স্ট্রোকের আগে শরীর যেসব সতর্ক সংকেত দেয়

স্ট্রোক এমন একটি জটিল ও প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা হঠাৎ করেই ঘটে মনে হলেও বাস্তবে অনেক সময় আগে থেকেই শরীর কিছু ইঙ্গিত দিতে শুরু করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণগুলোর মধ্যে স্ট্রোক শীর্ষে রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে স্ট্রোক হওয়ার কয়েক সপ্তাহ থেকে এক-দুই মাস আগেই শরীর কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখাতে শুরু করে। এই লক্ষণগুলো সময়মতো শনাক্ত করতে পারলে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। নিচে এমনই ৬টি গুরুত্বপূর্ণ আগাম লক্ষণ তুলে ধরা হলো- বারবার মাথা ঘোরা ও ভারসাম্য হারানো হঠাৎ করে মাথা ঘোরা, হাঁটার সময় শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখতে না পারা কিংবা অকারণে পড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে তা সতর্ক সংকেত হতে পারে। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এসময় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করা জরুরি। শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ লাগা স্ট্রোকের আগে অনেকের ক্ষেত্রে শরীরের এক পাশ হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা অবশ অনুভূত হওয়া দেখা যায়। এটি অনেক সময় মিনি-স্ট্রোক এর ইঙ্গিতও হতে পারে, যা উপেক্ষা করা বিপজ্জনক। এর লক্

স্ট্রোকের আগে শরীর যেসব সতর্ক সংকেত দেয়

স্ট্রোক এমন একটি জটিল ও প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা হঠাৎ করেই ঘটে মনে হলেও বাস্তবে অনেক সময় আগে থেকেই শরীর কিছু ইঙ্গিত দিতে শুরু করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণগুলোর মধ্যে স্ট্রোক শীর্ষে রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে স্ট্রোক হওয়ার কয়েক সপ্তাহ থেকে এক-দুই মাস আগেই শরীর কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখাতে শুরু করে। এই লক্ষণগুলো সময়মতো শনাক্ত করতে পারলে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। নিচে এমনই ৬টি গুরুত্বপূর্ণ আগাম লক্ষণ তুলে ধরা হলো-

বারবার মাথা ঘোরা ও ভারসাম্য হারানো

হঠাৎ করে মাথা ঘোরা, হাঁটার সময় শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখতে না পারা কিংবা অকারণে পড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে তা সতর্ক সংকেত হতে পারে। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এসময় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করা জরুরি।

শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ লাগা

স্ট্রোকের আগে অনেকের ক্ষেত্রে শরীরের এক পাশ হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা অবশ অনুভূত হওয়া দেখা যায়। এটি অনেক সময় মিনি-স্ট্রোক এর ইঙ্গিতও হতে পারে, যা উপেক্ষা করা বিপজ্জনক। এর লক্ষণ হলো- এক হাত তুলতে কষ্ট হওয়া, হাঁটার সময় এক পা টেনে নেওয়া ও জিনিস ধরতে সমস্যা হওয়া।

কথা বলা বা বুঝতে সমস্যা হওয়া

অনেক সময় স্ট্রোকের আগে কথা স্পষ্ট না হওয়া, বাক্য গঠনে সমস্যা কিংবা অন্যের কথা বুঝতে অসুবিধা দেখা দিতে পারে। যেমন- জড়ানো বা অস্পষ্ট কথা বলা, ভুল শব্দ ব্যবহার করা ও কথোপকথনে বিভ্রান্তি।

হঠাৎ দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন

এক বা দুই চোখে ঝাপসা দেখা, দ্বিগুণ দেখা বা সাময়িকভাবে দৃষ্টি কমে যাওয়া স্ট্রোকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হতে পারে। কারণ মস্তিষ্কের দৃষ্টিনিয়ন্ত্রণকারী অংশে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে এমন সমস্যা দেখা দেয়।

অস্বাভাবিক ও তীব্র মাথাব্যথা

হঠাৎ করে খুব তীব্র মাথাব্যথা, যা আগে কখনও অনুভব করা হয়নি-এটি স্ট্রোকের আগাম ইঙ্গিত হতে পারে। এর সঙ্গে বমিভাব, মাথা ঘোরা বা দৃষ্টি ঝাপসা থাকলে বিষয়টি আরও গুরুতর।

আরও পড়ুন:

অকারণ ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ

স্ট্রোকের কয়েক সপ্তাহ আগে অনেকেই অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা বা মানসিক বিষণ্নতা অনুভব করেন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি ক্লান্তি না কমে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

  • উচ্চ রক্তচাপের রোগী
  • ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
  • ধূমপায়ী
  • অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
  • উচ্চ কোলেস্টেরল
  • হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
  • পরিবারে স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলে
  • স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়
  • নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা
  • স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার গ্রহণ
  • ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা
  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম
  • ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা
  • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা

জরুরি সতর্কতা

হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে গেলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়ের চিকিৎসাই জীবন বাঁচাতে এবং স্থায়ী জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।

স্ট্রোক অনেক সময় হঠাৎ মনে হলেও শরীর আগেই ছোট ছোট সংকেত দেয়। এসব লক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow