হরমুজে আটকা ২ ট্যাংকার, বিকল্প পথে চট্টগ্রামে এলপিজি জাহাজ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই সংকটের ফলে বাংলাদেশগামী দুটি বিশাল জ্বালানিবাহী ট্যাংকার এখনো পারস্য উপসাগরে আটকে আছে। তবে এর মধ্যেই বিকল্প পথ ব্যবহার করে ওমান উপসাগর থেকে এলপিজিবাহী একটি জাহাজ সফলভাবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পৌঁছেছে।
শিপিং এজেন্টদের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা ও পরবর্তী পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকবলিত এলাকা থেকে এটিই বাংলাদেশে পৌঁছানো প্রথম এলপিজি চালান।
ওমানের দুকম বন্দর থেকে ৩ হাজার ৮০০ টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে দেশে এসেছে ‘এমটি বিডব্লিউইকে বোর্নহোম’ নামের একটি ছোট আকারের ট্যাংকার। স্মার্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএম এনার্জি (বিডি) লিমিটেড এই চালানের আমদানিকারক। জাহাজটি শ্রীলঙ্কায় আংশিক পণ্য খালাস করে সীতাকুণ্ডে বাকি এলপিজি নামিয়ে গত শুক্রবার ফিরে গেছে।
বিএম এনার্জির নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন মইনুল আহসান জানান, আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এই চালান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই সংকটের ফলে বাংলাদেশগামী দুটি বিশাল জ্বালানিবাহী ট্যাংকার এখনো পারস্য উপসাগরে আটকে আছে। তবে এর মধ্যেই বিকল্প পথ ব্যবহার করে ওমান উপসাগর থেকে এলপিজিবাহী একটি জাহাজ সফলভাবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পৌঁছেছে।
শিপিং এজেন্টদের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা ও পরবর্তী পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকবলিত এলাকা থেকে এটিই বাংলাদেশে পৌঁছানো প্রথম এলপিজি চালান।
ওমানের দুকম বন্দর থেকে ৩ হাজার ৮০০ টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে দেশে এসেছে ‘এমটি বিডব্লিউইকে বোর্নহোম’ নামের একটি ছোট আকারের ট্যাংকার। স্মার্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএম এনার্জি (বিডি) লিমিটেড এই চালানের আমদানিকারক। জাহাজটি শ্রীলঙ্কায় আংশিক পণ্য খালাস করে সীতাকুণ্ডে বাকি এলপিজি নামিয়ে গত শুক্রবার ফিরে গেছে।
বিএম এনার্জির নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন মইনুল আহসান জানান, আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এই চালানটি দেশে আনা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় শিপিং এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং বিকল্প রুট ব্যবহার করে নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছায়।
অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা দুটি বড় জ্বালানিবাহী ট্যাংকার এখনও বাংলাদেশে আসতে পারেনি। এর একটি ‘এমটি লিব্রেথা’, যা কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে যাত্রার অপেক্ষায় রয়েছে। অপরটি ‘এমটি নরডিক পলুকস’, যা সৌদি আরবের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্যমতে, ট্যাংকার দুটি এখনও সংশ্লিষ্ট বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি না পাওয়ায় এগোতে পারছে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করলে পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যায়। ইন্টারন্যাশনাল বার্গেনিং ফোরাম (আইবিএফ) এই রুটকে ‘যুদ্ধাঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এছাড়া ইরানের অনুমতি ছাড়া এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল সম্ভব নয়। তাছাড়া যুদ্ধ ঝুঁকির কারণে বিমা কোম্পানিগুলো যুদ্ধ প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দেওয়ায় পরিবহন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিকভাবে তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরানের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। গত ২৫ মার্চ জাহাজগুলোর বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আটকে থাকা ট্যাংকার দুটি যাত্রা শুরু করতে পারেনি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশ, এলএনজির ৬৫ শতাংশ এবং এলপিজির ৫১ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হয়েছে। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপে পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে বাংলাদেশে জ্বালানি পৌঁছাতে আরও বিলম্ব হতে পারে। এতে এলপিজিসহ সার্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।