সাভারে আতঙ্কে সংখ্যালঘু পাড়া, উচ্ছেদের শঙ্কায় ৪২ পরিবার
সাভারের ধলেশ্বরী নদীর তীরঘেঁষা পানপাড়া মহল্লা। এক সময়ের শান্ত বসতির বাসিন্দারা এখন আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাস করা এ পাড়ার অন্তত ৪২টি হিন্দু পরিবার হঠাৎ করেই নিজেদের ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় দিন গুনছে।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালীর জমি দখলের চেষ্টায় পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে ভয়ভীতি ও চাপের পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের এই মহল্লায় বহু পুরোনো হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস। তবে গত ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। সোহরাব উদ্দিন (ভুলু) নামে এক ব্যক্তি প্রায় ৯২ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে একাধিক পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীরা জানান, সরাসরি উচ্ছেদে ব্যর্থ হয়ে তিনি অন্তত ২৮ জন বাসিন্দার বিরুদ্ধে সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে মামলা দায়ের করেন। পরে সরকারি জরিপে প্রতিবেদন এলেও তা মানতে অস্বীকৃতি জানান অভিযুক্ত ব্যক্তি।
ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য, তাদের অধিকাংশই কয়েক প্রজন্ম ধরে একই জায়গায় বসবাস করছেন।
বিকাশ নামে এক বাসিন্দা বলেন, এই জমিই আমাদের সবকিছু। কিন্তু এখন হঠাৎ করেই সেটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আমরা কোথায়
সাভারের ধলেশ্বরী নদীর তীরঘেঁষা পানপাড়া মহল্লা। এক সময়ের শান্ত বসতির বাসিন্দারা এখন আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাস করা এ পাড়ার অন্তত ৪২টি হিন্দু পরিবার হঠাৎ করেই নিজেদের ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় দিন গুনছে।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালীর জমি দখলের চেষ্টায় পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে ভয়ভীতি ও চাপের পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের এই মহল্লায় বহু পুরোনো হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস। তবে গত ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। সোহরাব উদ্দিন (ভুলু) নামে এক ব্যক্তি প্রায় ৯২ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে একাধিক পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীরা জানান, সরাসরি উচ্ছেদে ব্যর্থ হয়ে তিনি অন্তত ২৮ জন বাসিন্দার বিরুদ্ধে সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে মামলা দায়ের করেন। পরে সরকারি জরিপে প্রতিবেদন এলেও তা মানতে অস্বীকৃতি জানান অভিযুক্ত ব্যক্তি।
ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য, তাদের অধিকাংশই কয়েক প্রজন্ম ধরে একই জায়গায় বসবাস করছেন।
বিকাশ নামে এক বাসিন্দা বলেন, এই জমিই আমাদের সবকিছু। কিন্তু এখন হঠাৎ করেই সেটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আমরা কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না।
শিখা রাজবংশী জানান, বিয়ের পর থেকে এই বাড়িতেই আছি। আমাদের পূর্বপুরুষরাও এখানে ছিলেন। এখন এমন ভয় তৈরি হয়েছে যে, স্বাভাবিকভাবে বসবাস করাও কঠিন হয়ে গেছে।
আরেক বাসিন্দা চিত্ত রাজবংশী বলেন, আমরা কাগজপত্র দেখতে চেয়েছি। কিন্তু কোনো দলিল দেখানো হয়নি। উল্টো আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে কিসের কাগজ, আমি নিজেই কাগজ।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে সোহরাব উদ্দিন (ভুলু) দাবি করেন, জমিটি তার নিজের এবং দীর্ঘদিন এলাকায় অনুপস্থিত থাকার সুযোগে হিন্দুরা সেটি দখল করেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক জমি দখল করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। সংখ্যালঘু হোক বা সাধারণ নাগরিক,সবাই আইনের সমান সুরক্ষা পাবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
সাভার ট্যানারি ফাঁড়ির ইনচার্জ মহব্বত কবীর বলেন, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুক্তভোগীদের জিডি করতে বলা হয়েছে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, সাভার উপজেলায় কোন জবরদখল বরদাস্ত করা হবে না। আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফেরাতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। এদেশের সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই, সবাই এদেশের নাগরিক। যেহেতু এখানে সংখ্যালঘু বিষয়টি উঠে এসেছে; সুতরাং এটি আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বিষয়টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, প্রতিদিনই অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে পানপাড়া মহল্লার পরিবারগুলোর জীবন। তারা এখন প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও নিরাপদ বসবাসের নিশ্চয়তা চাইছে।