সুশাসনের অভাবেই ব্যাংক খাত ভঙ্গুর অবস্থায়: ডেপুটি গভর্নর

ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও ন্যায্যতার চারটি ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার। তিনি বলেন, সুশাসনের ঘাটতির কারণেই দেশের ব্যাংক খাত ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ নয়-ছয়ের ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রোববার (৭ জুন) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নুরুন নাহার বলেন, সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো জবাবদিহি, দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা। এই চারটি স্তম্ভ শক্তিশালী হলে ব্যাংক খাতে প্রকৃত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব। কিন্তু নির্ধারিত নীতিমালা ও করপোরেট গভর্ন্যান্স যথাযথভাবে অনুসরণ না হওয়ায় এই খাতে নানা সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক আগেই করপোরেট গভর্ন্যান্স সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছিল। সেখানে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন ন

সুশাসনের অভাবেই ব্যাংক খাত ভঙ্গুর অবস্থায়: ডেপুটি গভর্নর

ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও ন্যায্যতার চারটি ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার।

তিনি বলেন, সুশাসনের ঘাটতির কারণেই দেশের ব্যাংক খাত ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ নয়-ছয়ের ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

রোববার (৭ জুন) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুন নাহার বলেন, সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো জবাবদিহি, দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা। এই চারটি স্তম্ভ শক্তিশালী হলে ব্যাংক খাতে প্রকৃত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব। কিন্তু নির্ধারিত নীতিমালা ও করপোরেট গভর্ন্যান্স যথাযথভাবে অনুসরণ না হওয়ায় এই খাতে নানা সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক আগেই করপোরেট গভর্ন্যান্স সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছিল। সেখানে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় সুশাসন নিশ্চিত করা যায়নি।

এই ডেপুটি গভর্নর বলেন, ব্যাংকের অধিকাংশ অর্থই আমানতকারীদের। তারা আস্থার ভিত্তিতে ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন। কিন্তু ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ করলে বা ঋণ যথাযথভাবে আদায় করতে না পারলে তার প্রভাব পড়ে তারল্য সংকটে। তখন আমানতকারীরা নিজেদের অর্থ তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ঋণ নেওয়ার সময়ই কিছু গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা থাকে না। তাই ঋণগ্রহীতা নির্বাচনে সতর্কতা জরুরি। ঋণ সঠিক খাতে ব্যবহার হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

নুরুন নাহার বলেন, অতীতে ব্যাংক খাতে যেসব অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে, তার অনেক কিছুই গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে সামনে এসেছে। এসব তথ্য প্রকাশ পাওয়ার ফলে জনগণ প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম না থাকলে অনেক অনিয়মই কার্পেটের নিচে চাপা পড়ে থাকত। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে অনেক অনিয়ম প্রকাশ পেয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদেরও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে।

গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ব্যাংক খাতের বিভিন্ন তথ্য জানতে পারেন। এর ফলে তারা কোন ব্যাংকে অর্থ রাখবেন, কোন ব্যাংকের সেবা ভালো—এসব বিষয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কাছে নতি স্বীকার না করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিদ্যমান নীতিমালা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও অর্থপাচারবিরোধী নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে ব্যাংক খাতের পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে সুশাসন, জবাবদিহি ও নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ব্যাংক খাত আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল হয়ে উঠবে।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. মো. মাশহিদুল ইসলাম জাহিদ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইআরএফ সদস্য ওবায়দুল্লাহ রনি এবং সানাউল্লাহ সাকিব (তনু)।

ইএআর/ইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow