স্পেনে যাচাই-বাছাইয়ের আগেই কর্মক্ষেত্রে ৬ লাখ অনিয়মিত অভিবাসী

ইউরোপের দেশ স্পেনে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধ করার প্রক্রিয়া চলার মাঝেই বড় সুখবর এসেছে। চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার আগেই সরকারের বিশেষ সাময়িক অনুমতি নিয়ে দেশটির বিভিন্ন খাতে কাজে যুক্ত হয়েছেন ৬ লাখের বেশি অভিবাসী। চলতি বছর স্পেনে অনিয়মিত অভিবাসীদের নিয়মিতকরণের ঐতিহাসিক এক ঘোষণা দেওয়ার পর সরকারের কাছে প্রত্যাশার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। স্পেন সরকারের মাইগ্রেশন ও সোশ্যাল সিকিউরিটি বিভাগের তথ্যমতে, এবার নিয়মিতকরণ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধ করার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল সরকারের। তবে গত ১৬ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সীমায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি, অর্থাৎ ১১ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনকারীদের একটি বড় অংশই ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে স্পেনের সেক্রেটারি অব স্টেট ফর মাইগ্রেশন পিলার ক্যানসেলা এবং সেক্রেটারি অব স্টেট ফর সোশ্যাল সিকিউরিটি বোরহা সুয়ারেজ জানান, বিশাল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে এই সময়ে অভিবাসীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর

স্পেনে যাচাই-বাছাইয়ের আগেই কর্মক্ষেত্রে ৬ লাখ অনিয়মিত অভিবাসী

ইউরোপের দেশ স্পেনে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধ করার প্রক্রিয়া চলার মাঝেই বড় সুখবর এসেছে। চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার আগেই সরকারের বিশেষ সাময়িক অনুমতি নিয়ে দেশটির বিভিন্ন খাতে কাজে যুক্ত হয়েছেন ৬ লাখের বেশি অভিবাসী।

চলতি বছর স্পেনে অনিয়মিত অভিবাসীদের নিয়মিতকরণের ঐতিহাসিক এক ঘোষণা দেওয়ার পর সরকারের কাছে প্রত্যাশার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

স্পেন সরকারের মাইগ্রেশন ও সোশ্যাল সিকিউরিটি বিভাগের তথ্যমতে, এবার নিয়মিতকরণ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধ করার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল সরকারের। তবে গত ১৬ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সীমায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি, অর্থাৎ ১১ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনকারীদের একটি বড় অংশই ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে স্পেনের সেক্রেটারি অব স্টেট ফর মাইগ্রেশন পিলার ক্যানসেলা এবং সেক্রেটারি অব স্টেট ফর সোশ্যাল সিকিউরিটি বোরহা সুয়ারেজ জানান, বিশাল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে এই সময়ে অভিবাসীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার তাদের সাময়িক কাজের অনুমতি দিয়েছে।

তথ্যমতে, সাময়িক অনুমতি পাওয়া ৬ লাখ ৯ হাজার ৭৩৭ জন অভিবাসীর মধ্যে গত ৩০ জুন পর্যন্ত ১ লাখ ৬০ হাজার জন এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক খাতে (ফরমাল সেক্টর) নিয়মিত কর্মী হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া দ্রুত গতিতে আবেদন নিষ্পত্তির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ১১ হাজার অভিবাসীকে এক বছরের চূড়ান্ত বসবাসের অনুমতি (রেসিডেন্স পারমিট) দেওয়া হয়েছে।

স্পেন সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য আবেদনকারীদের এক বছরের বসবাসের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে এর জন্য প্রধান দুটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

১. আবেদনকারীকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের আগে স্পেনে প্রবেশ করে অন্তত পাঁচ মাস বসবাস করতে হবে।
২. কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকা যাবে না, অর্থাৎ সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত রেকর্ড থাকতে হবে।

সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্পেনের এই নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া অভিবাসীদের একটি বড় অংশই তরুণ। মোট আবেদনকারীদের মধ্যে ৮১ ভাগের বয়সই ৪৫ বছরের কম, যা স্পেনের স্থবির শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, মোট আবেদনকারীদের মধ্যে ৫৭ ভাগই নারী।

স্পেনের এই মানবিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ ইউরোপের অন্যান্য দেশের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যা একই সাথে অভিবাসীদের মানবাধিকার রক্ষা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণ করবে।

এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow