হরমুজে প্রভাব ধরে রেখে শক্ত অবস্থানে ইরান

প্রায় ছয় সপ্তাহের টানা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে আপাতত যুদ্ধবিরতি এলেও, বাস্তবতা হলো—মধ্যপ্রাচ্যে শক্ত অবস্থান ধরে রেখে নতুন কৌশলগত প্রভাব তৈরি করেছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের ফলে ইরান দুর্বল হলেও তার প্রভাব ও দরকষাকষির ক্ষমতা আগের চেয়ে বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধবিরতিকে ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবে এই সংঘাত আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে Strait of Hormuz–এর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের আগে এটি আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন কার্যত এই রুটে কে চলবে, কীভাবে চলবে—তা নির্ধারণে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এমনকি নিরাপদ যাতায়াতের জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনাও করছে তেহরান। বিশ্লেষক ফাওয়াজ গের্গেস বলেন, “এই যুদ্ধ ট্রাম্পের বড় কৌশলগত ভুল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, যা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পুরো অঞ্চলের চিত্র পাল্টে দিয়েছে।” যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের

হরমুজে প্রভাব ধরে রেখে শক্ত অবস্থানে ইরান

প্রায় ছয় সপ্তাহের টানা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে আপাতত যুদ্ধবিরতি এলেও, বাস্তবতা হলো—মধ্যপ্রাচ্যে শক্ত অবস্থান ধরে রেখে নতুন কৌশলগত প্রভাব তৈরি করেছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের ফলে ইরান দুর্বল হলেও তার প্রভাব ও দরকষাকষির ক্ষমতা আগের চেয়ে বেড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধবিরতিকে ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবে এই সংঘাত আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে Strait of Hormuz–এর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের আগে এটি আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন কার্যত এই রুটে কে চলবে, কীভাবে চলবে—তা নির্ধারণে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এমনকি নিরাপদ যাতায়াতের জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনাও করছে তেহরান।

বিশ্লেষক ফাওয়াজ গের্গেস বলেন, “এই যুদ্ধ ট্রাম্পের বড় কৌশলগত ভুল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, যা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পুরো অঞ্চলের চিত্র পাল্টে দিয়েছে।”

যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলায় ইরানের অবকাঠামো ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির শাসনব্যবস্থা টিকে আছে এবং সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ অক্ষুণ্ন রয়েছে। পাশাপাশি লেবানন, ইরাক ও লোহিত সাগর অঞ্চলে তাদের প্রভাব বজায় রয়েছে।

এদিকে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের কার্যক্রম এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

গালফ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য Strait of Hormuz একটি ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব স্থায়ী হয়, তবে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

যুদ্ধবিরতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শর্তগুলো নিয়ে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। ইরান তাদের শর্ত হিসেবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারমাণবিক কর্মসূচির স্বীকৃতি, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের ফলে ইরানকে দুর্বল করার লক্ষ্য পূরণ না হয়ে বরং একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—যেখানে তেহরান আরও প্রভাবশালী এবং দরকষাকষিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow