সুতা, রং, রাসায়নিক আমদানিসহ ৪ দাবিতে তাঁতবোর্ড ঘেরাও

দেশের ৬০ লাখ তাঁত শ্রমিকের ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তাঁতবোর্ড ঘেরাওসহ সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে তাঁতিরা। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং সুতা, রং রাসায়নিক আমদানি অব্যাহত রাখার দাবিতে রোববার (৪ জানুয়ারি) এই কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তাঁতি নেতারা বলেন, এর আগে তাঁতবোর্ডের সহায়তায় সুতা, রং রাসায়নিক আমদানি করে স্বস্তিতে ব্যাবসা করতেছিলেন তাঁতিরা। কিন্তু তাঁতবোর্ড গত দেড় বছরে তাদের সুতা, রং রাসায়নিক আমদানি সুপারিশ করেনি। ফলে খোলা বাজারে এসবের মূল্য দ্বিগুণ বেড়েছে। আগে যে কাপড়টি তৈরি করতে খরচ হতো ৫০০ টাকা, সেটি এখন তৈরি করতে খরচ হচ্ছে ১ হাজার টাকা। এ কারণে দেশের অধিকাংশ তাঁত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছেন। এভাবেই এখন তাঁতশিল্প এখন ধ্বংসের পথে। তারা বলেন, নতুনভাবে বাংলাদেশ জাতীয় তাঁতি সমিতি অনুমোদনের পর কোনো সুপারিশের মালামাল আমদানি বা বণ্টন কোনো কিছুই দেওয়া হয়নি। শুধু জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে দেশের তাঁতিরা প্রতিদিন লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এক সময় বাংলাদেশের তাঁতশিল্প বিলুপ্ত

সুতা, রং, রাসায়নিক আমদানিসহ ৪ দাবিতে তাঁতবোর্ড ঘেরাও

দেশের ৬০ লাখ তাঁত শ্রমিকের ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তাঁতবোর্ড ঘেরাওসহ সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে তাঁতিরা। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং সুতা, রং রাসায়নিক আমদানি অব্যাহত রাখার দাবিতে রোববার (৪ জানুয়ারি) এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তাঁতি নেতারা বলেন, এর আগে তাঁতবোর্ডের সহায়তায় সুতা, রং রাসায়নিক আমদানি করে স্বস্তিতে ব্যাবসা করতেছিলেন তাঁতিরা। কিন্তু তাঁতবোর্ড গত দেড় বছরে তাদের সুতা, রং রাসায়নিক আমদানি সুপারিশ করেনি। ফলে খোলা বাজারে এসবের মূল্য দ্বিগুণ বেড়েছে। আগে যে কাপড়টি তৈরি করতে খরচ হতো ৫০০ টাকা, সেটি এখন তৈরি করতে খরচ হচ্ছে ১ হাজার টাকা। এ কারণে দেশের অধিকাংশ তাঁত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছেন। এভাবেই এখন তাঁতশিল্প এখন ধ্বংসের পথে।

তারা বলেন, নতুনভাবে বাংলাদেশ জাতীয় তাঁতি সমিতি অনুমোদনের পর কোনো সুপারিশের মালামাল আমদানি বা বণ্টন কোনো কিছুই দেওয়া হয়নি। শুধু জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে দেশের তাঁতিরা প্রতিদিন লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এক সময় বাংলাদেশের তাঁতশিল্প বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

তারা আরও বলেন, এনবিআর থেকে জারি করা শর্ত সম্পূর্ণ পরিপালন করেই তাঁতিরা মালামাল আমদানি করে আসছে। এর বাইরে কোনো নতুন শর্ত সাধারণ তাঁতিরা মানতে রাজি নয়। কৌসুলে বিতর্কিত তাঁতবোর্ডের কর্মকর্তারা তাঁতিদের স্বার্থবিরোধী মতামত মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।

তাঁতবোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি পালনকালে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তাঁতি মো. আশরাফ আলী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানা মাধ্যমিক তাঁতি সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, বেনারশী পল্লী মীরপুরের সাধারণ সম্পাদক কাশেম, মীরপুর ২ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাবেক সভাপতি শামিম আক্তার সিদ্দিক, মীরপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাবেক সভাপতি আবু হানিফ মোল্লা, মীরপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাবেক সভাপতি রফিক, মিরপুরের তাঁতি নেতা, আবুল কালাম, শাহজাদপুর পৌরসভা ৬ নম্বর প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সদস্য মোহাম্মদ আশরাফ আলী, উল্লাপাড়া দুর্গানগর ইউনিয়ন ৯ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সদস্য ইউসুফ আলী, সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদ ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সভাপতি আব্দুল গনি মোল্লাসহ অনেকে।

যে ৪ দাবিতে তাঁতবোর্ড ঘেরাও

১. আওয়ামী দোসর খ্যাত কর্মকর্তা দ্বারা চলমান এস আর বন্ধের পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে।

২. বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের বিতর্কিত মেম্বার ও ডিজিএম থেকে অবৈধ হস্তক্ষেপের ফলে তাঁতিদের আমদানি সুপারিশ বন্ধের অলিখিত নির্দেশ প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তাঁতিদের আমদানি সুপারিশ চালু করতে হবে।

৩. তাঁতিদের স্বার্থবিরোধী, অযোগ্য তাঁত বোর্ডের মেম্বর দেবাশীষ নাগ এবং ডিজিএম রতন চন্দ্র সাহার অপসারণ করতে হবে

৪. ৪০ বছর ধরে ঝুলে রাখা মিরপুরের বেনারসি ভাষানটেক প্রকল্পে তাঁতিদের দ্রুত পূর্নবাসন করতে হবে।

এমআইএইচএস/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow