সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের আপিল শুনানি ১ সেপ্টেম্বর
সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে স্বাধীন পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আপিলের শুনানি আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ শুনানি মুলতবি করে এ আদেশ দেন। আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং আপিলকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম নিজে উপস্থিত ছিলেন। বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান। গত ৮ জুন আপিল বিভাগ সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ-সংবলিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে আপিল শুনানির জন্য আজকের দিন (১৬ জুন) ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের সঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন)সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ও কার্যতালিকার (কজলিস্ট) ওঠে। এ বিষয়ে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল সময়ের প্রার্থনা করেন। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়-সংক্রান্ত আপিল মামলা শ
সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে স্বাধীন পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আপিলের শুনানি আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ।
রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ শুনানি মুলতবি করে এ আদেশ দেন।
আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং আপিলকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম নিজে উপস্থিত ছিলেন। বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান।
গত ৮ জুন আপিল বিভাগ সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ-সংবলিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে আপিল শুনানির জন্য আজকের দিন (১৬ জুন) ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের সঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন)সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ও কার্যতালিকার (কজলিস্ট) ওঠে।
এ বিষয়ে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল সময়ের প্রার্থনা করেন। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়-সংক্রান্ত আপিল মামলা শুনানি ১ সেপ্টেম্বর হবে। এর আগে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য (কজলিস্টে) কার্যতালিকায় ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ এটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাত আইনজীবীর করা এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিষয়ে বলা আছে।
গত ৭ এপ্রিল তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর পর রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। এর আগে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন প্রণয়ন হয় গত ১০ এপ্রিল। তার আগে, অর্থাৎ ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় যেভাবে চলছিল, সে অবস্থায় রাখতে স্থিতাবস্থা চেয়ে আবেদনসহ আপিল করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন)সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। আর এই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই স্থিতাবস্থা চাওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের সূত্র ধরে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত ২০ এপ্রিল আপিলটি করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইনে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়-সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা দুটি অধ্যাদেশ রহিত করা হয়।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হবে; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে ন্যস্ত বাজেট, গৃহীত প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত ও ন্যস্ত হবে এবং সচিবালয়ের জন্য সৃজন করা পদগুলো বিলুপ্ত হবে বলে রহিতকরণ আইনে উল্লেখ রয়েছে। আইনের এসব বিধানের কার্যক্রম আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত চাওয়া হয়েছে বদিউল আলম মজুমদারের করা আবেদনে।
এরও আগে সাত আইনজীবীর করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা এবং ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া সংবিধান ও আইনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা জড়িত থাকায় আপিলের জন্য সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। এর ফলে সরাসরি আপিল করার সুযোগ তৈরি হয়। গত ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়।
হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ শিরোনামে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। একই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করা হয় এবং সচিবালয়ের যাত্রা শুরু হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। বিরোধীদলের আপত্তি নাকচ করে গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়। পরদিন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন হয়।
সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আপিল করতে হলফনামার জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন বদিউল আলম মজুমদার, যা ১৯ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে ওঠে। আদালত হলফনামার অনুমতি দেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০ এপ্রিল আপিলটি করা হয় বলে জানান বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী কারিশমা জাহান।
এফএইচ/এমএএইচ/
What's Your Reaction?