সালমানের রানআউটের আলোচনা, আইন কী বলছে?

ক্রিকেটে ইদানিং \'ব্রেইনফেড\' শব্দটা খুব ব্যবহার হয়। যার বাংলা অর্থ হচ্ছে- মাথা হুট করে কাজ না করা বা সাময়িকভাবে বুদ্ধি হারিয়ে ফেলা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার পাকিস্তানি ব্যাটার সালমান আলী আঘার হয়তো ব্রেনফেডই হয়েছিল। না হলে ক্রিজের অন্তত দুই হাত বাইরে থেকেও কেউ বল হাত দিয়ে ধরতে যাওয়ার কথা নয়। অবশ্য তিনি ধরার আগেই বল ধরে রান আউট করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এক্ষেত্রে অনেকে স্পোর্টসম্যানশিপ নিয়ে কথা বলছেন, অনেকে এটিকে বিতর্কিতও বলছেন। তবে ক্রিকেট আইন আসলে কী বলছে, সেটিই মূল বিষয়। ঘটনা ৩৯তম ওভারের, বোলার মেহেদী হাসান মিরাজকে ফ্লিক করার চেষ্টা করলেন পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে সেটা সোজা চলে যায় ননস্ট্রাইকের দিকে। পা দিয়ে ফিরতি বল থামান মিরাজ, তবে ক্রিজের বাইরে থাকা অবস্থায় সেটি হাত দিয়ে তুলতে চান ননস্ট্রাইক ব্যাটার সালমান। এতে দুই জনের মৃদু সংঘর্ষও হয়। সালমানের আগেই বল ধরে উইকেট ভেঙে দেন মিরাজ, তখনও ক্রিজের বাইরে সালমান। এরপর অনফিল্ড আম্পায়ার তানভীর আহমেদ তৃতীয় আম্পায়ারের স্মরনাপন্ন হন। তৃতীয় আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা আউট দিলে মাঠেই ক্ষোভ

সালমানের রানআউটের আলোচনা, আইন কী বলছে?

ক্রিকেটে ইদানিং 'ব্রেইনফেড' শব্দটা খুব ব্যবহার হয়। যার বাংলা অর্থ হচ্ছে- মাথা হুট করে কাজ না করা বা সাময়িকভাবে বুদ্ধি হারিয়ে ফেলা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার পাকিস্তানি ব্যাটার সালমান আলী আঘার হয়তো ব্রেনফেডই হয়েছিল। না হলে ক্রিজের অন্তত দুই হাত বাইরে থেকেও কেউ বল হাত দিয়ে ধরতে যাওয়ার কথা নয়।

অবশ্য তিনি ধরার আগেই বল ধরে রান আউট করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এক্ষেত্রে অনেকে স্পোর্টসম্যানশিপ নিয়ে কথা বলছেন, অনেকে এটিকে বিতর্কিতও বলছেন। তবে ক্রিকেট আইন আসলে কী বলছে, সেটিই মূল বিষয়।

ঘটনা ৩৯তম ওভারের, বোলার মেহেদী হাসান মিরাজকে ফ্লিক করার চেষ্টা করলেন পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে সেটা সোজা চলে যায় ননস্ট্রাইকের দিকে। পা দিয়ে ফিরতি বল থামান মিরাজ, তবে ক্রিজের বাইরে থাকা অবস্থায় সেটি হাত দিয়ে তুলতে চান ননস্ট্রাইক ব্যাটার সালমান। এতে দুই জনের মৃদু সংঘর্ষও হয়। সালমানের আগেই বল ধরে উইকেট ভেঙে দেন মিরাজ, তখনও ক্রিজের বাইরে সালমান।

এরপর অনফিল্ড আম্পায়ার তানভীর আহমেদ তৃতীয় আম্পায়ারের স্মরনাপন্ন হন। তৃতীয় আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা আউট দিলে মাঠেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন সালমান, বিবাদে জড়ান বাংলাদেশি ফিল্ডারদের সঙ্গেও। সালমান আউট হতে ভাঙে ১০৯ রানের জুটি, এরপর ৪৩ রানে বাকি ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।

এই রানআউটে অনেকেই স্পোর্টসম্যানশিপ প্রসঙ্গ টেনে আছেন। ওই সময়ে পাকিস্তানি ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা যেমন বলছেন, মিরাজ আইনসিদ্ধ আউট করলেও স্পোর্টসম্যানশিপ আহত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘টেকনিক্যাল দিক থেকে এবং ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী তিনি আউট ছিলেন। কিন্তু খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব? আমার মনে হয় সেটি বড়সড় একটি ধাক্কা খেয়েছে। ব্যাটার কেবল বলটি তুলে নিয়ে বোলারের হাতে ফেরত দিতে যাচ্ছিলেন, আর বোলার মনে করলেন এটি রানআউটের একটি সুযোগ। তাই তার জন্য সত্যিই খারাপ লাগছে; পরিস্থিতির শিকার হয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন, যা সংগতই।’

তবে ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা এমসিসির ধারা ৩৮.১ অনুযায়ী, ‘বল চলাকালীন যেকোনো সময় কোনো ব্যাটার যদি তার সীমানার বাইরে থাকেন এবং ফিল্ডারের সরাসরি অংশগ্রহণে উইকেট সঠিকভাবে ভাঙা হয়, তবে তিনি রান আউট বিবেচিত হবেন। এমনকি ‘নো বল’ ডাকা হলেও এটি কার্যকর হতে পারে (ধারা ৩৮.২. ২.২ এর পরিস্থিতি ছাড়া) এবং ব্যাটার রান নেওয়ার চেষ্টা করেন বা না করেন তাতে কিছু যায় আসে না।’

এসকেডি/এমএমআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow