হবিগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসব

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার আতুকুড়া গ্রামের বড়য়ান বিলে এ পলো বাওয়া উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সহস্রাধিক মৎস্য শিকারীরা অংশ নেন। তারা পলো দিয়ে পানিতে একের পর এক ঝাপ দিয়ে আর হৈ হুল্লোর করে ছন্দের তালে তালে এগিয়ে চলেন। চিরচেনা গ্রামবাংলার অপরূপ সৌন্দর্যময় দৃশ্য মুগ্ধ করে পুরো বিল এলাকা। অভিভাবকদের সঙ্গে সৌখিন এ পলোবাইচে শিশুরাও অংশ নেয়। আয়োজক আতুকুড়া-সুবিদপুর শিক্ষা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিবুল হোসেন উজ্জল জানান, আমাদের গ্রামে যুগ যুগ ধরে পলো বাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ পলো বাইচকে কেন্দ্র আমাদের গ্রামের বড়আন বিলে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন মাছ শিকার করার জন্য আসেন। বিলের তীরে সবাই একত্রিত হয়ে পলো উৎসব উপভোগ করেন। এ পলো বাইচ আমাদের গ্রামে অব্যাহত থাকবে। বিলগুলো বিষ দিয়ে মাছ নিধন বন্ধ করতে হবে। যেসব বিল রয়েছে সেগুলোতে এ উৎসব চালু করার জন্য দাবি জানান তিনি। আতুকুড়া গ্রামের শিপন মিয়া জানান, সখের বশে প্রতি বছর এ মওসুমে পলো বাইচে অংশ গ্রহণ করি। পলো বাইচে অংশ নিয়

হবিগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসব

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার আতুকুড়া গ্রামের বড়য়ান বিলে এ পলো বাওয়া উৎসবের আয়োজন করা হয়।

এতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সহস্রাধিক মৎস্য শিকারীরা অংশ নেন। তারা পলো দিয়ে পানিতে একের পর এক ঝাপ দিয়ে আর হৈ হুল্লোর করে ছন্দের তালে তালে এগিয়ে চলেন। চিরচেনা গ্রামবাংলার অপরূপ সৌন্দর্যময় দৃশ্য মুগ্ধ করে পুরো বিল এলাকা। অভিভাবকদের সঙ্গে সৌখিন এ পলোবাইচে শিশুরাও অংশ নেয়।

আয়োজক আতুকুড়া-সুবিদপুর শিক্ষা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিবুল হোসেন উজ্জল জানান, আমাদের গ্রামে যুগ যুগ ধরে পলো বাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ পলো বাইচকে কেন্দ্র আমাদের গ্রামের বড়আন বিলে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন মাছ শিকার করার জন্য আসেন। বিলের তীরে সবাই একত্রিত হয়ে পলো উৎসব উপভোগ করেন। এ পলো বাইচ আমাদের গ্রামে অব্যাহত থাকবে। বিলগুলো বিষ দিয়ে মাছ নিধন বন্ধ করতে হবে। যেসব বিল রয়েছে সেগুলোতে এ উৎসব চালু করার জন্য দাবি জানান তিনি।

আতুকুড়া গ্রামের শিপন মিয়া জানান, সখের বশে প্রতি বছর এ মওসুমে পলো বাইচে অংশ গ্রহণ করি। পলো বাইচে অংশ নিয়ে ছোট বড় ৪টি মাছ পেয়েছি। আমার মত অনেকেই মাছ পেয়েছেন। যারা মাছ পেয়েছেন তারা আনন্দিত। তবে আগের তুলনায় এখন বিলে সেরকম মাছ নেই। পলো বাইচের আগেই বিলের ইজারাদার মাছগুলো জাল দিয়ে ফেলে মেরে ফেলেন।

স্থানীয়রা জানান, বানিয়াচং উপজেলার আতুকুড়া গ্রামের বড়য়ান বিলে যুগ যুগ ধরে আয়োজন করা হচ্ছে পলো বাইচ উৎসবের। এক সময় জেলার নবীগঞ্জ, বাহুবল, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও বানিয়াচং উপজেলায় পলো বাইচ উৎসব বা প্রতিযোগিতার প্রচলন ছিল। তখন বিভিন্ন নদী, বিলে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো।

তারা আরও জানান, শুধুই মাছ ধরা নয়, এর মাঝে ছিল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের মিশ্রণ। মানুষের বিনোদনেরও অন্যতম মাধ্যম এটি। বর্তমানে এটি হারিয়ে গেলেও আতুকুড়া গ্রামবাসী এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। প্রতি বছরের ন্যায় এ মওসুমে আতুকুড়া গ্রামবাসী বসে পলো বাইচের তারিখ নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত দিনের আগের দিন রাত থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সৌখিন মৎস্য শিকারিরা জাল, পলোসহ মৎস্য শিকারের অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে বিলের তীরে ভিড় জমান।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এনএইচআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow