সিঙ্গেল থাকলেই বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি?
একাকিত্ব কি শুধু মানসিক কষ্টের বিষয়, নাকি এর সঙ্গে শারীরিক রোগেরও সম্পর্ক আছে? সাম্প্রতিক সময়ে একটি গবেষণা ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে বিবাহিতদের তুলনায় অবিবাহিত বা সিঙ্গেল ব্যক্তিদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি এবং ক্যানসারজনিত মৃত্যুর হার কিছুটা বেশি হতে পারে। এই খবর অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যে নথিভুক্ত প্রায় ৪০ লাখ ক্যানসারের রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৬৮ শতাংশ বেশি হতে পারে এবং নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৮৩ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে। তবে এই ফলাফলকে সরাসরি বিয়ে না করলে ক্যানসার হয়, এভাবে ব্যাখ্যা করা ভুল হবে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। তারা স্পষ্ট করেছেন, এখানে মূল বিষয় হলো জীবনযাত্রা, সামাজিক সহায়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্বের প্রভাব দীর্ঘদিন একা থাকা বা সীমিত সামাজিক যোগাযোগ অনেক সময় মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। এই চাপ
একাকিত্ব কি শুধু মানসিক কষ্টের বিষয়, নাকি এর সঙ্গে শারীরিক রোগেরও সম্পর্ক আছে? সাম্প্রতিক সময়ে একটি গবেষণা ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে বিবাহিতদের তুলনায় অবিবাহিত বা সিঙ্গেল ব্যক্তিদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি এবং ক্যানসারজনিত মৃত্যুর হার কিছুটা বেশি হতে পারে। এই খবর অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়।
মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যে নথিভুক্ত প্রায় ৪০ লাখ ক্যানসারের রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৬৮ শতাংশ বেশি হতে পারে এবং নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৮৩ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে। তবে এই ফলাফলকে সরাসরি বিয়ে না করলে ক্যানসার হয়, এভাবে ব্যাখ্যা করা ভুল হবে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। তারা স্পষ্ট করেছেন, এখানে মূল বিষয় হলো জীবনযাত্রা, সামাজিক সহায়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব।
সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্বের প্রভাব
দীর্ঘদিন একা থাকা বা সীমিত সামাজিক যোগাযোগ অনেক সময় মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। এই চাপ শরীরে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়াতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই হরমোন ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে দিতে পারে, যার ফলে শরীর বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা হারায়।
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শুধু সাধারণ অসুস্থতাই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা দেন বিশেষজ্ঞরা।
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে
বিবাহিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অনেক সময় জীবনযাত্রায় একটি নিয়মিততা তৈরি হয়। খাবার, ঘুম এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে শৃঙ্খলা থাকে। অন্যদিকে অনেক সিঙ্গেল ব্যক্তি ব্যস্ত জীবন বা একাকিত্বের কারণে অনিয়মিত জীবনযাপন করেন।
ফাস্ট ফুড বেশি খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, ধূমপান বা অতিরিক্ত মদ্যপানের মতো অভ্যাস ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার দীর্ঘদিন খেলে শরীরের কোষে ক্ষতিকর পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা ভবিষ্যতে রোগের কারণ হতে পারে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অবহেলা
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিবাহিত ব্যক্তিরা তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হন। তারা ছোটখাটো উপসর্গও গুরুত্ব দেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। ফলে অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা সহজ হয়। অন্যদিকে অবিবাহিতরা অনেক সময় হালকা উপসর্গকে উপেক্ষা করেন। ফলে ক্যানসারের মতো রোগ দেরিতে ধরা পড়ে এবং তখন চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়।
মানসিক সমর্থনের গুরুত্ব
ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের ক্ষেত্রে মানসিক শক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিবাহিত ব্যক্তিরা সাধারণত সঙ্গীর কাছ থেকে মানসিক সমর্থন পান, যা তাদের রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস দেয়। অন্যদিকে সিঙ্গেল ব্যক্তিরা অনেক সময় একাকীত্ব ও হতাশার মধ্যে থাকেন। এই মানসিক চাপ শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
এইচপিভি সংক্রমণের ঝুঁকি
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে অবিবাহিতদের মধ্যে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। এই ভাইরাস জরায়ুর ক্যানসার, পায়ুপথের ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত। অনিরাপদ যৌন আচরণ বা একাধিক সঙ্গীর কারণে এই ঝুঁকি বাড়তে পারে।
জীবনযাত্রাই আসল কারণ
বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে বলেছেন, বিয়ে কোনো চিকিৎসা বা ক্যানসার প্রতিরোধের উপায় নয়। বরং আসল বিষয় হলো জীবনযাত্রা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা। একজন অবিবাহিত ব্যক্তি যদি সঠিক জীবনধারা অনুসরণ করেন, তাহলে তার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ঝুঁকি কমানোর উপায়
যদি কেউ অবিবাহিত হন, তাহলে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রথমেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে যেকোনো রোগ প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়তে পারে। ধূমপান ও মদ্যপান সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত।এর পাশাপাশি পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করা জরুরি, যাতে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকে।
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করলে শরীর সক্রিয় থাকে এবং অতিরিক্ত ওজন বা অলসতা থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি কমে যায়।
সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং একাকীত্ব এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে শারীরিক সুস্থতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক শান্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, কারণ ভালো ঘুম স্ট্রেস কমিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
সচেতন জীবনধারা অনুসরণ করলে অবিবাহিত বা বিবাহিত, যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন, সুস্থ ও নিরাপদ থাকা সম্ভব।
সূত্র: এনডিটিভি, আমেরিকান ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন, ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?