সাহিত্যচর্চায় চার দশকের বাতিঘর

সুমন কুমার দত্ত মাধ্যমিক পড়ুয়া একটি ছেলে। মনের ভেতর ভয় ও সংশয় নিয়ে মফস্বল থেকে ছুটে আসে। প্রবীণদের মাঝে জরাজীর্ণ একটা ভবনের ফাটল ধরা ফ্লোরে পুরাতন ছেঁড়া কার্পেটে বসে সাহিত্য আড্ডায় যুক্ত হয়। প্রথমদিনের উপলব্ধিময় স্মৃতি, পরবর্তীতে আড্ডায় শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়। একাডেমির ইতিহাসে প্রথম প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করে। এসব বিষয়ে লিখতে গেলে অনুভূতির শব্দ সংখ্যা বাধ্যবাধকতার জাল ছিঁড়ে বহুগুণ বেড়ে লম্বা হবে নিশ্চিত। প্রথমে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠায় যাঁরা যুক্ত ছিলেন; তাঁদের সবাইকে। কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করছি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও সাহিত্য একাডেমির সভাপতি (সাবেক) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিনকে। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার সাথে সর্বপ্রথম প্রত্যক্ষ ভোটের ব্যবস্থা করেন। একাডেমিকে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ উপহার দিতে সক্ষম হন। তার এ অকৃত্রিমতায় আজ সাহিত্য একাডেমি নির্বাচিত একটি কমিটির মাধ্যমে বেশ সরব হয়েছে। কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি বর্তমান জেলা প্রশাসক ও সাহিত্য একাডেমির সভাপত

সাহিত্যচর্চায় চার দশকের বাতিঘর

সুমন কুমার দত্ত

মাধ্যমিক পড়ুয়া একটি ছেলে। মনের ভেতর ভয় ও সংশয় নিয়ে মফস্বল থেকে ছুটে আসে। প্রবীণদের মাঝে জরাজীর্ণ একটা ভবনের ফাটল ধরা ফ্লোরে পুরাতন ছেঁড়া কার্পেটে বসে সাহিত্য আড্ডায় যুক্ত হয়। প্রথমদিনের উপলব্ধিময় স্মৃতি, পরবর্তীতে আড্ডায় শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়। একাডেমির ইতিহাসে প্রথম প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করে। এসব বিষয়ে লিখতে গেলে অনুভূতির শব্দ সংখ্যা বাধ্যবাধকতার জাল ছিঁড়ে বহুগুণ বেড়ে লম্বা হবে নিশ্চিত।

প্রথমে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠায় যাঁরা যুক্ত ছিলেন; তাঁদের সবাইকে। কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করছি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও সাহিত্য একাডেমির সভাপতি (সাবেক) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিনকে। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার সাথে সর্বপ্রথম প্রত্যক্ষ ভোটের ব্যবস্থা করেন। একাডেমিকে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ উপহার দিতে সক্ষম হন। তার এ অকৃত্রিমতায় আজ সাহিত্য একাডেমি নির্বাচিত একটি কমিটির মাধ্যমে বেশ সরব হয়েছে।

কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি বর্তমান জেলা প্রশাসক ও সাহিত্য একাডেমির সভাপতি আহমেদ জিয়াউর রহমানের প্রতিও। একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের পঞ্চম মিটিংয়ে সাহিত্য একাডেমির ভবন সহসা পুনর্নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য। আমার বিশ্বাস, সময়ের দাবি হিসেবে সিদ্ধান্তটি যত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে; ততই সীমাবদ্ধতা কেঁটে একাডেমির নিয়মিত কার্যক্রম গতিশীল ও ত্বরান্বিত হবে।

সাহিত্য একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক কাজী শাহাদাত ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক কালচারাল অফিসার আবু সালেহ মো. আবদুল্লাহসহ (সৌম্য সালেক) যারা মধ্যবর্তী সময়ে তালাবদ্ধ নীরবতায় আচ্ছন্ন একাডেমিকে সরব করতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন; তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা।

academy

বর্তমান মহাপরিচালক কাদের পলাশ পরিশ্রমী ও চৌকস মানুষ। তার আন্তরিক সদিচ্ছায় এখন প্রতিদিনই বিকেল হতে রাত অবধি আলো ঝরে জোড়া পুকুরপাড়ের ৪০ বছরের ঘরটিতে। আগত লেখকদের হাজিরায় প্রতিদিনই প্রায় পনেরো-বিশ ছুঁইছুঁই। একাডেমি এখন মুখরিত; নিত্যদিনের উৎসবমুখর আড্ডায়। সাহিত্য একাডেমির সব ভালো কিছুর লক্ষে পরিচালকদের ভূমিকাও বেশ আন্তরিক। পরিচালক (গবেষণা) মুহাম্মদ ফরিদ হাসানের একাডেমি কেন্দ্রিক ভাবনার আকাশ বিস্তৃত। কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরাও সহযোগিতামূলক মনোভাবাপন্ন। প্রতিটি কাজেই তাদের অংশগ্রহণ ইতিবাচক। বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে আশীর্বাদের ছায়া হয়ে আছেন একাডেমির সহ-সভাপতি আবদুল্লাহিল কাফী। সাধারণ সদস্যরাও একাডেমির প্রাণ।

৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চমৎকার কিছু কাজ হয়েছিল। এরমধ্যে ৩৯তম স্মারক ‘উছল’ প্রকাশনার কাজটি বেশ চমকপ্রদ। এককথায় বলা চলে, এটি তথ্যবহুল মলাটবদ্ধ একটি দলিল ছিল। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে টানা সাত দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজনও ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই ধারাবাহিকতায় এবছরও সাহিত্য একাডেমির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশসহ দশ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

আয়োজনের প্রত্যেকটিতে ছিল ভিন্নতা। আয়োজনগুলো চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে কয়েকটি উপজেলাসহ শহর ও শহরের বাইরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, গাছ উপহার, দেওয়ালিকা প্রকাশ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চাঁদপুর আগমন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভা, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের অংশগ্রহণে লেখালেখি বিষয়ক কর্মশালা, শোভাযাত্রা, শিক্ষার্থীদের নিয়ে বইপাঠ প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতাসহ কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া দশ দিনের তালিকা অনুযায়ী প্রয়াত সদস্য ও লেখকদের স্মরণে মিলাদ, দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

যতটুকু মনে পড়ে, সাহিত্য একাডেমির প্রায় চার দশকের ইতিহাসে ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পরবর্তী ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন; দুটো আয়োজনই নিঃসন্দেহে বৃহৎ পরিসরের এবং এই পরিসরের বিস্তৃতি আরও বহুগুণ হবে। সাহিত্য একাডেমি আশুগৃহে সমাদরে সাহিত্যচর্চার আঁতুড়ঘর হবে, সেই প্রার্থনা সর্বান্তকরণে। সাহিত্য একাডেমি চাঁদপুরের উত্তরোত্তর সফলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।

লেখক: নির্বাহী সদস্য, সাহিত্য একাডেমি, চাঁদপুর।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow