স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান

দেশের স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি, কার্যকর অর্থায়ন এবং গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, একটি সুস্থ ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনে স্বাস্থ্যখাতে অধিক বিনিয়োগের পাশাপাশি তথ্য-উপাত্তভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীতে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বাজেট সংলাপ: অগ্রাধিকার, ঘাটতি ও করণীয়’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় এসব কথা বলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) কনফারেন্স রুমে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, স্বাস্থ্যখাতে কার্যকর বাজেট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সরকারি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে সব নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, একটি ন্যায়সঙ্গত ও সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে ত

স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান

দেশের স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি, কার্যকর অর্থায়ন এবং গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, একটি সুস্থ ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনে স্বাস্থ্যখাতে অধিক বিনিয়োগের পাশাপাশি তথ্য-উপাত্তভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীতে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বাজেট সংলাপ: অগ্রাধিকার, ঘাটতি ও করণীয়’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় এসব কথা বলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) কনফারেন্স রুমে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, স্বাস্থ্যখাতে কার্যকর বাজেট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সরকারি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে সব নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি ন্যায়সঙ্গত ও সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, উন্নয়নকর্মী এবং বিভিন্ন খাতের অংশীজনরা অংশ নেন। বক্তারা স্বাস্থ্যখাতে কার্যকর বাজেট ব্যবস্থাপনা, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং একাডেমিয়া-শিল্পখাতের সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, টেকসই ও জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএপি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক জাতীয় উন্নয়নে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি একাডেমিয়া, সরকার, শিল্পখাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, যা টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া। তিনি স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং বরাদ্দকৃত সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে গবেষণাভিত্তিক নীতি প্রণয়ন ও ধারাবাহিক নীতিগত সংলাপ জোরদারের আহ্বান জানান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক। তিনি স্বাস্থ্যখাতের অর্থায়ন কাঠামো, বাজেট বরাদ্দের বর্তমান চিত্র, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে দক্ষতা, ন্যায্যতা ও সেবার মান উন্নয়নে তথ্যভিত্তিক বিভিন্ন সুপারিশ উপস্থাপন করেন।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা, অধ্যাপক ড. লিয়াকত আলী, ড. এম. এইচ. চৌধুরী লেলিন, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার, অধ্যাপক ড. শামসাদ আহমেদ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অতিরিক্ত কর কমিশনার ড. নুরুল আমিন নাহিদ।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইউএপির স্কুল অব বিজনেসের ডিন অধ্যাপক ড. এম. এ. বাকী খলিলী এবং সঞ্চালনা করেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমা বেগম।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যখাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গবেষণালব্ধ তথ্যের ব্যবহার, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি। গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার সমন্বয় দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব করে তুলতে সহায়ক হবে বলেও তারা মত দেন।

এসএম/এমএমএআর 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow