সিলেটে চার বছরের শিশু হত্যা, অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর

সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। গ্রেপ্তার জাকির কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।  সোমবার (১১ মে) রাত দেড়টার দিকে সিলেটের জালালাবাদ থানা ঘেরাও করে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে বিস্কুট কিনতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজের দুই দিন পর পাশের একটি পুকুরপাড়ের ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত ফাহিমা স্থানীয় দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল স্থানীয় বাজারের একটি দোকানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় ফাহিমা প্রায়ই জাকিরের বাড়িতে যাতায়াত করত।

সিলেটে চার বছরের শিশু হত্যা, অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর

সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।

গ্রেপ্তার জাকির কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে। 

সোমবার (১১ মে) রাত দেড়টার দিকে সিলেটের জালালাবাদ থানা ঘেরাও করে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে বিস্কুট কিনতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজের দুই দিন পর পাশের একটি পুকুরপাড়ের ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহত ফাহিমা স্থানীয় দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল স্থানীয় বাজারের একটি দোকানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় ফাহিমা প্রায়ই জাকিরের বাড়িতে যাতায়াত করত। শিশু ফাহিমা সম্পর্কে জাকিরের ভাতিজি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার দিন বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে ফাহিমাকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যায় জাকির। সেখানে তাকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে মরদেহ পেঁচিয়ে একটি ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশের বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

শুক্রবার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে। সোমবার রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ জালালাবাদ থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ‘খুনির ফাঁসি চাই’ স্লোগান দিয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচার দাবি জানান।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ অভিযুক্ত জাকিরের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ বিষয়ে জালালাবাদ থানার শামসুল হাবিব জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে থানা হাজতে রাখা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ (মিডিয়া) মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, শিশু ফাহিমা হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের পর কিছু উত্তেজিত জনতা থানার সামনে জড়ো হয়ে তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। তবে আইনগতভাবে এমন কোনো সুযোগ নেই। এ সময় পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আসামির বাড়িতে যেন কোনো ধরনের হামলা বা ভাঙচুর না ঘটে, সেজন্য পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। হামলা বা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটি যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আসামিকে আগেই নিরাপত্তার সঙ্গে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে জনতা পুলিশের কাছ থেকে তাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।

এছাড়া এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি সাইফুল বিস্তারিত ব্রিফ করবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow