সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের মাটি বিক্রির অভিযোগ

ফেনীতে ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে গভীর গর্তে পরিণত করেছে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা। রাতের আঁধারে সরকারি জায়গার মাটি বিক্রি করে ফসলি জমি গভীর গর্ত করায় এলাকায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২৯ শতাংশ সরকারি জায়গার মাটি বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গভীর রাতে মাটি কেটে বিক্রি করার বিষয়টি স্থানীয়রা দেখার পর সকালে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে, সাবেক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জসিমের লোকজন এই মাটি বিক্রি করেছে। মাটিগুলো স্থানীয় সৌদিয়া ব্রিকস ফিল্ডে (ইটভাটা) বিক্রি করা হয়েছে বলেও তারা জানান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাটি বিক্রির এই ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় আনোয়ার হোসেন ফোরকান, জাফর উল্যাহ, লিটন হাজারী ও মহি উদ্দিন হোনা মিয়াসহ ১০-১৫ জনের একটি চক্র জড়িত রয়েছে। ২০০৬ সালের ৭ মে সাব-কবলা মূলে বড় ধলিয়া মৌজায় ২৯ শতাংশ জমি মাস্টার আহাম্মদ করিম থেকে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ক্রয় করা হয়। তখন চেয়ারম্যান ছিলেন জাকির হোসেন জসিম। ধলিয়া বাজার সংলগ্ন ধলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের এই জমিটি ধলিয়া ও দৌলতপুরের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদ

সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের মাটি বিক্রির অভিযোগ
ফেনীতে ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে গভীর গর্তে পরিণত করেছে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা। রাতের আঁধারে সরকারি জায়গার মাটি বিক্রি করে ফসলি জমি গভীর গর্ত করায় এলাকায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২৯ শতাংশ সরকারি জায়গার মাটি বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গভীর রাতে মাটি কেটে বিক্রি করার বিষয়টি স্থানীয়রা দেখার পর সকালে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে, সাবেক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জসিমের লোকজন এই মাটি বিক্রি করেছে। মাটিগুলো স্থানীয় সৌদিয়া ব্রিকস ফিল্ডে (ইটভাটা) বিক্রি করা হয়েছে বলেও তারা জানান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাটি বিক্রির এই ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় আনোয়ার হোসেন ফোরকান, জাফর উল্যাহ, লিটন হাজারী ও মহি উদ্দিন হোনা মিয়াসহ ১০-১৫ জনের একটি চক্র জড়িত রয়েছে। ২০০৬ সালের ৭ মে সাব-কবলা মূলে বড় ধলিয়া মৌজায় ২৯ শতাংশ জমি মাস্টার আহাম্মদ করিম থেকে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ক্রয় করা হয়। তখন চেয়ারম্যান ছিলেন জাকির হোসেন জসিম। ধলিয়া বাজার সংলগ্ন ধলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের এই জমিটি ধলিয়া ও দৌলতপুরের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের জন্য ক্রয় করেছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, গভীর রাতে মানুষ যখন ঘুমন্ত, তখন ফসলি জমির মাটি এভাবে কেটে বিক্রি করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই বিষয়ে প্রশাসনের কড়া নজরদারি দরকার। সাবেক ইউপি সদস্য বেলায়েত হোসেন বেলাল জানান, জমিতে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স করার জন্য ২০০৬ সালে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ক্রয় করা হয়েছিল। ফসলি জমি থেকে কে বা কারা গভীর রাতে ১০-১২ ফুট গভীর করে মাটি বিক্রি করে দিয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাদের শাস্তি হওয়া দরকার। ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান জানান, ইউনিয়ন পরিষদের জমি থেকে গভীর রাতে মাটি বিক্রি করা কতটুকু আইনসম্মত, সেটা আমার বোধগম্য নয়। আমার বাড়ির পাশে জায়গাটি হওয়ায় সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি জমিটি পুকুর হয়ে আছে। এর ফলে আশপাশের জমিগুলোও এখন হুমকির মুখে। বর্ষা আসলেই চারপাশের জমি ভেঙে এই গর্তে পড়ে যাবে। ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন জসিম বলেন, ‘বিগত এক বছর আমি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঘরে অবস্থান করছি। ইউনিয়ন পরিষদের জায়গা নাকি ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা থেকে কে বা কারা মাটি কেটেছে, সেটা আমার জানা নেই। তবে একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আমিনুল করিম জানান, ইউনিয়ন পরিষদের মোট ৩টি জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ৯ শতাংশ, অন্য এক জায়গায় ১১ শতাংশ এবং এই ২৯ শতাংশের একটি জায়গা রয়েছে। ওই জমিটি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। যে জমি থেকে মাটি কাটা হয়েছে, এলাকাবাসী বলছে সেটি ইউনিয়ন পরিষদের। তবে আমরা এখনো তা অফিশিয়ালি শনাক্ত করতে পারিনি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহমিদা আক্তার জানান, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা কালবেলাকে জানান, ফসলি জমির মাটি বিক্রি করা সম্পূর্ণ অপরাধ। এছাড়াও শোনা যাচ্ছে জমিটি সরকারি। সরকারি জায়গার মাটি কাটা তো আরও বড় অপরাধ। জায়গাটির মালিকানা সম্পর্কে আমরা এখনো পুরোপুরি অবগত নই। খবর পেয়ে ইউনিয়ন সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; মালিকানা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow