স্মরণীয় মুসলিম মনীষী
আল্লামা ইবনে হাজার আল-আসকালানি (রহ.) ইসলামের ইতিহাসে হাদিসশাস্ত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার পূর্ণ নাম আহমদ ইবন আলি ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-কিনানি আল-আসকালানি। তিনি ৭৭৩ হিজরি (১৩৭২ খ্রিষ্টাব্দ) সালে মিশরের রাজধানী কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্বপুরুষদের নিবাস ছিল ফিলিস্তিনের আসকালান (আশকেলন), সেখান থেকেই ‘আসকালানি’ উপাধি এসেছে। শৈশবে তিনি পিতামাতাকে হারান, ফলে অনাথ অবস্থায় তার লালন-পালন হয়। কিন্তু প্রতিকূলতা তার জ্ঞানার্জনের পথকে থামাতে পারেনি। অল্প বয়সে তিনি কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন এবং আরবি ভাষা, সাহিত্য ও ফিকহে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন। তার শিক্ষাগুরুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আল-ইরাকি এবং আল-বুলকিনি প্রমুখ। তাদের তত্ত্বাবধানে তিনি হাদিসশাস্ত্রে গভীর পারদর্শিতা অর্জন করেন। ইবনে হাজারের (রহ.) জ্ঞানচর্চার পরিধি ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত। তিনি হাদিস, ফিকহ, ইতিহাস, জীবনীশাস্ত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেন। তার রচিত গ্রন্থাবলির সংখ্যা দেড় শতাধিক। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ফাতহুল বারি, তাগলিক আলাত তালিক, তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন, নুখবাতুল ফিকার, নুযহাতুন নাযার, তাহযিবুত তাহযিব,
আল্লামা ইবনে হাজার আল-আসকালানি (রহ.) ইসলামের ইতিহাসে হাদিসশাস্ত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার পূর্ণ নাম আহমদ ইবন আলি ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-কিনানি আল-আসকালানি। তিনি ৭৭৩ হিজরি (১৩৭২ খ্রিষ্টাব্দ) সালে মিশরের রাজধানী কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্বপুরুষদের নিবাস ছিল ফিলিস্তিনের আসকালান (আশকেলন), সেখান থেকেই ‘আসকালানি’ উপাধি এসেছে।
শৈশবে তিনি পিতামাতাকে হারান, ফলে অনাথ অবস্থায় তার লালন-পালন হয়। কিন্তু প্রতিকূলতা তার জ্ঞানার্জনের পথকে থামাতে পারেনি। অল্প বয়সে তিনি কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন এবং আরবি ভাষা, সাহিত্য ও ফিকহে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন। তার শিক্ষাগুরুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আল-ইরাকি এবং আল-বুলকিনি প্রমুখ। তাদের তত্ত্বাবধানে তিনি হাদিসশাস্ত্রে গভীর পারদর্শিতা অর্জন করেন।
ইবনে হাজারের (রহ.) জ্ঞানচর্চার পরিধি ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত। তিনি হাদিস, ফিকহ, ইতিহাস, জীবনীশাস্ত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেন। তার রচিত গ্রন্থাবলির সংখ্যা দেড় শতাধিক। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ফাতহুল বারি, তাগলিক আলাত তালিক, তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন, নুখবাতুল ফিকার, নুযহাতুন নাযার, তাহযিবুত তাহযিব, আল-তালখিসুল হাবির, তাজিলুল মানফাআত, আল-উজাব ফি বায়ানিল আসবাব, আল-ঈছার বি মারিফাতি রুওয়াতি আল-আছার, আল-দিরায়াহ ফি তাখরীজি আহাদিসিল হিদায়াহ, লিসানুল মিজান, আল-ইসাবাহ ফি তামায়ীযিস সাহাবাহ, বুলুগ আল-মারাম, সিলসিলাতুয যাহাব ইত্যাদি। তার সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হলো ফাতহুল বারী, যা সহীহ আল-বুখারির শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যা হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এ গ্রন্থে তিনি হাদিসের সনদ, রাবী, ভাষাগত বিশ্লেষণ এবং ফিকহি দিকগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন।ইবনে হাজার (রহ.) শুধু একজন লেখকই ছিলেন না, তিনি একজন দক্ষ শিক্ষক ও বিচারকও ছিলেন। তিনি মিশরের বিচারব্যবস্থায় (কাজি হিসেবে) একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেন। তার ন্যায়পরায়ণতা, গভীর জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা তাকে সমসাময়িকদের মধ্যে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে। তার ব্যক্তিত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিনয় ও ইখলাস। এত বিশাল জ্ঞানভান্ডার থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র ও পরহেজগার। ছাত্রদের প্রতি তার আন্তরিকতা এবং জ্ঞান বিতরণে তার উদারতা তাকে একজন আদর্শ শিক্ষকের মর্যাদা দিয়েছে। ৮৫২ হিজরি (১৪৪৯ খ্রিষ্টাব্দ) সালে তিনি কায়রোতে ইন্তেকাল করেন। তার জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে, যা তার জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের প্রমাণ বহন করে। ইবনে হাজার আল-আসকালানির (রহ.) জীবন আমাদের শেখায়, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অধ্যবসায়, আন্তরিকতা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে একজন মানুষ কীভাবে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করতে পারে। ইসলামী জ্ঞানভান্ডারে তার অবদান চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।
What's Your Reaction?