সেরনিয়াবাত পরিবারের ইমামের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা দখলের অভিযোগ

13 hours ago 5

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত মাওলানা মির্জা নূরুর রহমান বেগ। এমনকি সেরনিয়াবাত পরিবারের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেই মোনাজাত ধরতেন মির্জা নূরুর রহমান বেগ। যার ফলে তিনি সেরনিয়াবাত পরিবারের ইমাম হিসেবে নগরীতে পরিচিত। এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর নায়েবে আমির।

সম্প্রতি মাদ্রাসা দখলের অভিযোগ উঠেছে মির্জা নুরুর রহমান বেগ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এমনকি যার জমিতে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ ও মাদ্রাসা সেখানে তাদের ঢুকতে দিচ্ছেন না তারা। 

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) জমি দখলের ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জমির মালিকের ভাইয়ের ছেলে আসাদুজ্জামান বেগ।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান কালবেলাকে বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত করে দেখছি। তাছাড়া শুক্রবার ওই জমিতে প্রতিষ্ঠিত মসজিদে নামাজ আদায় নিয়েও কিছু ঝামেলা হয়েছে শুনেছি।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বরিশাল রূপাতলীতে মির্জা আবু জাফর বেগের ক্রয়কৃত ৪৫ শতাংশ জমিতে ইসলামিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। ইসলাম প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় চাচাতো ভাই এনায়েতুর রহমানের নামে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ নিয়ে এনায়েতুর রহমান কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই প্রতিষ্ঠান এনায়েতুর রহমানের সন্তান মির্জা নূরুর রহমান বেগ ও তার স্বজনরা পরিচালনা করতেন। পরে প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের জন্য আবু জাফর বেগ আরও অর্থ প্রদান করলে নূরুর রহমান বেগ ও তার ভাইয়েরা নতুন করে ১৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন প্রতিষ্ঠানের নামে।

অভিযোগকারী আসাদুজ্জামান বেগ বলেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় আমার চাচা আবু জাফর বেগ আমেরিকা থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সহায়তা করতেন। কিন্তু নূরুর রহমান বেগ ও তার ভাইয়েরা মসজিদ মাদ্রাসার নামে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে আত্মসাত করে আসছে। তারা এনায়েতুর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে দুর্নাম ছড়াচ্ছে এবং তারা অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে রেখেছে।

তিনি বলেন, আমার চাচা আমেরিকা থাকলেও প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে পরিচালনার জন্য ২৪ ফেব্রুয়ারি ২২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন। আমাকে সেই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। চাচা আবু জাফর বেগের দেওয়া দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে তার প্রতিষ্ঠানে আসলে দখলকারীরা আমাদেরকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেয়। তাদের জমি অনুসারে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে বললে তারা জোরপূর্বক জমি দখল করে আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। 

অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন- সায়েমুর রহমান বেগ, মির্জা সোয়েবুর রহমান, মির্জ কেফায়েতুর রহমান, মির্জা রহমতুর রহমান, মির্জা বরকতুল রহমান, মির্জা ইয়াসিন রহমান।

এদিকে আবু জাফর বেগের দেওয়া কমিটির সদস্যরা গতকাল শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এনায়েতুর রহমান জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করতে গেলে তাদের বাধা ও মসজিদ থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ করেন সদস্য সৈয়দ রিয়াজুল করিম। তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে আমাদের পারিবারিকভাবে বসার কথা ছিল। এর আগে আমরা মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাই। এসময়ে নূরুর রহমান বেগের লোকজন আমাদের মসজিদে ঢুকতে দেয়নি এবং একজনকে আহত করেছে। আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।

এসব বিষয়ে মির্জা নূরুর রহমান বেগ বলেন, আমার চাচা মির্জা জাফর বেগ সুদূর আমেরিকায় থাকেন। তিনি স্বেচ্ছায় আমাদেরকে ওখানের জায়গা দেখিয়েছেন। তিনি আমার পিতা এনায়েতুর রহমানের নামে জমি দানের ঘোষণা দেন। আমরা বোর্ড চুক্তির কায়দায় দ্বীনীয়া মাদ্রাসার অদলে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা করে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছি প্রায় কুড়ি বছর। চাচা আসছিলেন জানুয়ারি মাসে। তিনি বলেছেন, প্রতিষ্ঠান তিনি চালাবেন। শুক্রবার ওখানে জাফর বেগের বড় ভাই আমার চাচাসহ আরো কয়েকজন নিয়ে নামাজ পড়াতে গিয়েছেন। মসজিদে আমাদেরতো ইমাম আছে। হুট করে গিয়েতো আমি আপনার ঘর দখল করতে পারি না।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাচা (জাফর বেগ) জমি দিয়েছেন। চাচা বর্তমানে আমেরিকা আছেন। চাচা আসবেন আমরা পারিবারিকভাবে বসবো, সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এখানে কোনো ঝগড়া-ফ্যাসাদ নেই। একটা প্রতিষ্ঠান ২০টি বছর চলেছে। তার নিয়ম-কানুন আছে। হুট করে ঝগড়া করে ঝামেলা করার দরকার ছিল না। তারা সেখানে গেছেন আমরা কী বলবো! আমাদের পক্ষ থেকে কারো প্রতি অভিযোগও নেই, কোনো ক্ষোভও নেই। 

উল্লেখ্য, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা নূরুর রহমান বেগ। যার ফলে বিগত দিনে মাদ্রসা নিয়ে কথা বলতে সাহস পায়নি প্রতিষ্ঠাতা ও জমি দাতার পরিবার।

Read Entire Article