সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম: জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের আবেদন

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আবেদন করা হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করা হয়। সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের ঘটনাটি এক দশক আগের। ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হন তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রায় দুই মাস পর ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে তার সন্ধান পাওয়া যায়। ভারতীয় পুলিশ তাকে শিলংয়ের রাস্তায় ঘোরাফেরা অবস্থায় উদ্ধার করে। সালাহউদ্দিনের দাবি ছিল, তাকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে গুম করা হয়েছিল। শিলংয়ে উদ্ধারের পর তার বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে মামলা হয়। ওই মামলায় ২০১৫ সালের ২২ জুলাই তাকে অভিযুক্ত করা হলেও ২০১৮ সালে তিনি মুক্তি পান। তবে এরপরও ভারতে অবস্থান করতে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন। দেশে ফেরার পর নিজের গুমের ঘটনায় বিচার চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর গুম-সংক্রা

সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম: জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের আবেদন

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আবেদন করা হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের ঘটনাটি এক দশক আগের। ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হন তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রায় দুই মাস পর ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে তার সন্ধান পাওয়া যায়। ভারতীয় পুলিশ তাকে শিলংয়ের রাস্তায় ঘোরাফেরা অবস্থায় উদ্ধার করে।

সালাহউদ্দিনের দাবি ছিল, তাকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে গুম করা হয়েছিল। শিলংয়ে উদ্ধারের পর তার বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে মামলা হয়। ওই মামলায় ২০১৫ সালের ২২ জুলাই তাকে অভিযুক্ত করা হলেও ২০১৮ সালে তিনি মুক্তি পান। তবে এরপরও ভারতে অবস্থান করতে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন।

দেশে ফেরার পর নিজের গুমের ঘটনায় বিচার চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনে অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন। পরে ২০২৫ সালের ৩ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেন তিনি। অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে আসামি করা হয়।

এরপর সালাহউদ্দিনের গুমের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে উঠে আসে। ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক গুম ও হত্যার অভিযোগসংবলিত মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ওই সময় প্রসিকিউশন জানায়, সালাহউদ্দিন আহমদসহ কয়েকজনকে গুমের ঘটনাতেও জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করে ভারতে পাঠানোর পেছনে জিয়াউল আহসানের ভূমিকা ছিল। প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও আদালতে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুম ও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণের বিষয়।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে চার্জ গঠনের শুনানির জন্য ২১ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছিল।

সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের ঘটনায় আজকের আবেদন সেই ধারাবাহিকতারই পরবর্তী পদক্ষেপ। এখন ট্রাইব্যুনালে আবেদনের ওপর শুনানি শেষে জিয়াউল আহসানকে এ মামলায় হাজির করার বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow