স্পেনে ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধতা, আবেদন করবেন যেভাবে

ইউরোপের অন্যতম প্রধান অর্থনীতির দেশ স্পেন তাদের দেশে অনিয়মিতভাবে বসবাস ও কাজ করা লাখ লাখ অভিবাসীকে আইনি মর্যাদা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্পেনের মন্ত্রিসভায় এই ‘অভিবাসী ক্ষমা’ সংক্রান্ত ডিক্রি অনুমোদিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল গেজেট প্রকাশের পর আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যারা সরাসরি বা সশরীরে আবেদন করতে চান, তারা আগামী ২০ এপ্রিল থেকে নির্দিষ্ট অফিসগুলোতে যেতে পারবেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটি চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। স্পেনে প্রবেশের তারিখ: আবেদনকারীকে অবশ্যই ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে। বসবাসের প্রমাণ: অন্তত ৫ মাস ধরে স্পেনে বসবাস করছেন—এমন প্রমাণপত্র (সরকারি বা বেসরকারি নথি) দাখিল করতে হবে। চরিত্রগত সনদ: আবেদনকারীর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা চলবে না। সন্তানদের সুবিধা: মূল আবেদনকারীর নাবালক সন্তানরাও একই সঙ্গে আইনি মর্যাদা পাবে এবং তারা সরাসরি ৫ বছরের অনুমতি পাবে। স্পেনজুড়ে ৬০টি সামাজিক নিরাপত্তা অফিস, ৩৭১টি

স্পেনে ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধতা, আবেদন করবেন যেভাবে

ইউরোপের অন্যতম প্রধান অর্থনীতির দেশ স্পেন তাদের দেশে অনিয়মিতভাবে বসবাস ও কাজ করা লাখ লাখ অভিবাসীকে আইনি মর্যাদা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্পেনের মন্ত্রিসভায় এই ‘অভিবাসী ক্ষমা’ সংক্রান্ত ডিক্রি অনুমোদিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল গেজেট প্রকাশের পর আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যারা সরাসরি বা সশরীরে আবেদন করতে চান, তারা আগামী ২০ এপ্রিল থেকে নির্দিষ্ট অফিসগুলোতে যেতে পারবেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটি চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

স্পেনে প্রবেশের তারিখ: আবেদনকারীকে অবশ্যই ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে।

বসবাসের প্রমাণ: অন্তত ৫ মাস ধরে স্পেনে বসবাস করছেন—এমন প্রমাণপত্র (সরকারি বা বেসরকারি নথি) দাখিল করতে হবে।

চরিত্রগত সনদ: আবেদনকারীর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা চলবে না।

সন্তানদের সুবিধা: মূল আবেদনকারীর নাবালক সন্তানরাও একই সঙ্গে আইনি মর্যাদা পাবে এবং তারা সরাসরি ৫ বছরের অনুমতি পাবে।

স্পেনজুড়ে ৬০টি সামাজিক নিরাপত্তা অফিস, ৩৭১টি ডাকঘর এবং ৫টি বড় অভিবাসন অফিসে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন জমা দেওয়া যাবে। এছাড়া অনলাইনে আবেদনের সুবিধাতো থাকছেই।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস এই পদক্ষেপকে ‘ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, স্পেনের সমৃদ্ধি বিদেশিদের শ্রমের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। যারা ইতিমধ্যে কাজ করছেন, তাদের সমান অধিকার দেওয়া এবং কর ব্যবস্থার আওতায় আনা দেশের অর্থনীতির জন্যই মঙ্গলজনক। বিশেষ করে কৃষি, পর্যটন এবং সেবা খাতের শ্রমঘাটতি দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত।

বর্তমানে যখন ইউরোপের অধিকাংশ দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসন নীতি কঠোর করছে, তখন স্পেনের এই নমনীয় ও মানবিক সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রক্ষণশীল দলগুলো এর সমালোচনা করলেও ক্যাথলিক চার্চ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন একে স্বাগত জানিয়েছে।

স্পেনে বসবাসরত হাজার হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী, যারা দীর্ঘদিন ধরে কাগজপত্রের অপেক্ষায় ছিলেন, এই ঘোষণার পর তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow