সিজার ছাড়া চিকিৎসাসেবা নেই মৌলভীবাজারে
স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হলেও মৌলভীবাজারে প্রায় ২২ লাখ মানুষের জন্য গড়ে ওঠেনি মানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা। জেলা সদর হাসপাতাল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সবখানেই সীমিত প্রাথমিক সেবার বাইরে মিলছে না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। জটিল তো দূরের কথা, সামান্য রোগের চিকিৎসার জন্যও রোগীদের ছুটতে হচ্ছে বিভাগীয় শহর সিলেটে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার এ সংকটকে পুঁজি করে জেলায় গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশতাধিক বাণিজ্যিক প্রাইভেট হাসপাতাল, যেখানে ‘প্যাকেজ সেবা’ নামে মূলত প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করানো হয়।। জানা গেছে, জেলার একমাত্র চিকিৎসাসেবার ভরসাস্থল মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। এ হাসপাতালে আইসিইউ, সিসিইউ, সিটি স্ক্যান, ইকো, হৃদরোগ চিকিৎসাসহ বিশেষায়িত কোনো সেবা নেই। রয়েছে চিকিৎসক সংকট। রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও সামান্য জটিল কিছু হলেই সিলেটে পাঠানো হয়। সদর হাসপাতালে কিছু চিকিৎসা মিললেও ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা চরম দুরাবস্থা। এসব বেশিরভাগ হাসপাতালে নেই চিকিৎসক ও চিকিৎসার সরঞ্জাম। হাসপাতালগুলো পরিচালনা হয় চিকিৎসক সংযুক্তিতে (প্রেষণে)। কোনো হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ই
স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হলেও মৌলভীবাজারে প্রায় ২২ লাখ মানুষের জন্য গড়ে ওঠেনি মানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা। জেলা সদর হাসপাতাল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সবখানেই সীমিত প্রাথমিক সেবার বাইরে মিলছে না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। জটিল তো দূরের কথা, সামান্য রোগের চিকিৎসার জন্যও রোগীদের ছুটতে হচ্ছে বিভাগীয় শহর সিলেটে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার এ সংকটকে পুঁজি করে জেলায় গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশতাধিক বাণিজ্যিক প্রাইভেট হাসপাতাল, যেখানে ‘প্যাকেজ সেবা’ নামে মূলত প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করানো হয়।।
জানা গেছে, জেলার একমাত্র চিকিৎসাসেবার ভরসাস্থল মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। এ হাসপাতালে আইসিইউ, সিসিইউ, সিটি স্ক্যান, ইকো, হৃদরোগ চিকিৎসাসহ বিশেষায়িত কোনো সেবা নেই। রয়েছে চিকিৎসক সংকট। রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও সামান্য জটিল কিছু হলেই সিলেটে পাঠানো হয়। সদর হাসপাতালে কিছু চিকিৎসা মিললেও ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা চরম দুরাবস্থা। এসব বেশিরভাগ হাসপাতালে নেই চিকিৎসক ও চিকিৎসার সরঞ্জাম। হাসপাতালগুলো পরিচালনা হয় চিকিৎসক সংযুক্তিতে (প্রেষণে)। কোনো হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি মেশিন থাকলেও টেকনোলজিস্টের অভাবে সেগুলো বন্ধ। আবার কোথাও অপারেশন থিয়েটার থাকলেও চিকিৎসকের অভাবে সার্জারি বন্ধ।
জানা গেছে, জেলা শহরের অলিগলিতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল। দিন যত যাচ্ছে নতুন নামে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর সংখ্যাও বাড়ছে। এসব হাসপাতালের শুধুমাত্র অন্তঃসত্ত্বা নারীর অস্ত্র পাচার করা হয় চুক্তিতে বা প্যাকেজ হিসেবে। ১৭-১৮ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩৫-৪০ হাজার টাকা প্যাকেজে প্রসূতিকে সিজার করানো হয়। রোগী পাওয়ার জন্য এসব হাসপাতাল সারা জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে নিজস্ব লোক রেখেছে। যার রেফারেন্স হাসপাতালে রোগী আসবে থাকে কমিশন দেওয়া হয় হাসপাতালের পক্ষ থেকে। সিজারের পর মা ও শিশুর কোনো সমস্যা হলে পাঠানো হয় বিভাগীয় শহরে। চিকিৎসার নামে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠা হাসপাতালগুলো সাধারণ রোগীদেরকে চরম বিপাকে ফেলে।
আরও পড়ুন:
সিলেটের স্বাস্থ্যখাতে বাড়ছে ভবন, কমছে আস্থা
টেকসই সুফল পেতে কৃষি-প্রযুক্তি-নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অগ্রাধিকার দরকার
২০ টাকায় আবেদন, ১০ দিনে নিষ্পত্তি—আস্থা বাড়াচ্ছে গ্রাম আদালত
আবেদন করলেই পরীক্ষা স্থগিত: ভেঙে পড়ছে শেকৃবির একাডেমিক শৃঙ্খলা
মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রায় ৫০ বেসরকারি হাসপাতাল চালু রয়েছে। এসবের মধ্যে মাত্র তিনটি হাসপাতালে ২ বেডের আইসিইউ চালু রয়েছে। বাকিগুলোতে নেই। জেলায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তীব্র সংকট রয়েছে।
‘প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে শুধু মাত্র অন্তঃসত্ত্বা নারীর অস্ত্রোপচার করা হয় টাকার জন্য। এটাকে তো আর চিকিৎসা বলে না। এসব হাসপাতালগুলো বাণিজ্যিকভাবে চিন্তা করেই বানানো হয়েছে। এজন্য এসব হাসপাতালে অন্য কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। যার মন চায় একটি বাসার মধ্যে হাসপাতাল খুলে বসে। সাধারণ চিকিৎসার অভাবে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে’
মৌলভীবাজার জেলার সচেতন নাগরিক আবুল কালাম, জুয়েল চৌধুরী, আব্দুল আহাদ বলেন, আমাদের জেলায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। জেলায় অন্য সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও চিকিৎসার জন্য মানুষের বড় কষ্ট হচ্ছে। কয়েকজন চিকিৎসক ছাড়া আর কোনো চিকিৎসকই নেই। সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই সেবা নেই।

নাজেহাল চিকিৎসা সেবা মৌলভীবাজারের হাসপাতালগুলোতে/ ছবি: জাগো নিউজ
তারা আরও বলেন, প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে শুধুমাত্র অন্তঃসত্ত্বা নারীর অস্ত্রোপচার করা হয় টাকার জন্য। এটাকে তো আর চিকিৎসা বলে না। এসব হাসপাতালগুলো বাণিজ্যিকভাবে চিন্তা করেই বানানো হয়েছে। এজন্য এসব হাসপাতালে অন্য কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। যার মন চায় একটি বাসার মধ্যে হাসপাতাল খুলে বসে। সাধারণ চিকিৎসার অভাবে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে।
কমলগঞ্জের কাওছার আহমেদ নামে একজন বলেন, গত ১৪ মে মায়ের জ্বর থাকায় মৌলভীবাজার একটি হাসপাতালে ভর্তি করাই। জ্বরের কারণ কী, কেনো নামছে না জ্বর এ বিষয় কোনো চিকিৎসা দিতে পারেনি। দুই দিন হাসপাতালে থাকার পর চিকিৎসা না পেয়ে সিলেটে এনেছি। সামান্য অক্সিজেন সাপোর্টটাও জেলায় পাওয়া যায়নি।
‘জেলা সদর হাসপাতালে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমরা নিয়মিত চিঠি পাঠাচ্ছি। আমাদের এখানে আইসিইউ, সিসিইউ, সিটি স্ক্যান, ইকো, হৃদরোগ চিকিৎসা সেবা নেই। এগুলোর চালু করার জন্য আবেদন করেছি’

চিকিৎসক সংকট মৌলভীবাজারের হাসপাতালগুলোতে/ ছবি: জাগো নিউজ
আরও পড়ুন:
আইলার ক্ষত বুকে নিয়ে বাঁধের অপেক্ষায় ১৭ বছর
বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরালে ব্যয় বাড়বে কয়েকগুণ
পাহাড়ে হচ্ছে আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব, মিলবে মানসম্পন্ন চারা
অস্তিত্ব সংকটে রাজশাহী সিল্ক, ভরসা এখন বিদেশি সুতা
মাহবুবা আক্তার নামে এক রোগী বলেন, ডাক্তার শুধু মাত্র অক্সিজেন সাপোর্টের জন্য সিলেট হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
রাজনগর উপজেলার মনাফ মিয়া নামে একজন বলেন, মে মাসের শুরুতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারিতে নাতি জন্ম নেয়। জন্মের কয়েক ঘণ্টা পর শিশুর সমস্যা দেখা দেয়। হাসপাতাল থেকে আমাদেরকে সিলেটে যাওয়ার জন্য বলা হয়। সেখানে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা বলেন বাচ্চা বের করার সময় মাথায় আঘাত পেয়েছে। পরে ১৫ দিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আসি।
‘ডাক্তার শুধু মাত্র অক্সিজেন সাপোর্টের জন্য সিলেট হাসপাতালে রেফার্ড করেন। আমাদের জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ খুবই প্রয়োজন। চিকিৎসার অভাবে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে’
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ- পরিচালক) ডা. প্রণয় কান্তি দাশ বলেন, জেলা সদর হাসপাতালে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে নিয়মিত চিঠি পাঠাচ্ছি। এখানে আইসিইউ, সিসিইউ, সিটি স্ক্যান, ইকো, হৃদরোগ চিকিৎসা সেবা নেই। এগুলোর চালু করার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজারে অনেক বিত্তবান রয়েছেন। তাদেরকে চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন। ব্যক্তি উদ্যোগে সব সেবা নিয়ে কয়েকটি হাসপাতাল চালু হলে রোগীদের সিলেট কম যেতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট রয়েছে।
এনএইচআর/এএইচ/জেআইএম
What's Your Reaction?