সামারের আনন্দে মাতোয়ারা কোপেনহেগেনের প্রবাসী বাংলাদেশিরা

নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, ডেনমার্ক ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কোপেনহেগেন সামার ফেস্টিভ্যাল’। বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন অব ডেনমার্কের উদ্যোগে শনিবার (৮ আগস্ট) দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। আরও পড়ুন সিঙ্গাপুরে ‘ন্যাশনাল ডে’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কণ্ঠশিল্পী সোহেল রানা নর্ডিক অঞ্চলের দেশগুলোতে বছরের দীর্ঘ সময়জুড়ে থাকে শীতের আবহাওয়া। তাই গ্রীষ্মের স্বল্প সময়কে ঘিরে নানা আয়োজনের জন্য অপেক্ষায় থাকেন প্রবাসীরা। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশিদের জন্য আয়োজন করা হয় এই সামার ফেস্টিভ্যাল। দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে উৎসবের নানা আয়োজন। ছবি: নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ছিল খেলাধুলা, খাবারের স্টল, সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক নানা আয়োজন। বাংলাদেশি খাবারের বিভিন্ন স্টলে ছিল ঝালমুড়ি, চটপটি, ফুচকা, সিঙ্গারা, সমুচা, মিষ্টিসহ নানা ধরনের দেশীয় খাবার ও স্ন্যাকস। প্রবাসীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে এসব খাবার উপভোগ করেন এবং একে অপরের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটান। ফেস্টিভ্যালে পুরুষদের জন্য আয়োজন করা হয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ও নারীদের

সামারের আনন্দে মাতোয়ারা কোপেনহেগেনের প্রবাসী বাংলাদেশিরা

নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, ডেনমার্ক

ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কোপেনহেগেন সামার ফেস্টিভ্যাল’। বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন অব ডেনমার্কের উদ্যোগে শনিবার (৮ আগস্ট) দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।

নর্ডিক অঞ্চলের দেশগুলোতে বছরের দীর্ঘ সময়জুড়ে থাকে শীতের আবহাওয়া। তাই গ্রীষ্মের স্বল্প সময়কে ঘিরে নানা আয়োজনের জন্য অপেক্ষায় থাকেন প্রবাসীরা। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশিদের জন্য আয়োজন করা হয় এই সামার ফেস্টিভ্যাল। দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে উৎসবের নানা আয়োজন।

jagonews24ছবি: নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ছিল খেলাধুলা, খাবারের স্টল, সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক নানা আয়োজন। বাংলাদেশি খাবারের বিভিন্ন স্টলে ছিল ঝালমুড়ি, চটপটি, ফুচকা, সিঙ্গারা, সমুচা, মিষ্টিসহ নানা ধরনের দেশীয় খাবার ও স্ন্যাকস। প্রবাসীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে এসব খাবার উপভোগ করেন এবং একে অপরের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটান।

ফেস্টিভ্যালে পুরুষদের জন্য আয়োজন করা হয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ও নারীদের জন্য গোলপোস্টে কিকসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

jagonews24ছবি: নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর

ডেনমার্কে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষা সম্পন্ন করে যারা বিশেষ গ্র্যাজুয়েশন টুপি পরার সুযোগ পেয়েছেন, এমন বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ-তরুণীদেরও অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। তাদের হাতে সম্মানসূচক ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন অব ডেনমার্কের সভাপতি শামসুল আলম। তিনি বলেন, প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ধরে রাখা প্রয়োজন। সবাইকে একত্রিত করে এমন আয়োজনের মাধ্যমে তিনি ডেনমার্কে একটি ‘মিনি বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন।

jagonews24ছবি: নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর

অনুষ্ঠানটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিচালনা করেন বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন অব ডেনমার্কের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান। আয়োজন সফল করতে যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তিনি।

ফেস্টিভ্যালে উপস্থিত মাহমুদ শিপন বলেন, “এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে আমাদের বাংলাদেশি সংস্কৃতি, খাবার ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। পরিবার-পরিজন নিয়ে এমন একটি দিন উপভোগ করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।”

অংশ নেওয়া রাফি আর রহমান খান বলেন, তরুণ বয়সে প্রবাসে এসে বাংলাদেশের খাবার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য থেকে দূরে থাকার একটা স্বাভাবিক অনুভূতি তৈরি হয়। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তারা আবার বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করার সুযোগ পান।

তরুণ আথার আমিন ইফাজ বলেন, এ ধরনের আয়োজনের জন্য তারা অপেক্ষা করেন। নর্ডিক অঞ্চলে বছরের বড় একটি সময় শীত থাকায় গ্রীষ্মের সময়টি তাদের জন্য বিশেষ। তাই সামারে এমন একটি উৎসব হলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে আনন্দ করার সুযোগ পান।

jagonews24ছবি: নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর

ফেস্টিভ্যালে উপস্থিত তানজিনা রাহা আয়োজনের প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আরও বৃহত্তর ঐক্যের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পক্ষের উদ্যোগে আলাদাভাবে নানা অনুষ্ঠান হচ্ছে, যেগুলোতে তিনি নিজেও অংশ নিয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা মতপার্থক্য থাকলে তা দূর করে সবাই যদি এক প্ল্যাটফর্মে থেকে কাজ করেন, তাহলে ডেনমার্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি আরও শক্তিশালী হবে।

তার ভাষায়, ঐক্যবদ্ধভাবে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা গেলে প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে কোপেনহেগেন সামার ফেস্টিভ্যাল হয়ে ওঠে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায়। শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ। কেউ ব্যস্ত ছিলেন খেলাধুলায়, কেউ খাবারের স্টলে, আবার কেউ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও আনন্দে সময় কাটিয়েছেন।

প্রবাসীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন নিয়মিত ও আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে—যেখানে আনন্দ-বিনোদনের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, খাবার, ঐতিহ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির চর্চা আরও জোরালোভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow