। আশা করি আগামী একদিনের মধ্যে বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হবে।