সিপিডি-টিআইবি-সুজন কী বললো তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই

4 months ago 54

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সিপিডি, টিআইবি, সুজন কী বললো এসব নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। ওরা সবাই বিএনপির সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলছে। বাস্তবের সঙ্গে কোনো মিল নেই। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে বিএনপির দণ্ডিত পলাতক নেতা তারেক রহমান লন্ডনে বসে আরাম-আয়েশে দিনযাপন করছে। টাকা পাচারের হিসাব মির্জা ফখরুল সাহেবকে দিতে হবে।

শনিবার (৮ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। সেখানে সিপিডি, টিআইবি, সুজনের প্রতিক্রিয়ার জবাবে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছে, এবারের বাজেটে সরকার মুনশিয়ানা দেখাতে পারেনি। কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দুর্নীতি সহায়ক। মাত্র ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার এমন সুবিধা সৎ ও বৈধ আয়ের ব্যক্তি করদাতাকে নিরুৎসাহিত করার সংস্কৃতি গড়ে তোলার পাশাপাশি এবং এর আওতায় ঘোষিত অর্থ ও সম্পদের ব্যাপারে কোনো কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন করার সুযোগ না রাখা দেশে দুর্নীতি সহায়ক একটি উদার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলেই শঙ্কা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংকটকালে পরিমিত, বাস্তবসম্মত, গণমুখী ও সাহসী হিসেবে অভিহিত করে স্বাগত জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। এবারের বাজেটের মূললক্ষ্য চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সংকট দূর এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে দেশের অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে উচ্চ গতিশীল অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে নেওয়া।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট দিলেও আওয়ামী লীগের অর্থমন্ত্রীদের ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ছুটোছুটি করার নজির নেই। বিএনপি আজকে বড় বড় কথা বলে, অর্থ পাচার, দুর্নীতি এবং দেশকে গিলে খাওয়ার কথা বলে। তাদের আমলে সর্বশেষ বাজেট ছিল ৬৮ হাজার কোটি টাকার। এরপরও বাজেটের আগে সাইফুর রহমানকে বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন ফোরামে প্যারিসের কনসোডিয়ামের বৈঠকে বাজেটের আগে দৌড়াতে হয়েছিল ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে। আমাদের কোন অর্থমন্ত্রী ভিক্ষা করতে যায়নি।

বরাবরের মতো আগামী বাজেটেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন সেতুমন্ত্রী। বলেন, দেশকে অর্থপাচার থেকে রক্ষা করা, যারা অজ্ঞাতসারে দেশের টাকা পাচার করে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ অর্থনীতির মূলধারায় আনার ব্যবস্থা করেছি। এর ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রবাহ বাড়বে বলে মনে করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, সুজিত রায় নন্দী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সায়েম খানসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এসইউজে/এমএএইচ/এএসএম

Read Entire Article