টাঙ্গাইলে ধলেশ্বরী নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চরাঞ্চলের ৩০ হাজার মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের শেষ থাকে না।
টাঙ্গাইল শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিমে মাহমুদনগর ইউনিয়ন। প্রায় ২৪টি গ্রাম নিয়ে ৩০ হাজার মানুষের বসবাস এ ইউনিয়নে। আট বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ ইউনিয়নে চার হাজার ২০০টি পরিবারের বসবাস। নদীর পলিমাটির পাঁচ হাজার ১২৫ একর আবাদি জমি এবং ১৫টি বিল নিয়ে জলধারা রয়েছে ২২টি। রয়েছে একটিমাত্র ডাকঘর।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়ন সংলগ্ন গোলচত্বর থেকে ধলেশ্বরী নদী পাড়ি দিয়ে মাহমুদনগরের মাকোরকোল গ্রামে যেতে হয়। গোলচত্বর ও মাকোরকোলের মাঝখান দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার প্রশস্ত ধলেশ্বরী নদী। পাশের নাগরপুর ও সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা থেকে মাহমুদনগরের মাকোরকোলে নদীতীরে এসে ওই এলাকার মূল পাকা সড়ক পৌঁছেছে। তবে ধলেশ্বরী নদীতে একটি সেতুর অভাবে পারাপারে ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন মাহমুদনগর ইউনিয়নের মানুষ।
মাহমুদনগর ইউনিয়নের সিঙ্গাপুর প্রবাসী রিফাতুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘একটা ব্রিজের অভাবে মাহমুদনগর ইউনিয়নবাসীকে দীর্ঘকাল ধরে অবহেলিত থাকতে হচ্ছে। ফলে এ এলাকার জীবনযাত্রার মান মূলধারার জীবমানের সঙ্গে খাপ খায় না। এখনো অনেকটা অন্ধকারে রয়েছেন এলাকার মানুষ।’
স্থানীয় কৃষক মুন্নাফ আলী, আব্দুল জব্বার ও আরফান আলী জাগো নিউজকে বলেন, ধলেশ্বরী নদীতে সেতু না থাকায় তারা কৃষিপণ্য চাষ করেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। উৎপাদিত ফসল বিক্রির জন্য সময়মতো বাজারে নিয়ে যেতে পারেন না। খেয়া পাড়ি দিয়ে বা নদীর তপ্তবালু পেরিয়ে হাট-বাজারে যেতে সময় বেশি লাগে। খরচও অনেক বেশি হয়। এজন্য শহরে পণ্য বিক্রি করে পোষায় না। গ্রামেও বিক্রি করলে দাম অনেক কম হয়।
মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শান্তা আক্তার, শামসুন্নাহার ও আরশেদ আলী বলেন, ‘বর্ষাকালে নৌকায় আর অন্য সময় তপ্তবালু পথে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। নদীতে একটি সেতু হলে কষ্ট লাঘব হতো।’
স্থানীয় ভ্যানচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষায় নদীপথে নৌকায় ভ্যান উঠানো আবার অন্য সময়ে বালুপথে ভ্যান চালানো খুবই কষ্টের। বর্ষায় খেয়া নৌকায় ভ্যান ওঠাতে গেলে অনেক সময় নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। সেতুর অভাবে আমরা অনেক কষ্টে আছি।’
এ বিষয়ে মাহমুদনগর ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম শিকদার বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন আমার ইউনিয়নের অভিভাবক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নিয়ে টেন্ডার করিয়েছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। মাহমুদনগর ইউনিয়নের উন্নয়নের স্বার্থে, মানুষের কষ্ট লাঘবে জরুরিভাবে সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, গোলচত্বরের ওখানে ধলেশ্বরী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা ও প্রাথমিক পরিমাপ করা হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার প্রস্থের ধলেশ্বরী নদীতে সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। খুব শিগগির প্রাথমিক প্রাক্কলন তৈরি করে অনুমোদনের জন্য এলজিইডি ভবনে প্রস্তাব পাঠানো হবে। অনুমোদন ও অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আব্দুল্লাহ আল নোমান/এসআর/এমএস