ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার ঠাকুরপুর বাজারে টিনের বেড়া ও ছাউনির ছোট্ট হোটেলে খিচুড়ি বিক্রি করেন আমজেদ বিশ্বাস (৩২)। দাম কম হলেও স্বাদ-মানে অনন্য তার খিচুড়ি। ফলে অল্প দিনেই সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। খিচুড়ি খেতে প্রতিদিন স্থানীয়রা ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন শতশত মানুষ। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় শেষ হয় দেড় মণ চালের খিচুড়ি।
প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিক্রি হলেও অধিকাংশ দিনই তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায় খিচুড়ি। দেরি করে এলে অনেককেই ফিরতে হয় না খেয়েই। টিনের বেড়া-ছাউনির ছোট্ট হোটেলে সন্ধ্যা থেকেই লেগে থাকে উপচে পড়া ভিড়। দোকানের সামনে রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থেকে খেতে হয় খিচুড়ি। অজো পাড়াগাঁয়ের ছোট একটি বাজারে আমজাদের খিচুড়ি টানে হওয়া ভিড় নিয়ে আলোচনা এলাকাজুড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দোকানের মধ্যে ও আশেপাশে ভিড়। সবাই খিচুড়ি খেতে এসেছেন। কেউ খাচ্ছেন, কেউ অপেক্ষা করছেন। আবার অনেকেই বসার জায়গা না পেয়ে পারসেল করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি প্লেট খিচুড়ির দাম ৬০ টাকা। স্বাদে সবাই মুগ্ধ। এই খিচুড়িতে থাকে নানা রকম খাবার উপকরণ। দেওয়া হয় খাসির মাংস, কলিজা ও মাথা।
খিচুড়ি খেতে আসা আমান শেখ জাগো নিউজকে বলেন, তুলনামূলক দাম কম। খাসির মাংস দিয়ে খিচুড়ি সবার কাছে ভালো স্বাদ লেগেছে, যার কারণে অল্প দিনেই খিচুড়ির নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা সপ্তাহে দুই-তিন দিন খেতে আসি।
খিচুড়ি খাওয়া শেষে সাদিদ অরণ্য জাগো নিউজকে বলেন, আজকাল খাসির মাংসের যে দাম তাতে ৬০ টাকা প্লেট অনেকটা সুলভ। খাসির মাংসের গরম খিচুড়ি ভালো লেগেছে তাই খেতে আসি। সন্ধ্যা থেকে ভিড় জমে যায়।
পৌরসভার ছোলনা গ্রামের বাসিন্দা সুমন রাফি বলেন, খিচুড়ি মানে ও স্বাদে ভালো। যার কারণে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন শতশত মানুষ আসছেন খিচুড়ি খেতে। লাইন ধরে খিচুড়ি কিনতে হয়। অল্প সময়ের মধ্যে বেশ সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাইরালের খবর শুনে খিচুড়ির স্বাদ নিতে আসা চতুল গ্রাম থেকে আগত জাহিদ হাসান চঞ্চল বলেন, সারাদেশে নামি-দামি হোটেল-রেস্টুরেন্টে খিচুড়ি খেয়েছি। মানে ও দাম সবদিক দিয়ে এখানকার ভাইরাল খিচুড়ি খুব ভালো লেগেছে। মাঝে মাঝেই খেতে আসি।
খিচুড়ি বিক্রেতা আমজেদ বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, কয়েক মাস আগে মাত্র দুই কেজি খাসির মাংস দিয়ে শুরু করি। এরপর পাঁচ কেজি। মানুষের মাঝে চাহিদা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন স্থান থেকে আগতরা খেয়ে ভালো স্বাদ পেয়ে ফেসবুকে, টিকটকে ছবি-ভিডিও করে ছেড়ে দেয়। তারপর থেকেই নাম দেওয়া হয়েছে ভাইরাল খিচুড়ি। এখন প্রতিদিন ৬০ কেজি চালের খিচুড়ি রান্না করা হয়। তাও তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। আমরা চেষ্টা করি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও খাবারের উপকরণ-মসলা, চাল, খাসির মাংস ভালো মানেরটা দেওয়ার। তাই স্বাদ-মানে ভালো।
খিচুড়ি বিক্রেতা আমজেদ বিশ্বাসের বাবা আবু বক্কর বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, স্বল্পমূল্যের খাসির মাংসের খিচুড়ি এখন সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতি প্লেটের দাম মাত্র ৬০ টাকা। প্রতিদিন ৪০০-৫০০ জন খিচুড়ি কিনতে আসেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে আমি নিজেই রান্না করি।
কথা হয় ফরিদপুর জজকোর্টের আইনজীবী সেলিমুজ্জামান রুকুর সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ভাইরাল খিচুড়ির খবর শুনে বন্ধুদের নিয়ে খেতে এলাম। সবদিক বিবেচনায় খিচুড়ির স্বাদ বেশ ভালো লেগেছে।
এমএন/এএসএম