সিলেটে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু

সিলেট বিভাগে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে হাম ও নিউমোনিয়া। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একদিনে হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিভাগে হামের উপসর্গে একদিনে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম। একই সময়ে নতুন করে আরও ৪৩ আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই চার শিশুর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৫১ শিশুর মৃত্যু হলো। বর্তমানে বিভাগে ২৯৫ সন্দেহভাজন হাম রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যার ফলে চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে সিলেটের শাহপরাণ এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে আরাবি আহমদ (১ বছর ৩ মাস)। বাকি তিন শিশু সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মারা গেছে। তারা হল

সিলেটে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু

সিলেট বিভাগে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে হাম ও নিউমোনিয়া। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একদিনে হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিভাগে হামের উপসর্গে একদিনে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম। একই সময়ে নতুন করে আরও ৪৩ আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই চার শিশুর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৫১ শিশুর মৃত্যু হলো। বর্তমানে বিভাগে ২৯৫ সন্দেহভাজন হাম রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যার ফলে চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।

বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে সিলেটের শাহপরাণ এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে আরাবি আহমদ (১ বছর ৩ মাস)। বাকি তিন শিশু সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মারা গেছে। তারা হলো— সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কালারুকা গ্রামের ইসহাক আলীর ছেলে আলী আফসান (৬ মাস ২৭ দিন), মৌলভীবাজারের দুর্গানগরের ফারুক মিয়ার ছেলে নাফি ইসলাম (৫ মাস ১৭ দিন) এবং সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার নিপেশ রায়ের ছেলে নিলয় রায় (৬ মাস ১০ দিন)।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৮ জনে। এরমধ্যে সর্বোচ্চ সুনামগঞ্জে ৮৪ জন, সিলেটে ৪২ জন, মৌলভীবাজারে ১৬ জন এবং হবিগঞ্জে ১৬ জন (যার মধ্যে ২ জন রুবেলা আক্রান্ত) শনাক্ত হয়েছেন।

বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে ২৯৫ জন রোগী ভর্তি আছেন। এরমধ্যে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৯ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৫ জন চিকিৎসাধীন। এছাড়া অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালেও অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে মারা গেছে ৪ জন। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম কালবেলাকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৪৩ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে এবং মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow