সাহাবুদ্দিনসহ যেসব রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষ করতে পারেননি
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বের ইতি টেনেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দেন তিনি। তবে বিদায়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি অনন্য নজিরও রেখে গেলেন তিনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম রাষ্ট্রপতি, যিনি একই মেয়াদে তিনজন সরকারপ্রধানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রথমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সময়ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন। পরে সরকার পরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গেও দায়িত্ব পালন করেন। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—দেশের কয়জন রাষ্ট্রপতি তাদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি? ইতিহাস বলছে, এ পর্যন্ত ১৮ জন পূর্ণাঙ্গ, ভারপ্রাপ্ত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ১২ জন তাদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদটি স্বাধীনতার পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক অভ্যুত্থান, হ
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বের ইতি টেনেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দেন তিনি। তবে বিদায়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি অনন্য নজিরও রেখে গেলেন তিনি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম রাষ্ট্রপতি, যিনি একই মেয়াদে তিনজন সরকারপ্রধানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রথমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সময়ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন। পরে সরকার পরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গেও দায়িত্ব পালন করেন।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—দেশের কয়জন রাষ্ট্রপতি তাদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি? ইতিহাস বলছে, এ পর্যন্ত ১৮ জন পূর্ণাঙ্গ, ভারপ্রাপ্ত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ১২ জন তাদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদটি স্বাধীনতার পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক অভ্যুত্থান, হত্যাকাণ্ড, গণআন্দোলন ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের কারণে বহুবার সংকটের মুখে পড়েছে। ফলে দায়িত্ব পালন করা সব রাষ্ট্রপতি নির্ধারিত মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে না পারা রাষ্ট্রপতিদের তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হলেও পাকিস্তানে বন্দি থাকায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতি হওয়া বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭৩ সালে পদত্যাগ করেন। পরে মুহাম্মদউল্লাহ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেও বাকশাল প্রবর্তনের মাধ্যমে তার মেয়াদ শেষ হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এরপর রাষ্ট্রপতি হওয়া খন্দকার মোশতাক আহমেদ মাত্র ৮১ দিন পর ক্ষমতাচ্যুত হন। তার স্থলাভিষিক্ত বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমও সামরিক বাস্তবতায় ১৯৭৭ সালে পদত্যাগ করেন। পরে রাষ্ট্রপতি হওয়া জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত আবদুস সাত্তার ১৯৮২ সালে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। এরশাদের নিয়োগ দেওয়া রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আহসানউদ্দিন চৌধুরীও পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। পরে এরশাদ নিজে রাষ্ট্রপতি হলেও ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসার পর অধিকাংশ রাষ্ট্রপতি মেয়াদ পূর্ণ করলেও ব্যতিক্রম রয়েছেন কয়েকজন। ২০০১ সালে রাষ্ট্রপতি হওয়া এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী মাত্র সাত মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন। ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়া জিল্লুর রহমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ২০১৩ সালে মারা যান। রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের মেয়াদ শেষ হলেও নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে বহাল ছিলেন।
সবশেষ ২০২৩ সালে দায়িত্ব নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে না পারা রাষ্ট্রপতিদের তালিকায় তার নামও যুক্ত হলো।
What's Your Reaction?