সুন্দরগঞ্জে শোকের দিনেই গরিব-দুঃখিদের মাছ গেল কর্মকর্তাদের ঝুলিতে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে উপজেলা পরিষদের সরকারি পুকুরের মাছ উত্তোলন ও তা গরিব-দুঃখীদের পরিবর্তে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগাভাগির অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় শোকের আবহে এমন ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।বুধবার এ ঘটনা ঘটে। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশব্যাপী তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছিল। শোকের প্রথম দিনটি ছিল সাধারণ ছুটির দিন। ঠিক সেই দিনেই সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সরকারি পুকুর থেকে মাছ উত্তোলন করে উপজেলা প্রশাসন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) অর্থে প্রতিবছর ওই পুকুরে মাছ অবমুক্ত করা হয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এসব মাছ উত্তোলনের পর তা গরিব, দুঃখী, দুস্থ মানুষ ও এতিমখানায় বিতরণ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা অনুসরণ না করে আনসার সদস্যদের পাহারায় ভ্যানে করে মাছভর্তি বস্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকেই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে মাছ ভাগ করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে

সুন্দরগঞ্জে শোকের দিনেই গরিব-দুঃখিদের মাছ গেল কর্মকর্তাদের ঝুলিতে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে উপজেলা পরিষদের সরকারি পুকুরের মাছ উত্তোলন ও তা গরিব-দুঃখীদের পরিবর্তে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগাভাগির অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় শোকের আবহে এমন ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বুধবার এ ঘটনা ঘটে। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশব্যাপী তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছিল। শোকের প্রথম দিনটি ছিল সাধারণ ছুটির দিন। ঠিক সেই দিনেই সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সরকারি পুকুর থেকে মাছ উত্তোলন করে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) অর্থে প্রতিবছর ওই পুকুরে মাছ অবমুক্ত করা হয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এসব মাছ উত্তোলনের পর তা গরিব, দুঃখী, দুস্থ মানুষ ও এতিমখানায় বিতরণ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা অনুসরণ না করে আনসার সদস্যদের পাহারায় ভ্যানে করে মাছভর্তি বস্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকেই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে মাছ ভাগ করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা পরিষদের এক কর্মচারী জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশেই পুকুর থেকে মাছ তোলা হয়। পরে কর্মকর্তা ও অফিস স্টাফদের মধ্যে মোট ৩২ ভাগে মাছ ভাগ করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাদের ভাষ্য, মাছ ধরা সাধারণত উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি করে। যেখানে সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছিল, সেখানে হৈ-হুল্লোড় করে মাছ ধরা এবং তা গরিবদের মাঝে বিতরণ না করে কেবল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগাভাগি করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি গণমাধ্যমকে বলেন, “গত দুই বছর ধরে পুকুরের মাছ তোলা হয়নি। মাছ বড় হয়েছে কি না, তা দেখার জন্য কিছু মাছ তোলা হয়েছিল। পরে যখন আবার মাছ তোলা হবে, তখন গরিব-দুঃখীদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow