স্মরণীয় মুসলিম মনীষী

আয়েশা আবদুর রহমান (১৯১৩-১৯৯৮) আধুনিক আরব বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারী লেখক, গবেষক ও ইসলামী চিন্তাবিদ। তিনি ১৯১৩ সালের ১৮ নভেম্বর মিশরের দিময়াত শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৮ সালের ১ ডিসেম্বর কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন। আয়শা আব্দুর রহমান এক ধর্মনিষ্ঠ ও রক্ষণশীল পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার পিতা ছিলেন ধর্মীয় শিক্ষায় দৃঢ়বিশ্বাসী এবং নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয়ে অনাগ্রহী। ফলে শৈশবেই তাকে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু অসাধারণ মেধা ও অদম্য অধ্যবসায়ের জোরে তিনি গোপনে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ করেন। তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন, সেখান থেকে তিনি ১৯৩৯ সালে স্নাতক এবং ১৯৪১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪২ সালে আয়েশা মিশরের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরবি সাহিত্য শিক্ষার পরিদর্শক নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৫০ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন এবং আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা কলেজে আরবি সাহিত্যের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। মিশরের সে সময়ের প্রেক্ষাপটে একজন মুসলিম নারীর জন্য এটা ছিল বিরল সাফল্য। মিশরের রক্ষণশীল সমাজে আয়েশা আব

স্মরণীয় মুসলিম মনীষী

আয়েশা আবদুর রহমান (১৯১৩-১৯৯৮) আধুনিক আরব বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারী লেখক, গবেষক ও ইসলামী চিন্তাবিদ। তিনি ১৯১৩ সালের ১৮ নভেম্বর মিশরের দিময়াত শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৮ সালের ১ ডিসেম্বর কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন। আয়শা আব্দুর রহমান এক ধর্মনিষ্ঠ ও রক্ষণশীল পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার পিতা ছিলেন ধর্মীয় শিক্ষায় দৃঢ়বিশ্বাসী এবং নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয়ে অনাগ্রহী। ফলে শৈশবেই তাকে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু অসাধারণ মেধা ও অদম্য অধ্যবসায়ের জোরে তিনি গোপনে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ করেন। তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন, সেখান থেকে তিনি ১৯৩৯ সালে স্নাতক এবং ১৯৪১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪২ সালে আয়েশা মিশরের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরবি সাহিত্য শিক্ষার পরিদর্শক নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৫০ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন এবং আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা কলেজে আরবি সাহিত্যের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। মিশরের সে সময়ের প্রেক্ষাপটে একজন মুসলিম নারীর জন্য এটা ছিল বিরল সাফল্য।

মিশরের রক্ষণশীল সমাজে আয়েশা আবদুর রহমান ‘বিনতুশ শাত’ বা ‘সাগর পারের কন্যা’ ছদ্মনামে সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। এই নামের আড়ালে তিনি কেবল সামাজিক বিধিনিষেধ অতিক্রমই করেননি, বরং একটি স্বতন্ত্র সাহিত্যিক পরিচয়ও নির্মাণ করেন। তার রচনায় ইসলামী ইতিহাস, কোরআনের ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, নারীর অবস্থান এবং নৈতিক সমাজচিন্তা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে কোরআনের বাগ্মিতাত্মক ও শৈল্পিক দিক বিশ্লেষণে তার অবদান অনন্য। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আত-তাফসিরুল বায়ান’-এ তিনি কোরআনের ভাষার নন্দনতত্ত্ব ও অর্থস্তরের সূক্ষ্মতা বিশ্লেষণ করেছেন। এ ছাড়া তিনি কল্পকাহিনি এবং নবীজির মা, স্ত্রী এবং কন্যাদেরসহ প্রাথমিক যুগের মুসলিম নারীদের জীবনী রচনা করেন। যদিও তিনি নিজেকে নারীবাদী দাবি করতেন না, তবে তার সাহিত্যকর্মে নারীবাদী ধ্যানধারণার প্রতিফলন ঘটেছে। যে বছর নাগিব মাহফুজ তার লেখা নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনীর রূপক ও নারীবাদী সংস্করণ প্রকাশ করেছিলেন, সে বছরই তিনি তার বিখ্যাত বইগুলো প্রকাশ করতে শুরু করেন।

আয়েশা আবদুর রহমান স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিন আল খওলিকে বিয়ে করেন। তবে কিছুদিন পরই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কায়রো শহরে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৮৫ সালে তার সম্মানে কায়রো শহরে একটি প্রতিকৃতি নির্মাণ করা হয়।

আয়শা আব্দুর রহমান শুধু লেখকই ছিলেন না; তিনি একজন দক্ষ শিক্ষক ও গবেষকও ছিলেন। তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন এবং আরবি সাহিত্য ও ইসলামী গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার গবেষণাকর্ম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায় এবং তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৯৮ সালে তার মৃত্যু হলেও তার সাহিত্য ও গবেষণার উত্তরাধিকার আজও জীবন্ত। আরবি সাহিত্য, ইসলামী চিন্তাধারা এবং নারীর বৌদ্ধিক বিকাশে তার অবদান অনস্বীকার্য।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow