সৌরশক্তিনির্ভর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে মাছের উৎপাদন বাড়ছে
পুকুরের ওপর বসানো হয়েছে সৌর প্যানেল। সূর্যের আলো থেকেই তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ, আর সেই বিদ্যুৎ দিয়ে চালু রাখা হচ্ছে এয়ারেটর। ফলে সারাক্ষণ পানিতে মিলছে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন। বৈরী আবহাওয়া কিংবা গরমে অক্সিজেনের অভাবে মাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কাও কমে এসেছে অনেকটা। তরুণ মৎস্যচাষি শামীম মাদবর সৌরশক্তিনির্ভর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শরীয়তপুরের মাছ চাষীদের মাছ চাষে এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। সার্বক্ষণিক অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় যেমন কমছে মাছের মৃত্যুহার, তেমনি বাড়ছে উৎপাদন। শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিলাসখান গ্রামের তরুণ মৎস্যচাষি শামীম মাদবর দীর্ঘদিন প্রচলিত পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছিলেন না। পরে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা এসডিএস ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতায় আধুনিক মাছ চাষের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর নিজের পুকুরে স্থাপন করেন সৌরবিদ্যুৎ চালিত এয়ারেটর। পুকুরের ওপর স্থাপিত সৌর প্যানেল সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এয়ারেটর চালায়। ফলে দিন রাত পানিতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের মাত্রা বজায় থাকে। এর পাশাপাশি দেশীয় রুইয়ের পরিবর্তে উচ্চ ফলনশীল জি-থ্রি রুই মাছের পোনা অবমুক্ত করেন তিনি।
পুকুরের ওপর বসানো হয়েছে সৌর প্যানেল। সূর্যের আলো থেকেই তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ, আর সেই বিদ্যুৎ দিয়ে চালু রাখা হচ্ছে এয়ারেটর। ফলে সারাক্ষণ পানিতে মিলছে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন। বৈরী আবহাওয়া কিংবা গরমে অক্সিজেনের অভাবে মাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কাও কমে এসেছে অনেকটা। তরুণ মৎস্যচাষি শামীম মাদবর সৌরশক্তিনির্ভর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শরীয়তপুরের মাছ চাষীদের মাছ চাষে এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। সার্বক্ষণিক অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় যেমন কমছে মাছের মৃত্যুহার, তেমনি বাড়ছে উৎপাদন।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিলাসখান গ্রামের তরুণ মৎস্যচাষি শামীম মাদবর দীর্ঘদিন প্রচলিত পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছিলেন না। পরে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা এসডিএস ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতায় আধুনিক মাছ চাষের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর নিজের পুকুরে স্থাপন করেন সৌরবিদ্যুৎ চালিত এয়ারেটর। পুকুরের ওপর স্থাপিত সৌর প্যানেল সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এয়ারেটর চালায়। ফলে দিন রাত পানিতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের মাত্রা বজায় থাকে। এর পাশাপাশি দেশীয় রুইয়ের পরিবর্তে উচ্চ ফলনশীল জি-থ্রি রুই মাছের পোনা অবমুক্ত করেন তিনি। এতে অল্প সময়েই মাছের বৃদ্ধি, উৎপাদন ও লাভ হচ্ছে তার।
শামীম মাদবর বলেন, ‘আগে অক্সিজেনের অভাবে আমার পুকুরে প্রায়ই মাছ মারা যেতো এবং মাছের গ্রোথ ভালো হতো না। বর্তমানে সোলারের মাধ্যমে সব ধরনের আবহাওয়ার মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারায় মাছ সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে। পাশাপাশি উন্নত জাতের জি-থ্রি রুই দ্রুত বড় হওয়ায় আমি মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছি।’

সৌরশক্তিনির্ভর আধুনিক প্রযুক্তি
তার এ সফলতা দেখে আশপাশের খামারিদের মধ্যেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আগ্রহ বাড়ছে।
স্থানীয় মৎস্যচাষি বসির প্যাদা বলেন, ‘শামীমের খামারে আমি মাছের পোনা নিতে এসেছি। এসে দেখি শামীম পুকুরের অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণে সোলারের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করছে। এ কারণে তার পুকুরের মাছ কম মারা যাচ্ছে, আর সে লাভবান হচ্ছে। আমার এই প্রযুক্তি ভালো লেগেছে, আগামীতে আমিও আমার পুকুরে সোলার সিস্টেম ব্যবহার করে মাছ চাষ করবো।’

উন্নত জাতের জি-থ্রি রুই
গোবিন্দ দাস নামের আরেক মৎস্য খামারি বলেন, ‘আমরা আগে দেশীয় প্রজাতির রুই মাছ চাষ করতাম। তবে সেই রুই মাছগুলো তেমন বড় হতো না, আর হলেও মাঝেমাঝেই অসুস্থ হয়ে মাছ মারা যেতো। আমরা বর্তমানে সোলার সিস্টেম ব্যবহার করে জি-থ্রি রুই মাছ চাষ করছি। এ মাছগুলো অতি দ্রুত বড় হয় এবং খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে বেশ চাহিদা আছে। সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এই মাছ চাষ করায় সার্বক্ষণিক অক্সিজেন সরবরাহ থাকায় পানির গুণগত মান ভালো থাকছে, মাছ বেশি খাবার গ্রহণ করে এবং খাদ্যের অপচয়ও কমছে। তাছাড়া একই পুকুরে অধিক ঘনত্বে মাছ চাষ সম্ভব। প্রত্যেক মাছ চাষিরা যদি এ পদ্ধতি অবলম্বন করে তাহলে আর লোকসান গুনতে হবে না।’
বিষয়টি নিয়ে এসডিএসের মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মাছ চাষে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সৌরশক্তিনির্ভর অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তাই এ প্রযুক্তি আরও বেশি মৎস্যচাষীর কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে এসডিএস। চাষীরা যদি এই পদ্ধতি অনুসরণ করে মাছ চাষ করতে পারে তাহলে তারা আরও বেশি লাভবান হবেন।‘
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, ‘সৌরশক্তি ব্যবহারে জাতীয় বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমছে। অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি ছাড়াই মাছ চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে জি-থ্রি রুইয়ের মতো উন্নত জাতের মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ দুটিই বাড়ছে। যা আমাদের প্রোটিনের অভাব পূরণে ভূমিকা রাখছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এ সময়ে টেকসই ও লাভজনক মাছ চাষে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই। জেলা মৎস্য বিভাগ থেকে সব সময় মাছ চাষীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’
বিধান মজুমদার অনি/কেজে/জেআইএম
What's Your Reaction?