সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের টিসিবি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। টিসিবির মাধ্যমে অধিক পরিমাণে পণ্য আমদানি করে বাজারে একটি কার্যকর ‘কাউন্টার ব্যালেন্স’ তৈরি করা হবে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রিত হয় এমন ধারণাই আমরা বাংলাদেশ থেকে মুছে দেব। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরের টিলাগড়ে পয়েন্টে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় কৃষকের হাট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমাতে একযোগে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরবরাহ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল মডেলের আওতায় আনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগ তৈরিতে চালু করা হয়েছে ‘কৃষকের হাট’। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি সমন্

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের টিসিবি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। টিসিবির মাধ্যমে অধিক পরিমাণে পণ্য আমদানি করে বাজারে একটি কার্যকর ‘কাউন্টার ব্যালেন্স’ তৈরি করা হবে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রিত হয় এমন ধারণাই আমরা বাংলাদেশ থেকে মুছে দেব।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরের টিলাগড়ে পয়েন্টে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় কৃষকের হাট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমাতে একযোগে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরবরাহ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল মডেলের আওতায় আনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগ তৈরিতে চালু করা হয়েছে ‘কৃষকের হাট’।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল মডেলের আওতায় আনা হবে। যাতে বাজার তদারকি সহজ হয় এবং কোনো ধরনের কারসাজি দ্রুত শনাক্ত করা যায়। একই সঙ্গে ভর্তুকি কমিয়ে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানান।

কৃষিখাতের উন্নয়নে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং খাল পুনঃখননের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী বলেন বলেন, ‘সরকারের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দেশের বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।’

তিনি বলেন, আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটে এসে বাঁশিয়া খাল খনন উদ্বোধন করবেন।

সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া ‘কৃষকের হাট’ মূলত কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে সরাসরি সেতুবন্ধন তৈরি করবে। এখানে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই নিজেদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিক্রি করতে পারবেন।
জেলা প্রশাসন জানায়, প্রতিদিন সকালে নগরের টিলাগড় পয়েন্টে বসবে এই হাট। এতে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং ভোক্তারাও তুলনামূলক কম দামে তাজা ও নিরাপদ খাদ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।

বর্তমানে মাঠ থেকে ভোক্তার কাছে কৃষিপণ্য পৌঁছাতে চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়। এতে প্রতিটি স্তরে দাম বাড়লেও কৃষক তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হন, অন্যদিকে ভোক্তাদের গুনতে হয় বাড়তি মূল্য। ‘কৃষকের হাট’ চালু হলে এই মধ্যবর্তী স্তর কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সারা দেশে কৃষক যাতে তার উৎপন্ন পণ্য সপ্তাহে একদিন হলেও সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রত্যেক জেলায় জেলা প্রশাসকরা ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা ধরনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এছাড়া অনেক সময় উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষিপণ্য চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায়। কৃষকের হাট মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটা ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে বাজারে আসবে স্বস্তি আসবে।

তিনি আরো বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করবেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজাউন নবী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতারা।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow