হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বীমা চালুর পরিকল্পনা কোনো কাজে দেবে?
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর ইরান হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও বড় অংশের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত ধাক্কা লাগে। ফিউচার মার্কেটে তেলের দাম তীব্রভাবে ওঠানামা করে, আন্তর্জাতিক শিপিং ও ট্যাঙ্কার চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং বহু জাহাজকে বিকল্প রুট নিতে বাধ্য করা হয়। এর ফলে পরিবহন ও বীমা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রপ্তানি কার্যক্রমও চাপের মুখে পড়ে। এর মধ্যেই ইরান হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা ঘোষণা দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ পরিচালনার জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা সংস্থা গঠন করা হয়েছে। ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ নামে নতুন সংস্থা ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পরিচালনার জন্য গঠিত নতুন সংস্থাটির নাম দেওয়া হয়েছে পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি (পিজি
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর ইরান হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও বড় অংশের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত ধাক্কা লাগে। ফিউচার মার্কেটে তেলের দাম তীব্রভাবে ওঠানামা করে, আন্তর্জাতিক শিপিং ও ট্যাঙ্কার চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং বহু জাহাজকে বিকল্প রুট নিতে বাধ্য করা হয়। এর ফলে পরিবহন ও বীমা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রপ্তানি কার্যক্রমও চাপের মুখে পড়ে।
এর মধ্যেই ইরান হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা ঘোষণা দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ পরিচালনার জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা সংস্থা গঠন করা হয়েছে।
‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ নামে নতুন সংস্থা
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পরিচালনার জন্য গঠিত নতুন সংস্থাটির নাম দেওয়া হয়েছে পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি (পিজিএসএ)। সংস্থাটি হরমুজ প্রণালীর চলাচল ও সামুদ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতি মুহূর্তের তথ্য সরবরাহ করবে।
তেহরানের এ ঘোষণা এমন এক সময় এলো, যখন দুদিন আগেই ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য বীমা সেবা চালুর পরিকল্পনার খবর প্রকাশ পায়।
প্রস্তাবিত বীমা ব্যবস্থা কী?
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘হরমুজ সেফ ওয়েবসাইট’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম ইতোমধ্যে প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজের জন্য বীমা সেবা চালু করেছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায়: জাহাজ ও পণ্য পরিবহনের জন্য বিভিন্ন ধরনের বীমা সুবিধা থাকবে; লেনদেন ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে (যেমন বিটকয়েন) সম্পন্ন হতে পারে; এনক্রিপটেড ভেরিফিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এবং কভারেজ নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মালিককে ডিজিটাল রসিদ দেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই উদ্যোগ থেকে ইরান বছরে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করতে পারে।
টোল ও নিরাপত্তা ফি নিয়ে বিতর্ক
ইরানের বিভিন্ন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি বা নিরাপত্তা কর আরোপের ধারণা তুলে ধরছেন। তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও হামলার পর অবকাঠামো মেরামতের ব্যয় মেটাতেই এই উদ্যোগ প্রয়োজন।
এছাড়া, কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতোমধ্যে কিছু জাহাজ থেকে ফি আদায়ও করা হয়েছে বলে ইরান স্বীকার করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
বিশ্বব্যাপী এ ধরনের ফি বা নিয়ন্ত্রণ আরোপের ধারণা সাধারণত প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ সব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত এবং কোনো একক দেশ একতরফাভাবে টোল আরোপ করতে পারে না। চীনও কার্যত মুক্ত নৌচলাচলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বীমা ব্যবস্থা যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
ইরানের পরিকল্পনা কার্যকর হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নযোগ্য হলেও এর কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও জাহাজ মালিকদের অংশগ্রহণের ওপর। যদি আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো এই বীমা গ্রহণ না করে, তাহলে এটি কার্যত সীমিত হয়ে পড়তে পারে। আবার গ্রহণযোগ্যতা পেলে ইরান নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি হাতিয়ার পেতে পারে। একইসঙ্গে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বীমা পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত? এ প্রশ্নের উত্তরে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক জলপথ বা প্রণালীর মধ্য দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর সাধারণভাবে কোনো ধরনের কর বা ফি আরোপ করা যায় না বলে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ (ইউএনসিএলওএস) উল্লেখ করে।
তবে ইরানের প্রস্তাবিত নতুন ‘বীমা ব্যবস্থা’ মূল ধারণাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে। এখানে সরাসরি ‘টোল’ বা ‘শুল্ক’ না বলে নিরাপদ চলাচল ও আর্থিক সুরক্ষাকে একটি বাণিজ্যিক বীমা সেবার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, এটিকে কর হিসেবে না দেখিয়ে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (রিস্ক ম্যানেজমেন্ট) সেবার মতো উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার একটি কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও কৌশলগত চাপ
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো ও ইরান পডকাস্টের উপস্থাপক নেগার মোরতাজাভি বলেন, হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পেছনে ইরানের একটি প্রধান কারণ হলো, ভবিষ্যতে যদি দেশটি আবারও কোনো ‘অবৈধ আক্রমণের’ শিকার হয়, তাহলে এই নিয়ন্ত্রণকে একটি কৌশলগত চাপ হিসেবে ব্যবহার করা।
তিনি আল জাজিরাকে বলেছেন, আইনি দিকগুলো এখনো ইরানের অভ্যন্তরে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে মূল উদ্দেশ্য হলো এটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এটি গ্রহণযোগ্য হয় এবং কোনো ‘রগ স্টেট’ ইমেজ তৈরি না হয়।
ইরান কি সত্যিই আন্তর্জাতিক বীমা দিতে সক্ষম?
লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির মেরিটাইম সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক আবদুল খালিক মনে করেন, এমন একটি বীমা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে গেলে ইরানকে গুরুতর আর্থিক, আইনি ও কার্যগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
তিনি বলেন, সামুদ্রিক বীমা পরিচালনার জন্য বড় ধরনের আর্থিক রিজার্ভ এবং আন্তর্জাতিক রিইনসুরেন্স (পুনর্বীমা) সমর্থন প্রয়োজন হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বৈশ্বিক আর্থিক ও বীমা বাজারে প্রবেশ করতে সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে।
খালিকের মতে, বিশ্বস্ত পুনর্বীমা ছাড়া জাহাজ মালিকরা সন্দেহ করবে যে দুর্ঘটনা, তেল ছড়িয়ে পড়া বা জাহাজ জব্দের ক্ষেত্রে দাবি আদৌ পরিশোধ করা হবে কি না। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বিভিন্ন বন্দর ইরানের ইস্যু করা বীমা সনদ গ্রহণ নাও করতে পারে, ফলে বীমাকৃত জাহাজগুলোর বন্দরে ভিড়তে বা আর্থিক সুবিধা পেতে সমস্যা হতে পারে।
বিটকয়েন ব্যবহারের চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমা লেনদেনে বিটকয়েন বা অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের পরিকল্পনাও ইরানের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। কারণ আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় এ ধরনের লেনদেনের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে এখনো বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবিত বীমা ব্যবস্থা কি কার্যত একটি নতুন টোল?
বিশ্লেষকদের মতে, অনেক শিপিং কোম্পানি ইরানের এই বীমা প্রস্তাবকে বাস্তবে একটি নতুন ধরনের ট্রানজিট চার্জ বা টোল হিসেবেই দেখবে। ব্লুমবার্গের মার্চ মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে আদ-হক (অস্থায়ী) ট্রানজিট ফি আদায় শুরু করেছিল। কিছু ক্ষেত্রে প্রতি যাত্রায় এই ফি ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছায় বলে দাবি করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েও বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। অনেক সরকারই ক্রিপ্টো লেনদেনকে নিষেধাজ্ঞা এড়ানো ও অর্থপাচারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করে দেখে। এছাড়া, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা; এই সবই প্রস্তাবিত ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।
ভূরাজনৈতিক বাধা ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
ইরানের এই উদ্যোগ ভূ-ভৌগোলিক ও সামরিক বাস্তবতার সঙ্গেও সংঘাতে পড়তে পারে। গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দর থেকে আগত বা সেখানে যাওয়া সব জাহাজের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবশ্য এটি এখনও পরিষ্কার নয়, যদি তেহরান নৌ চলাচলে অনুমতি দেয়ও ইরানের বীমা ফি পরিশোধ করা জাহাজগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র আদৌ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে দেবে কি না!
প্রচলিত সামুদ্রিক বীমা বাজারের প্রতিক্রিয়া
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক সামুদ্রিক বীমা কোম্পানিগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওয়ার-রিস্ক প্রিমিয়াম (যুদ্ধঝুঁকি বীমা) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
গত মার্চে দেখা যায়, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজের বীমা খরচ প্রথম দফার মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর কয়েক দিনের মধ্যেই পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এরপর একাধিক বড় বীমা প্রতিষ্ঠান; যেমন গার্ড, স্কালড, নর্থ স্ট্যান্ডার্ড ও আমেরিকান ক্লাব যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের জাহাজগুলোর জন্য যুদ্ধঝুঁকি কভারেজ বাতিলের ঘোষণা দেয়।
পরে কিছু প্রতিষ্ঠান আবার সরকারি সমর্থিত কাঠামোর মাধ্যমে বাজারে ফিরে আসে। যেমন, ‘চাব’ নামে বীমা কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি সামুদ্রিক পুনর্বীমা কর্মসূচিতে যুক্ত হয়, যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক শিপিং পুনরায় সচল করা।
শিপিং কোম্পানির সতর্ক অবস্থান
শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অনেক অপারেটর নিরাপত্তা ঝুঁকি, নৌযানে হামলার আশঙ্কা এবং জাহাজ আটক হওয়ার ভয়ে উপসাগরীয় রুট এড়িয়ে চলছে। তবে, পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ চলাচলের জন্য ইরানকে কোনো ধরনের অর্থ প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এ পর্যন্ত কোনো দেশ বা শিপিং কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের জন্য ইরানের প্রস্তাবিত বীমা ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করবে কি না। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েই চলতি মাসে জানিয়েছে, এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য কোনো দেশই টোল বা ট্রানজিট ফি আরোপ করতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস জানায়, চীন স্পষ্টভাবে হরমুজ প্রণালীর ‘সামরিকীকরণ’ এবং এর ব্যবহারের জন্য কোনো ধরনের টোল আরোপের বিরোধিতা করেছে। বেইজিংও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেনি।
জাতিসংঘের অবস্থান
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দ্রুত এই জলপথ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এখানে কোনো ধরনের টোল আরোপ বা বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত নয়।
সীমিত গ্রহণযোগ্যতার সম্ভাবনা
লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আবদুল খালিকের মতে, ইরানের এই বীমা পরিকল্পনার গ্রহণযোগ্যতা যদি থেকেও থাকে, তা হবে খুব সীমিত এবং নির্বাচিত কিছু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
তিনি বলেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যেসব দেশ আগে থেকেই সতর্ক; যেমন চীন বা কিছু ছোট বাণিজ্যনির্ভর রাষ্ট্র। তারা যদি খরচ কমাতে পারে বা হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পারে, তবে ইরানের বীমা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
অধিকাংশ দেশ ও প্রতিষ্ঠানের অনাগ্রহ
তবে অধিকাংশ সামুদ্রিক শক্তি ও শিপিং কোম্পানি এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। অধ্যাপক খালিকের মতে, বীমা ব্যবস্থার ভিত্তি হলো বিশ্বাসযোগ্যতা, আইনগত কার্যকারিতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ বন্দর, ব্যাংক এবং জাহাজ মালিকরা বর্তমানে লন্ডন, ইউরোপ বা এশিয়ার প্রতিষ্ঠিত বীমা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। ফলে এই নতুন পরিকল্পনা মূলত সীমিত কিছু রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ বা নির্দিষ্ট দেশের অংশগ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
What's Your Reaction?