‘সিন্ডিকেট করে ৫০-২০০ টাকার বেশি দাম দিতে চায়নি’
চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সড়কে অস্বস্তিকর দৃশ্য। রাস্তার পাশে স্তূপ হয়ে পড়ে আছে গরুর শত শত কাঁচা চামড়া। অনেকগুলো থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, কিছু চামড়ায় ধরেছে পচন। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এসব চামড়া ফেলে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরকার দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে মিলছে না সেই মূল্য। ফলে ঈদুল আজহার কোরবানির চামড়া নিয়ে আবারও দেখা দিয়েছে পুরোনো সংকট। চট্টগ্রাম নগরের আতুরার ডিপো, মুরাদপুর ও চৌমুহনী এলাকায় বিক্রি না হওয়া শত শত চামড়া পড়ে থাকতে দেখা গেছে সড়কের পাশে। শুক্রবার ও শনিবার (৩০ মে) সকালে সরেজমিনে নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। আতুরার ডিপো এলাকায় ছোট-বড় শতাধিক আড়তের সামনে চামড়ার স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিছু চামড়া আবার আড়তের সামনে ফেলে রেখে চলে গেছেন ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পরে সেগুলো অপসারণ করেন। ঈদের দিন দুপুর গড়াতেই নগরের চৌমুহনী এলাকা পরিণত হয় অস্থায়ী চামড়ার বাজারে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ভ্যান, পিকআপ ও ছোট ট্রাকে করে গরুর চামড়া নিয়ে আসেন। কোথাও সড়কের পাশে চামড়া বিছিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা, কোথাও চলছে দর
চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সড়কে অস্বস্তিকর দৃশ্য। রাস্তার পাশে স্তূপ হয়ে পড়ে আছে গরুর শত শত কাঁচা চামড়া। অনেকগুলো থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, কিছু চামড়ায় ধরেছে পচন। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এসব চামড়া ফেলে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরকার দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে মিলছে না সেই মূল্য। ফলে ঈদুল আজহার কোরবানির চামড়া নিয়ে আবারও দেখা দিয়েছে পুরোনো সংকট। চট্টগ্রাম নগরের আতুরার ডিপো, মুরাদপুর ও চৌমুহনী এলাকায় বিক্রি না হওয়া শত শত চামড়া পড়ে থাকতে দেখা গেছে সড়কের পাশে।
শুক্রবার ও শনিবার (৩০ মে) সকালে সরেজমিনে নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। আতুরার ডিপো এলাকায় ছোট-বড় শতাধিক আড়তের সামনে চামড়ার স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিছু চামড়া আবার আড়তের সামনে ফেলে রেখে চলে গেছেন ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পরে সেগুলো অপসারণ করেন।
ঈদের দিন দুপুর গড়াতেই নগরের চৌমুহনী এলাকা পরিণত হয় অস্থায়ী চামড়ার বাজারে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ভ্যান, পিকআপ ও ছোট ট্রাকে করে গরুর চামড়া নিয়ে আসেন। কোথাও সড়কের পাশে চামড়া বিছিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা, কোথাও চলছে দরদাম। কেউ মোবাইল ফোনে আড়তদারের সঙ্গে কথা বলছেন, কেউ আবার ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন। তবে, দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মুখে হতাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
হাটহাজারি থেকে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. জসিম বলেন, ২৫০টির মতো গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলাম। প্রতিটির পেছনে প্রায় ২৯০-৩১০ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু আড়তগুলো ১০০ থেকে ১৫০ টাকার বেশি দাম দিতে চায়নি। এ দামে গাড়িভাড়াও উঠবে না। শেষ পর্যন্ত কিছু চামড়া ফেলে যেতে হয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় কুমিরা ইউনিয়ন থেকে চামড়া সংগ্রহ করে নগরের চৌমুহনী এলাকায় এসেছিলেন মৌসুমি ব্যবসায়ী নুরুন নবী। তিনি বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে ৫০টি চামড়া সংগ্রহ করেছি। প্রতিটি কিনেছি গড়ে ৩৫০-৪০০ টাকা করে। গাড়িভাড়া দিয়ে এখানে এনেছি। কিন্তু ১৩০-১৫০ টাকার বেশি কেউ দিতে চাইছে না। কেনা দামই উঠছে না।
মুরাদপুর এলাকায় দেখা হয় মৌসুমি ব্যবসায়ী আতাউর রহমানের সঙ্গে। তিনি ৫০০ টির বেশি গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। তার ভাষ্য, প্রতিটি চামড়ার গড় দাম পড়েছে ৩০০-৩৫০ টাকার মতো। রাতে ১০০-১২০ টাকা করে ২৫০টি চামড়া বিক্রি করেছি। বাকিগুলো কেউ কিনতেই চাচ্ছে না।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আড়তদারদের একটি অংশ সমন্বিতভাবে কম দাম বলায় বাজারে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ছোট ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, সরকার প্রতিবছর চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যায় না।
চলতি বছর সরকার ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত গরু ও মহিষের কাঁচা চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করেছে। খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে সেই দামে চামড়া বিক্রি করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।
ফটিকছড়ি থেকে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী নুরুল আলম বলেন, আড়তদারেরা সিন্ডিকেট করে ৫০ থেকে ২০০ টাকার বেশি দাম দিতে চায়নি। অথচ আমরা প্রতিটি বড় গরুর চামড়া ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনেছি। শেষ পর্যন্ত অনেকে চামড়া ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন।
তবে, কিছু ব্যবসায়ী দ্রুত বিক্রি করে ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করেছেন। মৌসুমি ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান বলেন, গতবার বেশি লাভের আশায় অপেক্ষা করে বিপদে পড়েছিলাম। তাই এবার দ্রুত বিক্রি করে দিয়েছি। প্রতিটিতে ৫০ টাকার মতো লাভ হয়েছে।
আতুরার ডিপো এলাকায় চামড়া অপসারণে কাজ করা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আবু তাহের সিদ্দিকী বলেন, সকালে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ পচনশীল চামড়া ডাম্পিং করতে হয়েছে। কয়েকটি ট্রাক ভর্তি করে চামড়া সরানো হয়েছে।
কাতালগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ ফরহান বলেন, সকালে বের হয়ে দেখি রাস্তার পাশে চামড়ার স্তূপ। দুর্গন্ধে দাঁড়ানো যাচ্ছে না। দ্রুত অপসারণ না করলে জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে।
চট্টগ্রাম বৃহত্তর কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে আগে প্রায় দুই ডজন ট্যানারি ছিল। এখন মাত্র একটি সচল আছে। তারাও সীমিত পরিমাণ চামড়া কেনে। ফলে আমাদের ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হয়। ঢাকার ট্যানারি মালিকরা বাকিতে চামড়া কেনায় নগদ টাকার সংকট তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, অনেক আড়তদার ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দামেও চামড়া কিনেছেন। তবে যেসব চামড়া কাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, সেগুলো কেউ কিনছে না। ফলে নিম্নমানের চামড়া ফেলে গেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
চামড়া খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্যানারি পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব, সংরক্ষণব্যবস্থার দুর্বলতা, লবণের সংকট এবং আড়তদারদের নগদ অর্থের ঘাটতির কারণে প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, এতিমখানা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো।
এমআরএএইচ/এএমএ
What's Your Reaction?