স্বপ্ন’র আড়ালে কমিশন বাণিজ্য: বিজ্ঞাপনের নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

দেশের অন্যতম রিটেইল চেইন শপ Shwapno–এর ভেতরে বিজ্ঞাপনের আড়ালে বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিজ্ঞাপনী সংস্থাকে কাজ দেওয়ার নামে প্রতিষ্ঠানটির কিছু অসাধু কর্মকর্তা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের পাবলিক রিলেশন (পিআর) ম্যানেজার কামরুজ্জামান মিলুর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি ঘুষ ও কমিশননির্ভর চক্র পরিচালিত হয়ে আসছিল, যার সুবিধাভোগী ছিলেন প্রতিষ্ঠানের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্বপ্ন’র বিজ্ঞাপন প্রচারের বিনিময়ে বড় অঙ্কের কমিশন দাবি করতেন পিআর ম্যানেজার কামরুজ্জামান মিলু। অভিযোগ রয়েছে, বিজ্ঞাপনের মোট বিলের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম কমিশন নেওয়া হতো। অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এই অনৈতিক দাবির মুখে বিজ্ঞাপনের বিল ছাড় করাতে বাধ্য হতো। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই অর্থ লেনদেন নিয়ে কোনো ধরনের গোপনীয়তা বজায় রাখা হতো না। বরং অফিসের ভেতরেই খোলামেলাভাবে অগ্রিম বা কমিশনের টাকার বিষয়টি আলোচনা করতেন মিলু। কেউ এই অগ্রিম টাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানাতেন, এই অর্থ তিনি একা নেন না

স্বপ্ন’র আড়ালে কমিশন বাণিজ্য: বিজ্ঞাপনের নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

দেশের অন্যতম রিটেইল চেইন শপ Shwapno–এর ভেতরে বিজ্ঞাপনের আড়ালে বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিজ্ঞাপনী সংস্থাকে কাজ দেওয়ার নামে প্রতিষ্ঠানটির কিছু অসাধু কর্মকর্তা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের পাবলিক রিলেশন (পিআর) ম্যানেজার কামরুজ্জামান মিলুর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি ঘুষ ও কমিশননির্ভর চক্র পরিচালিত হয়ে আসছিল, যার সুবিধাভোগী ছিলেন প্রতিষ্ঠানের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্বপ্ন’র বিজ্ঞাপন প্রচারের বিনিময়ে বড় অঙ্কের কমিশন দাবি করতেন পিআর ম্যানেজার কামরুজ্জামান মিলু। অভিযোগ রয়েছে, বিজ্ঞাপনের মোট বিলের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম কমিশন নেওয়া হতো। অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এই অনৈতিক দাবির মুখে বিজ্ঞাপনের বিল ছাড় করাতে বাধ্য হতো।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এই অর্থ লেনদেন নিয়ে কোনো ধরনের গোপনীয়তা বজায় রাখা হতো না। বরং অফিসের ভেতরেই খোলামেলাভাবে অগ্রিম বা কমিশনের টাকার বিষয়টি আলোচনা করতেন মিলু। কেউ এই অগ্রিম টাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানাতেন, এই অর্থ তিনি একা নেন না; বরং প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও এর অংশ দিতে হয়।

মিলুর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশন বাণিজ্যের শেকড় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আরও গভীরে বিস্তৃত। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, বিল অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয় এবং সেই কারণেই কমিশনের একটি বড় অংশ তাদের কাছেও পৌঁছে দিতে হয়। তার ভাষায়, “বিল পাস হতে নাসির স্যারের সিগনেচার লাগে। টাকার একটি বড় অংশ তাকেও দিতে হয়। এটা আমি একা নেই না, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের এই কমিশনের টাকা বুঝিয়ে দিতে হয়।”

স্বপ্ন’র মতো একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে পিআর বিভাগের এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, কাজ করার পরও সময়মতো বিল পাওয়া যায় না; বরং বিল ছাড় করাতে বড় অঙ্কের কমিশন দিতে বাধ্য করা হয়, যা কার্যত চাঁদাবাজির শামিল।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্বপ্ন’র অভ্যন্তরীণ সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। অন্যথায় করপোরেট খাতে এমন ‘কমিশন সংস্কৃতি’ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow