সিনেটে ভোট, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের সমর্থনে বড় পরিবর্তন

চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি বন্ধ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে একটি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ ভোট শেষ পর্যন্ত পাস হয়নি। মানবাধিকারকর্মীরা এই ফলাফলকে একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন।  এটিকে ইসরায়েলের নীতির প্রতি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটে ডেমোক্র্যাট সিনেটররা ব্যাপকভাবে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। ইসরায়েলের কাছে সামরিক বুলডোজার বিক্রি বন্ধ করা নিয়ে প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল। তবে মাত্র সাতজন ডেমোক্র্যাট রিপাবলিকানদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিলটি আটকে দেন। ফলে ৪০-৫৯ ভোটে তা বাতিল হয়। অধিকারকর্মীরা এই ফলাফলকে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। শান্তিবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস কমিটি অন ন্যাশনল লেগিশ্লেশনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আইনপ্রণয়ন পরিচালক হাসান এল-তাইয়্যাব বলেন, প্রস্তাবটি পাস না হলেও, এই ভোট দেখিয়ে দিয়েছে যে, সিনেটের অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট এখন ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সহায়তার বিরোধিতা করছেন। এর সঙ্গে বেশিরভাগ আমেরিকানের মতামতেরও মিল রয়েছে।  তিনি বলেন, এটি শুধু অ

সিনেটে ভোট, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের সমর্থনে বড় পরিবর্তন

চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি বন্ধ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে একটি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ ভোট শেষ পর্যন্ত পাস হয়নি। মানবাধিকারকর্মীরা এই ফলাফলকে একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন।  এটিকে ইসরায়েলের নীতির প্রতি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটে ডেমোক্র্যাট সিনেটররা ব্যাপকভাবে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। ইসরায়েলের কাছে সামরিক বুলডোজার বিক্রি বন্ধ করা নিয়ে প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল। তবে মাত্র সাতজন ডেমোক্র্যাট রিপাবলিকানদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিলটি আটকে দেন। ফলে ৪০-৫৯ ভোটে তা বাতিল হয়। অধিকারকর্মীরা এই ফলাফলকে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

শান্তিবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস কমিটি অন ন্যাশনল লেগিশ্লেশনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আইনপ্রণয়ন পরিচালক হাসান এল-তাইয়্যাব বলেন, প্রস্তাবটি পাস না হলেও, এই ভোট দেখিয়ে দিয়েছে যে, সিনেটের অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট এখন ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সহায়তার বিরোধিতা করছেন। এর সঙ্গে বেশিরভাগ আমেরিকানের মতামতেরও মিল রয়েছে। 

তিনি বলেন, এটি শুধু অস্ত্র বিক্রির ওপর ভোট নয়, বরং আরও উত্তেজনা বৃদ্ধি বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে বড় আকারের যুদ্ধবিরোধী একটি ভোট।

এই বিলটি প্রস্তাব করেছিলেন প্রগতিশীল সিনেটর বেরনি স্যান্ডারস। ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে বাড়তে থাকা ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এটি এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই যৌথভাবে এ অভিযান শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ইসরায়েল লেবানন ও গাজায় পুরো শহর ধ্বংস করতে বুলডোজার ব্যবহার করছে। এটিকে তারা ‘জাতিগত নির্মূল’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। বুধবার আরেকটি ভোটে ৩৬ ডেমোক্র্যাট সিনেটর ইসরায়েলের কাছে ১,০০০ পাউন্ড বোমা সরবরাহ বন্ধের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।

এর আগে একই ধরনের প্রস্তাবে গত বছর ২৭টি এবং ২০২৪ সালে ১৮টি সমর্থন ভোট পড়েছিল। অর্থাৎ এবার সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই পরিবর্তনের পেছনে গাজায় চলমান যুদ্ধ, দক্ষিণ লেবাননের ধ্বংসযজ্ঞ এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

স্যান্ডার্স বলেন, ‘আমেরিকানরা চায় তাদের করের টাকা দেশের ভেতরে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় হোক, মধ্যপ্রাচ্যে নিরীহ নারী-শিশু হত্যায় নয়। একটি জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মত পোষণ করেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার ৮০ শতাংশ। ৫০ বছরের নিচে তরুণদের মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব আরও বেশি তথা প্রায় ৭০ শতাংশ।

জুইশ ভয়েস ফর পিস অ্যাকশনের রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেন, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়ার পক্ষে ভোট দেওয়া ‘লজ্জাজনক’। তিনি বলেন, গাজায় গণহত্যা, লেবাননে বোমাবর্ষণ এবং ইরানে চলমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে প্রতিটি সিনেটরের উচিত ছিল ইসরায়েলের কাছে সব ধরনের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে ভোট দেওয়া।

তিনি বলেন, নিঃশর্ত সহায়তার বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বিরোধিতা একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ৪০টি সমর্থন ভোট ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের রাজনৈতিক ভিত্তিতে বড় ফাটল’ তৈরি করেছে। গত রাতটি ছিল একটি টার্নিং পয়েন্ট।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow