হলুদ পাতার গালিচায় বসন্তের আলপনা, মায়াবী সাজে রাবি ক্যাম্পাস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস যেন এখন এক শিল্পীর ক্যানভাস। চারদিকে হলুদ শুকনো পাতার আস্তরণ মাটির বুকে নরম চাদরের মতো বিছিয়ে আছে। প্রকৃতিতে বইছে বসন্তের মৃদু বাতাস। তাই মনে হচ্ছে নবপল্লবের ছোঁয়ায় প্রকৃতিতে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। বাতাসে গাছের ডাল দুলে উঠলেই টুপটাপ করে ঝরে পড়ছে পাতা, আর তাতে তৈরি হচ্ছে এক অন্যরকম সুরেলা পরিবেশ। শীতের সব জড়তা ঝেঁটিয়ে বিদায় নিয়ে চারদিকে এখন প্রাণের উচ্ছ্বাস—এ যেন বসন্তে রঙিন হয়ে ওঠা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। গাছেরা আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠেছে নবজীবনের স্পর্শে। পুরোনো পাতা ঝরে পড়ে গাছের ন্যাড়া মাথায় গজিয়েছে ঘন সবুজ কচি পাতা। সেই কচি পাতার স্নিগ্ধ ছায়ায় ক্যাম্পাসের পথগুলো যেন হয়ে উঠেছে আরও প্রাণবন্ত, আরও আপন। প্যারিস রোডের দুই পাশে সারি সারি গাছ নতুন পাতায় সেজে তুলেছে সবুজের ছাতা। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে টুকিটাকি চত্বর, সবখানেই বসন্তের ছোঁয়া। গাছে গাছে ফুটে উঠছে রঙিন ফুল, লাল, হলুদ, বেগুনি আর সাদা রঙে ছড়িয়ে পড়ছে অপার সৌন্দর্য। হালকা রোদে বন্ধুরা আড্ডায় মেতে উঠছে, কেউবা বসন্তের আবেশে গান গেয়ে উঠছে। চারপাশে পাখির কলতান, কোকিলের সুমধুর “কু

হলুদ পাতার গালিচায় বসন্তের আলপনা, মায়াবী সাজে রাবি ক্যাম্পাস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস যেন এখন এক শিল্পীর ক্যানভাস। চারদিকে হলুদ শুকনো পাতার আস্তরণ মাটির বুকে নরম চাদরের মতো বিছিয়ে আছে। প্রকৃতিতে বইছে বসন্তের মৃদু বাতাস। তাই মনে হচ্ছে নবপল্লবের ছোঁয়ায় প্রকৃতিতে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। বাতাসে গাছের ডাল দুলে উঠলেই টুপটাপ করে ঝরে পড়ছে পাতা, আর তাতে তৈরি হচ্ছে এক অন্যরকম সুরেলা পরিবেশ।

শীতের সব জড়তা ঝেঁটিয়ে বিদায় নিয়ে চারদিকে এখন প্রাণের উচ্ছ্বাস—এ যেন বসন্তে রঙিন হয়ে ওঠা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। গাছেরা আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠেছে নবজীবনের স্পর্শে। পুরোনো পাতা ঝরে পড়ে গাছের ন্যাড়া মাথায় গজিয়েছে ঘন সবুজ কচি পাতা। সেই কচি পাতার স্নিগ্ধ ছায়ায় ক্যাম্পাসের পথগুলো যেন হয়ে উঠেছে আরও প্রাণবন্ত, আরও আপন।

প্যারিস রোডের দুই পাশে সারি সারি গাছ নতুন পাতায় সেজে তুলেছে সবুজের ছাতা। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে টুকিটাকি চত্বর, সবখানেই বসন্তের ছোঁয়া। গাছে গাছে ফুটে উঠছে রঙিন ফুল, লাল, হলুদ, বেগুনি আর সাদা রঙে ছড়িয়ে পড়ছে অপার সৌন্দর্য।

হালকা রোদে বন্ধুরা আড্ডায় মেতে উঠছে, কেউবা বসন্তের আবেশে গান গেয়ে উঠছে। চারপাশে পাখির কলতান, কোকিলের সুমধুর “কুহু কুহু” ডাক যেন জানিয়ে দিচ্ছে নতুনের আগমন ঘটেছে। মৃদু বাতাসে ফুলের সুবাস ভেসে এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের মন। মনে হয়, পুরো ক্যাম্পাসটাই যেন নববধূর মতো সেজেছে। রঙিন, স্নিগ্ধ আর আনন্দে ভরা। এমন বসন্তে রাবি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, হয়ে ওঠে এক টুকরো স্বপ্নভূমি। 

সকালের রোদে ক্যাম্পাসের সড়কগুলো হয়ে উঠেছে সোনালি। হাঁটতে হাঁটতে শিক্ষার্থীরা থেমে ছবি তুলছে, কেউ বসে আছে পাতার ওপর, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠেছে। ক্লাসের ফাঁকে এই হলুদ রঙের উৎসব যেন ক্লান্ত মনকে নতুন করে প্রাণ জোগাচ্ছে। ঋতুরাজের আগমনে চিরচেনা প্রকৃতি পেয়েছে নতুন রূপ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ভবনের সামনের পথগুলোতেও একই দৃশ্য। বড় বড় গাছের নিচে জমে থাকা পাতার স্তূপে মাঝে মাঝে দৌড়ে যায় একঝাঁক পাখি। বাতাসে ভেসে আসে শুকনো পাতার মচমচ শব্দ—যেন প্রকৃতি নিজেই জানাচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের বার্তা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তনিমা বলেন, বসন্ত এলে ক্যাম্পাসে এক বিশেষ আবহ তৈরি হয়। পরীক্ষার চাপ, ক্লাসের ব্যস্ততা সবকিছুর মাঝেও এই হলুদ পাতার সৌন্দর্য মনকে প্রশান্ত করে। এমন দৃশ্য শহরের কোলাহলে পাওয়া যায় না; বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই মুহূর্তগুলো তাই আরও বেশি মূল্যবান মনে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এগ্রোনোমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, বাংলাদেশ ভারতীয় উপমহাদেশ ট্রপিক ও সাব-ট্রপিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এখানে বৃক্ষরাজির ব্যাপক বৈচিত্র্য দেখা যায়। কিছু গাছ সারা বছর সবুজ থাকে, যাদের পাতা সাধারণত ঝরে না, এগুলোকে চিরহরিৎ গাছ বলা হয়। যেমন বট গাছ, বিভিন্ন প্রজাতির পাম এবং আম গাছ। আবার কিছু গাছ রয়েছে, যেগুলোর পাতা নির্দিষ্ট ঋতুতে ঝরে যায় এবং পরে নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে নতুন পাতা জন্মায় সেগুলোকে পর্ণমোচী গাছ বলা হয়।

তিনি আরও বলেন, পর্ণমোচী গাছের পাতা ঝরার পেছনে জলবায়ুগত কারণ গুরুত্বপূর্ণ। শীতের শেষে বা বসন্তকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমে গিয়ে আপেক্ষিক আর্দ্রতা প্রায় ৫০ শতাংশ বা তার নিচে নেমে আসে। এ সময় গাছের প্রধান পানি নির্গমনের অঙ্গ-পাতা-প্রস্বেদনের মাধ্যমে শিকড় থেকে পানি টেনে উপরে তোলে। কিন্তু শুষ্ক পরিবেশে পানি সংরক্ষণের জন্য পর্ণমোচী গাছগুলো নিজেদের অভিযোজিত করতে পাতা ঝরিয়ে দেয়। এতে পানির অপচয় কমে এবং গাছ প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে পারে।'

ড. মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, পাতা ঝরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঝরে পড়া পাতা মাটিতে পচে জৈব সার তৈরি করে এবং সেই পুষ্টি উপাদান আবার গাছ শোষণ করে নেয়, এটি একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক চক্র। তবে আমরা অনেক সময় গাছের নিচের পাতা ঝাড়ু দিয়ে সরিয়ে ফেলি, যা পুরোপুরি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার অনুকূলে নয়। তবুও ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার স্বার্থে প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ও সন্ধ্যায় ঝাড়ুদাররা নিয়মিত এসব পাতা পরিষ্কার করেন।

প্রকৃতির এই রূপ শুধু চোখ জুড়ায় না, মনে করিয়ে দেয় সময়ের গতিপথও। পাতা ঝরে যায়, আবার নতুন কুঁড়ি আসে। ঠিক তেমনি প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয় ক্যাম্পাস, আর স্মৃতির পাতায় জমে থাকে বসন্তের এই হলুদ দিনগুলো। বসন্তের ছোঁয়ায় ঝরতে থাকা পাতার মতোই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আজ শান্ত, স্নিগ্ধ ও সৌন্দর্যে ভরপুর-এক টুকরো হলুদ স্বপ্নের মতো। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow