হরমুজ প্রণালিতে কার ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’? ট্রাম্প-মোহেব্বির বিপরীত দাবি
ইরানকে বিশ্বাস করেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব দাবি করলেও পারস্য উপসাগরে মার্কিন কোনো যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নেই বলে দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর আইআরজিসি। ওহাইও সফর শেষে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ইরানকে বিশ্বাস করি না। কেন-আপনারা কি বলছেন আমি ইরানকে বিশ্বাস করি!? ইরানকে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে আমিই সবার শেষ ব্যক্তি। তারা প্রতিনিয়ত আমার সঙ্গে মিথ্যা বলেছে।’ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। আমাদেরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে।’এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ‘রমজান যুদ্ধ’-এর পর পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধজাহাজ নেই। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, ইরাক-ইরান যুদ্ধে
ইরানকে বিশ্বাস করেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব দাবি করলেও পারস্য উপসাগরে মার্কিন কোনো যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নেই বলে দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর আইআরজিসি।
ওহাইও সফর শেষে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ইরানকে বিশ্বাস করি না। কেন-আপনারা কি বলছেন আমি ইরানকে বিশ্বাস করি!? ইরানকে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে আমিই সবার শেষ ব্যক্তি। তারা প্রতিনিয়ত আমার সঙ্গে মিথ্যা বলেছে।’
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। আমাদেরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে।’
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ‘রমজান যুদ্ধ’-এর পর পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধজাহাজ নেই।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ছিল। আর ‘রমজান যুদ্ধ’ বা ৪০ দিনের যুদ্ধের আগে এ অঞ্চলে ছিল ৩০ থেকে ৪০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছিল। তবে, বর্তমানে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধজাহাজ নেই।
মোহেব্বি বলেন, ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র ও আসালুয়েহ জ্বালানি কেন্দ্রের ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর পর ইরান দীর্ঘপাল্লার ও নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করে।
তার মতে, এসব হামলার কারণে ওয়াশিংটনের পক্ষে আগের গতিতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি দেখা দিলে লাখ লাখ মাইলজুড়ে বিস্তৃত জ্বালানি সঞ্চালন লাইন, হাজার হাজার বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সব ব্যবস্থা-এমনকি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত বৈশ্বিক অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন সামরিক কৌশল একই সময়ে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ করার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কিন্তু অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া প্রশান্ত মহাসাগরের কেন্দ্রস্থলে, রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে এবং যুক্তরাষ্ট্র যেসব ফ্রন্টকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে-সেসব জায়গায় দেশটির জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সংঘাত বন্ধে গত ১৮ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে তেহরান ও ওয়াশিংটন। এরপর হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে আরেক দফা সংঘাতে জড়ায় উভয় পক্ষ। এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালায় ইরান-সমর্থিত হুতিরা। এতে মিশরীয় মালিকানাধীন ‘তিহামাহ’ জাহাজের চার নাবিক নিহত হন এবং আরও দুই জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এছাড়া, একই দিনে পাকিস্তানের উপকূলে ইরানগামী একটি কনটেইনার জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে মাত্র ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত।
সূত্র: রয়টার্স/আনাদোলু এজেন্সি/মেহের নিউজ এজেন্সি
কেএম
What's Your Reaction?