সূর্যপৃষ্ঠের সবচেয়ে স্পষ্ট ছবিতে দেখা মিলল নতুন রহস্যের
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর দূরবীক্ষণযন্ত্র ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এবার সূর্যের পৃষ্ঠের এমন কিছু ছবি ধারণ করেছেন, যা এ যাবৎকালে সূর্যের সেরা ছবি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে এতটা সূক্ষ্ম ও বিস্তারিতভাবে দেখা সম্ভব হয়নি সূর্যকে। নতুন এসব ছবি ও ভিডিওতে সূর্যপৃষ্ঠের ৫০০ থেকে ২ হাজার কিলোমিটারজুড়ে এমন কিছু ‘ঘূর্ণাবর্তের’ দৃশ্য দেখা গেছে, যা আগে কখনো পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব ছিল না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সূর্যের এই ঘূর্ণন আসলে তার নিজের চৌম্বক ক্ষেত্রের ওপর উত্তপ্ত গ্যাসের গতিশীলতার প্রভাব। গরম গ্যাসের অবিরাম সঞ্চালনের কারণে সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্র পাক খেতে থাকে এবং স্থান পরিবর্তন করে। এই নিরন্তর ঘূর্ণনই সূর্য থেকে বিপুল শক্তির বিস্ফোরণ ঘটানোর অন্যতম চালিকাশক্তি। এতে তৈরি হয় ‘মহাকাশ আবহাওয়া’ বা স্পেস ওয়েদার, যা পৃথিবীর বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ও কৃত্রিম উপগ্রহে বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম। এমনকি এটি মহাকাশচারীদেরও ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরির (এনএসও) ড. ডেভিড ববোল্টজ বলেন, ‘সূর্যই সেই শক্তির উৎস এবং সব ধরনের মহাকাশ আবহাওয়ারও উৎস।’
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর দূরবীক্ষণযন্ত্র ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এবার সূর্যের পৃষ্ঠের এমন কিছু ছবি ধারণ করেছেন, যা এ যাবৎকালে সূর্যের সেরা ছবি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে এতটা সূক্ষ্ম ও বিস্তারিতভাবে দেখা সম্ভব হয়নি সূর্যকে। নতুন এসব ছবি ও ভিডিওতে সূর্যপৃষ্ঠের ৫০০ থেকে ২ হাজার কিলোমিটারজুড়ে এমন কিছু ‘ঘূর্ণাবর্তের’ দৃশ্য দেখা গেছে, যা আগে কখনো পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব ছিল না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সূর্যের এই ঘূর্ণন আসলে তার নিজের চৌম্বক ক্ষেত্রের ওপর উত্তপ্ত গ্যাসের গতিশীলতার প্রভাব। গরম গ্যাসের অবিরাম সঞ্চালনের কারণে সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্র পাক খেতে থাকে এবং স্থান পরিবর্তন করে। এই নিরন্তর ঘূর্ণনই সূর্য থেকে বিপুল শক্তির বিস্ফোরণ ঘটানোর অন্যতম চালিকাশক্তি। এতে তৈরি হয় ‘মহাকাশ আবহাওয়া’ বা স্পেস ওয়েদার, যা পৃথিবীর বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ও কৃত্রিম উপগ্রহে বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম। এমনকি এটি মহাকাশচারীদেরও ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরির (এনএসও) ড. ডেভিড ববোল্টজ বলেন, ‘সূর্যই সেই শক্তির উৎস এবং সব ধরনের মহাকাশ আবহাওয়ারও উৎস।’
তিনি বলেন, ‘সূর্যের আরও বিস্তারিত ছবি ধারণ করতে পারলে মহাকাশ আবহাওয়ার মোকাবিলায় আরও কার্যকরভাবে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া মহাকাশ আবহাওয়া বোঝার এবং শেষ পর্যন্ত তা পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য আমাদের সূর্যের পদার্থবিজ্ঞান বুঝতে হবে, একেবারে ক্ষুদ্রতম মাত্রা পর্যন্ত।’
ববোল্টজ আরও বলেন, ‘আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার প্রথম পরীক্ষামূলক প্রমাণও পাওয়া গিয়েছিল সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে। শুধু মানবজ্ঞানকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যই আমাদের এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যেতে হবে।’
এনএসওর জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. ডেভিড কুরিদজে বিবিসিকে বলেন, ‘এই পাক খাওয়া বা ঘূর্ণন গতিবিধিই চৌম্বকীয় শক্তি তৈরি করছে। সেই শক্তি জমে গিয়ে পরবর্তী সময়ে বড় আকারের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।’
এনএসওর আরেক বিজ্ঞানী ড. ফ্রিডরিখ ভোয়েগার বলেন, সূর্যের পৃষ্ঠে এই অস্থিতিশীলতার সন্ধান পাওয়ায় শুধু মহাকাশ আবহাওয়ার পেছনে থাকা গতিবিদ্যাই বোঝা যাচ্ছে না, বরং সূর্যের পৃষ্ঠ এত উত্তপ্ত কেন, তারও ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। এই পর্যবেক্ষণ থেকে কীভাবে শক্তি সূর্যের ওপরের স্তরগুলোর দিকে পরিবাহিত হয় তা জানা সম্ভব হয়েছে।
বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল মূলত সম্ভব হয়েছে ইনোয়ে সোলার টেলিস্কোপের মাধ্যমে। হাওয়াইয়ের একটি উঁচু পর্বতচূড়ায় মার্কিন ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের এই সৌর দূরবীক্ষণযন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ধুলাবালি কম এবং আকাশ সাধারণত পরিষ্কার ও নীল থাকে। ফলে সূর্যের পৃষ্ঠে আরও গভীরভাবে নজর দিয়ে গবেষকরা সেখানে ঘূর্ণায়মান ভর্টেক্স বা ঘূর্ণাবর্তের অত্যন্ত বিস্তারিত চিত্র ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন। সূর্যের পৃষ্ঠে বিজ্ঞানীরা যে ঘটনাটি শনাক্ত করেছেন, তাকে বলা হয় ‘কেলভিন-হেলমহোল্টজ অস্থিতিশীলতা।’ এই ঘটনা ঘটে যখন দুটি তরল বা গ্যাসীয় স্তর পাশাপাশি ভিন্ন গতিতে প্রবাহিত হয় এবং একে অপরের ওপর দিয়ে সরে যায়। যার ফলে সৃষ্ট ক্ষুদ্র অস্থিরতাগুলো ধীরে ধীরে বড় হয়ে পাক খেতে থাকা ঘূর্ণাবর্তে পরিণত হয়।
সূত্র: বিবিসি
What's Your Reaction?