সৌদি-সিরিয়ার মধ্যে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি

১৪ বছরের বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের পর অর্থনীতি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সিরিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছে। বিমান চলাচল, জ্বালানি, আবাসন ও টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি করেছে দুই দেশ। শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  সিরিয়ান ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির প্রধান তালাল আল-হিলালি এসব চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে আলেপ্পোতে একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ, সিরিয়া-সৌদি যৌথ উদ্যোগে একটি স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন চালু এবং ‘সিল্কলিংক’ নামে একটি টেলিযোগাযোগ প্রকল্প। এসবের মূল লক্ষ্য সিরিয়াকে একটি আঞ্চলিক সংযোগকেন্দ্রে পরিণত করা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে উৎখাতের পর ক্ষমতায় আসা সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান সমর্থক সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ডিসেম্বরে সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পর এটি দেশটিতে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ জানান, সদ্য চালু হওয়া ‘এলাফ ফান্ড’ আলেপ্পো শহরের দুটি বিমানবন্দর উন্নয়নে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৭ দশমিক

সৌদি-সিরিয়ার মধ্যে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি

১৪ বছরের বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের পর অর্থনীতি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সিরিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছে। বিমান চলাচল, জ্বালানি, আবাসন ও টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি করেছে দুই দেশ।

শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

সিরিয়ান ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির প্রধান তালাল আল-হিলালি এসব চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে আলেপ্পোতে একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ, সিরিয়া-সৌদি যৌথ উদ্যোগে একটি স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন চালু এবং ‘সিল্কলিংক’ নামে একটি টেলিযোগাযোগ প্রকল্প। এসবের মূল লক্ষ্য সিরিয়াকে একটি আঞ্চলিক সংযোগকেন্দ্রে পরিণত করা।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে উৎখাতের পর ক্ষমতায় আসা সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান সমর্থক সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ডিসেম্বরে সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পর এটি দেশটিতে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ জানান, সদ্য চালু হওয়া ‘এলাফ ফান্ড’ আলেপ্পো শহরের দুটি বিমানবন্দর উন্নয়নে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল) বিনিয়োগ করবে। এই তহবিলের মাধ্যমে সৌদি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

সিরিয়ার যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুলসালাম হায়কাল জানান, টেলিযোগাযোগ খাতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সংযোগ জোরদারে হাজার হাজার কিলোমিটার কেবল স্থাপন করা হবে।

এদিকে সৌদি বাজেট এয়ারলাইন ফ্লাইনাস এবং সিরিয়ান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি যৌথভাবে ‘ফ্লাইনাস সিরিয়া’ নামে একটি নতুন এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এতে ৫১ শতাংশ মালিকানা সিরিয়ার পক্ষের হাতে থাকবে। এয়ারলাইনটি ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে কার্যক্রম শুরু করার কথা রয়েছে।

সিরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের এসিডব্লিউএ পাওয়ারের সঙ্গে পানি ও জ্বালানি সংক্রান্ত একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প পরিচালনার জন্য পরিচিত।

তালাল আল-হিলালি বলেন, এই চুক্তিগুলো এমন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছে, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে এবং সিরিয়ার অর্থনীতি পুনর্গঠনের মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সৌদি-সিরিয়া চুক্তির প্রশংসা করে বলেন, বিমান চলাচল, অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগে কৌশলগত অংশীদারিত্ব সিরিয়ার পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় অর্থবহ ভূমিকা রাখবে।

তবে করাম শার অ্যাডভাইজরির জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক বেঞ্জামিন ফেভ সতর্ক মন্তব্য করে বলেন, স্বল্পমেয়াদে এসব চুক্তি অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চেয়ে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, গত এক বছরে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ঘোষণা দেওয়ায় সিরিয়া সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে। কারণ অনেক প্রতিশ্রুতি এখনো বাধ্যতামূলক চুক্তিতে রূপ নেয়নি।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow