সিলেটে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, আতঙ্কে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা
টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও একাধিক পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এতে সিলেটের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন ও পিয়াইনসহ বিভিন্ন নদীর পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে পানির উচ্চতা গত কয়েক ঘণ্টায় বেড়েছে। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে বুধবার দুপুর ১২টায় পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৯২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৪০ মিটার। শেওলা পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১১ দশমিক ৪৫ মিটার। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা ১০ দশমিক ৮৫ মিটারের বিপরীতে পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ৩৬ মিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে বিপদসীমা ৮ দশমিক ৮৫ মিটারের বিপরীতে পানির সমতল ছিল ৮ দশমিক ২৭ মিটার। এসব পয়েন্টে পানি এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৩
টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও একাধিক পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এতে সিলেটের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন ও পিয়াইনসহ বিভিন্ন নদীর পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে পানির উচ্চতা গত কয়েক ঘণ্টায় বেড়েছে। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে বুধবার দুপুর ১২টায় পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৯২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৪০ মিটার। শেওলা পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১১ দশমিক ৪৫ মিটার।
এছাড়া কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা ১০ দশমিক ৮৫ মিটারের বিপরীতে পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ৩৬ মিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে বিপদসীমা ৮ দশমিক ৮৫ মিটারের বিপরীতে পানির সমতল ছিল ৮ দশমিক ২৭ মিটার। এসব পয়েন্টে পানি এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৩০ মিটার। সেখানে বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। সিলেট পয়েন্টে বিপদসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটারের বিপরীতে পানির সমতল ছিল ৯ দশমিক ৪২ মিটার। তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই পয়েন্টেই পানি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
অন্যদিকে সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১০ দশমিক ৯০ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ০৫ মিটার। গোয়াইনঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮২ মিটারের বিপরীতে পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ৪১ মিটার। পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ১১ মিটার। লোভাছড়া নদীর সোনাতলা পয়েন্টে ১২ দশমিক ৯০ মিটার এবং ধলাই নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে ৯ দশমিক ৩৫ মিটার পানি রেকর্ড করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো নদীর কোনো পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ কালবেলাকে বলেন, মেঘালয়ে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আগামী তিন দিনও সেখানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সিলেটের অমলশিদ, কানাইঘাট ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে সিলেট অঞ্চল মেঘালয়ের ঢলের পানির জন্য একটি ‘বাইপাস ওয়ে’ হিসেবে কাজ করায় পানি দ্রুত সুনামগঞ্জ হয়ে মেঘনায় নেমে যাবে। ফলে সম্ভাব্য বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং দুই থেকে ৩ দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো নদীর পানিই বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। দুপুর ১২টা পর্যন্ত অমলশিদ, সিলেট সদর ও কানাইঘাট সব পয়েন্টেই পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে এবং সিলেট শহরের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক। তবে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি হিসেবে বাড়িঘরে পানি ওঠার আগেই শুকনো খাবার সংরক্ষণ ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
What's Your Reaction?