স্বপ্ন পূরণ হয়েও যেন হলো না ১০ হাজার মানুষের
পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ও ভুরিয়া ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি স্থায়ী সেতু। সেই প্রত্যাশা পূরণে নির্মাণ করা হয় ৩৯ মিটার দীর্ঘ একটি গার্ডার ব্রিজ। কিন্তু মূল সেতুর কাজ শেষ হলেও চার বছরেও নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ)। ফলে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এখনো পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয়রা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার মানুষ। জানা গেছে, লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং ভুরিয়া ইউনিয়নের ভায়লা গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ২০২১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটির কাজ শুরু করে। প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। পরে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৬ টাকায়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের মে মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো সংযোগ সড়কের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। এ সড়কটি দুই ইউনিয়নের মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ১০ হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু সেত
পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ও ভুরিয়া ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি স্থায়ী সেতু। সেই প্রত্যাশা পূরণে নির্মাণ করা হয় ৩৯ মিটার দীর্ঘ একটি গার্ডার ব্রিজ। কিন্তু মূল সেতুর কাজ শেষ হলেও চার বছরেও নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ)।
ফলে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এখনো পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয়রা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার মানুষ।
জানা গেছে, লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং ভুরিয়া ইউনিয়নের ভায়লা গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ২০২১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটির কাজ শুরু করে। প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। পরে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৬ টাকায়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের মে মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো সংযোগ সড়কের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে।
এ সড়কটি দুই ইউনিয়নের মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ১০ হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় তাদের ভোগান্তি যেন আরও বেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সেতু নির্মাণের আগে খেয়া নৌকার মাধ্যমে পারাপার করা হতো। এখন সেতু থাকলেও সেটির পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। কাদামাটি ও ভাঙাচোরা পথে চলাচল করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থী, রোগী ও বয়স্করা।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন হাওলাদার বলেন, বছরের পর বছর ধরে কাজ শেষ হওয়ার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাজ দ্রুত শেষ হলে দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও গতি পাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুসলিম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের কাজ ঝুলে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির অভাব ছিল। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
তবে এলজিইডি বলছে, মূল সেতুর কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ দীর্ঘদিন বাকি ছিল। বর্তমানে আবার কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন আলী মীর বলেন, মূল ব্রিজের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তবে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ বিভিন্ন কারণে বাকি ছিল। বর্তমানে কাজ কিছু চলমান রয়েছে। আমরা আশা করছি চলতি জুন মাসের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
ঠিকাদার মহিউদ্দিন আহমেদের দাবি, নির্মাণসামগ্রী চুরি এবং স্থানীয় কিছু জটিলতার কারণে কাজের অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছিল। তবে বর্তমানে পুনরায় কাজ শুরু হবে।
মাহমুদ হাসান রায়হান/এফএ/জেআইএম
What's Your Reaction?