‘সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পুনরুদ্ধারে অন্তত ৮ বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন’

গত সাত থেকে আট বছরে একটি লাভজনক ব্যাংককে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান মেজর ডা. রেজাউল হকের (অব.) আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুদ্ধারে অন্তত আট বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন। সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য জানা থাকার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নীরব থেকেছে। অথচ এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা ব্যাংকারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিচার হয়নি। মাহমুদুল হাসান আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ে নিয়ে জোরপূর্বক সই করিয়ে ব্যাংকের মালিকানা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। জীবননাশের ভয়ে তখন কেউ প্রতিবাদ করতে পারেননি। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উদ্যোক্তাদের আশা ছিল অতীতের লুটপাট বন্ধ করে ব্যাংকটিক

‘সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পুনরুদ্ধারে অন্তত ৮ বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন’

গত সাত থেকে আট বছরে একটি লাভজনক ব্যাংককে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান মেজর ডা. রেজাউল হকের (অব.) আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুদ্ধারে অন্তত আট বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন।

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য জানা থাকার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নীরব থেকেছে। অথচ এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা ব্যাংকারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিচার হয়নি।

মাহমুদুল হাসান আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ে নিয়ে জোরপূর্বক সই করিয়ে ব্যাংকের মালিকানা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। জীবননাশের ভয়ে তখন কেউ প্রতিবাদ করতে পারেননি।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উদ্যোক্তাদের আশা ছিল অতীতের লুটপাট বন্ধ করে ব্যাংকটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের অসহযোগিতার কারণে তারল্য সহায়তা পাওয়ার পরও ব্যাংকটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের পাশ কাটিয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে ব্যাংকের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। গত দেড় বছরে তারা ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেননি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাতেই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুদ্ধারে অন্তত আট বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন। একদিনে এত বড় দায় পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তার দাবি, আইডিবিসহ কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী ব্যাংকটিতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতিরিক্ত অর্থ ছাপানো ছাড়াই পর্যাপ্ত সময় পেলে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে বলে তারা আশা করছেন।

লিখিত বক্তব্যে সাবেক চেয়ারম্যান মেজর ডা. রেজাউল হক (অব.) বলেন, গত দেড় বছরে যারা স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের কর্মকাণ্ডে ব্যাংকটি আরও সংকটে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে শেয়ার শূন্যে নামিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং এস আলম গ্রুপের দুর্নীতির দায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে স্যোশাল ইসলামী ব্যাংককে মার্জার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকৃত উদ্যোক্তাদের হাতে দায়িত্ব ফিরিয়ে দিলে তারা ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন আমানতকারী ও ব্যবসায়ীদের যথাযথ সহযোগিতা করছে না।

এ সময় তিনি ব্যাংক রেগুলেশন অ্যাক্ট ২০২৫ পাস না করারও আহ্বান জানান। তার দাবি, নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ব্যাংকের স্বার্থরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে এবং লুটপাটের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল। তাই তারা বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান এবং ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের হাজার হাজার আমানতকারীর অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত অনেক ব্যবসায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় তাদের ব্যবসা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অনেকেই শ্রেণিকৃত হয়ে পড়ায় অন্য প্রতিষ্ঠান থেকেও ঋণ নিতে পারছেন না এবং ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ইএআর/এএমএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow