‘সুপার’ এল নিনোতে ১০টি বড় বিপদের শঙ্কা

চলতি বছর থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত একটি শক্তিশালী বা ‘সুপার’ এল নিনো দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে, যা বিশ্বের আবহাওয়া, খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানেরএক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য ১০টি বড় ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন— ১. খরা ও খাদ্য সংকট আফ্রিকা, এশিয়া ও অন্যান্য বৃষ্টিনির্ভর কৃষি অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে। ফলে ফসল উৎপাদন কমে গিয়ে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে পারে এবং দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ২. বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহে ধাক্কা গম, ধান, ভুট্টা ও সয়াবিনের উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৩. দাবানলের ঝুঁকি বৃদ্ধি দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের দাবানল দেখা দিতে পারে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। ৪. অতিবৃষ্টি ও বন্যা কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হতে পারে। এতে বন্যা, ভূমিধস ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে। ৫. কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি

‘সুপার’ এল নিনোতে ১০টি বড় বিপদের শঙ্কা

চলতি বছর থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত একটি শক্তিশালী বা ‘সুপার’ এল নিনো দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে, যা বিশ্বের আবহাওয়া, খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানেরএক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য ১০টি বড় ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন—

১. খরা ও খাদ্য সংকট

আফ্রিকা, এশিয়া ও অন্যান্য বৃষ্টিনির্ভর কৃষি অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে। ফলে ফসল উৎপাদন কমে গিয়ে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে পারে এবং দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

২. বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহে ধাক্কা

গম, ধান, ভুট্টা ও সয়াবিনের উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

৩. দাবানলের ঝুঁকি বৃদ্ধি

দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের দাবানল দেখা দিতে পারে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

৪. অতিবৃষ্টি ও বন্যা

কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হতে পারে। এতে বন্যা, ভূমিধস ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে।

৫. কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি

তাপমাত্রা বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। ফলে ভারত ও চীনের মতো দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়তে পারে।

৬. বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

খরার কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও ব্ল্যাকআউটের ঝুঁকি তৈরি হবে।

৭. মাছের উৎপাদন কমে যাওয়া

সমুদ্রের স্বাভাবিক পুষ্টি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় মাছের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। এতে বিভিন্ন দেশে মাছ ধরা কমে যাবে।

৮. সার নিয়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা

ফসল রক্ষায় সারের চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে। ফলে সার রপ্তানি ও বাণিজ্য নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ বাড়তে পারে।

৯. তাপজনিত অসুস্থতা বৃদ্ধি

অতিরিক্ত গরমে কৃষি ও নির্মাণ শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন তাপজনিত রোগের ঘটনা বৃদ্ধি পেতে পারে।

১০. সংঘাত ও অস্থিরতা

খাদ্য সংকট, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে। কিছু দেশে সংঘাত ও সহিংসতার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো আবহাওয়াজনিত সমস্যা হলেও এটি খাদ্য, জ্বালানি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow