সীমান্তের কঠোর নিরাপত্তা ভেঙে ইসরায়েলে লেবানিজ যুবকের হানা

লেবাননের সমস্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী ও আধুনিক নজরদারি ফাঁকি দিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ঢুকে এক লেবানিজ যুবকের একক সামরিক অভিযানের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলের ভেতরে প্রবেশ করা ওই যুবককে দীর্ঘ সময় ধরে চিরুনি তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF)। ইসরায়েলি শীর্ষ সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট (The Jerusalem Post) এবং দ্য টাইমস অব ইসরায়েল (The Times of Israel)-এর ৯ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আরব অঞ্চলের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ওই যুবকের নাম হামজা মাহমুদ। তার গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ লেবাননের মারকাবা গ্রামে হলেও তিনি মূলত রাজধানী বৈরুতে বসবাস করতেন। গত পরশু তিনি সম্পূর্ণ একা একটি মোটরসাইকেলে চড়ে বৈরুত থেকে দক্ষিণ লেবাননের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সীমান্ত এলাকার কঠোর প্রহরা এড়াতে তিনি প্রথমে দক্ষিণ লেবাননের একটি উপত্যকায় রাত কাটান এবং পরে সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরায়েলের ‘মার্গালিওট’ সেটেলমেন্টের কাছাকাছি একটি এলাকায় প্রবেশ করেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (IDF) অফিসিয়াল বিবৃতির বরাতে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ৯

সীমান্তের কঠোর নিরাপত্তা ভেঙে ইসরায়েলে লেবানিজ যুবকের হানা

লেবাননের সমস্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী ও আধুনিক নজরদারি ফাঁকি দিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ঢুকে এক লেবানিজ যুবকের একক সামরিক অভিযানের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলের ভেতরে প্রবেশ করা ওই যুবককে দীর্ঘ সময় ধরে চিরুনি তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF)। ইসরায়েলি শীর্ষ সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট (The Jerusalem Post) এবং দ্য টাইমস অব ইসরায়েল (The Times of Israel)-এর ৯ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আরব অঞ্চলের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ওই যুবকের নাম হামজা মাহমুদ। তার গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ লেবাননের মারকাবা গ্রামে হলেও তিনি মূলত রাজধানী বৈরুতে বসবাস করতেন। গত পরশু তিনি সম্পূর্ণ একা একটি মোটরসাইকেলে চড়ে বৈরুত থেকে দক্ষিণ লেবাননের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সীমান্ত এলাকার কঠোর প্রহরা এড়াতে তিনি প্রথমে দক্ষিণ লেবাননের একটি উপত্যকায় রাত কাটান এবং পরে সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরায়েলের ‘মার্গালিওট’ সেটেলমেন্টের কাছাকাছি একটি এলাকায় প্রবেশ করেন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (IDF) অফিসিয়াল বিবৃতির বরাতে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ৯ জুন দুপুরের দিকে সামরিক ইউনিফর্ম পরিহিত ওই যুবক সীমান্ত রেখার একটি পরিত্যক্ত গার্ড পোস্টের আড়ালে অবস্থান নিয়ে আচমকা ইসরায়েলি লজিস্টিক টিম ও টহলরত সেনাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করেন। হামলার পরপরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পুরো গ্যালিলি প্যানহ্যান্ডেল এলাকা সিল করে দেয় এবং অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার আশঙ্কায় সীমান্তসংলগ্ন তিনটি শহর—মিসগাভ আম, মার্গালিওট এবং মানারার বেসামরিক বাসিন্দাদের অনতিবিলম্বে আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টারে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পুরো এলাকা লকডাউন করা হয় বলে দ্য জেরুজালেম পোস্ট উল্লেখ করেছে। তাকে খুঁজে বের করতে আকাশে বিমান বাহিনীর ড্রোন ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘক্ষণ অনুসন্ধানের পর একপর্যায়ে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে তীব্র গোলাগুলিতে ঘটনাস্থলেই ওই যুবক নিহত হন।

সামরিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, লেবানন সীমান্ত থেকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে রকেট বা ড্রোন হামলা নিয়মিত ঘটনা হলেও স্থলপথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভেতরে ঢুকে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত দুরূহ ও বিরল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর সীমান্ত পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে আক্রমণের এমন ঘটনা আর ঘটেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঘটনাটিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় ধাক্কা ও বিব্রতকর পরিস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হামলার পরপরই এটি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহর অভিযান বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। তবে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো পরবর্তীতে জানিয়েছে যে, নিহত হামজা মাহমুদের সঙ্গে হেজবুল্লাহ বা অন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এটি ছিল সম্পূর্ণ তার নিজস্ব পরিকল্পনা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত একটি ‘লোন উলফ’ (Lone Wolf) অভিযান। বিশ্লেষকদের মতে, নিজের মাতৃভূমি ও গ্রামের ওপর ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলার ক্ষোভ থেকেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

একই সঙ্গে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে লেবানন সরকারের নীরব ভূমিকার বিরুদ্ধে এটি দেশের সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে একটি শক্ত প্রতিরোধের বার্তা বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করে।

উল্লেখ্য, আমি শুধু বানান, ব্যাকরণ ও ভাষাগত শুদ্ধতা সংশোধন করেছি। লেখাটির তথ্যগত সত্যতা বা দাবিগুলো আলাদাভাবে যাচাই করিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow